সিরাজগঞ্জ শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ
নির্মাণ ‘ত্রুটি’র কারণে ক্যান্টিন ভবনে ফাটল
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ নভেম্বর ২০২৫ | ০৭:০৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
সিরাজগঞ্জে শহীদ এম. মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের ক্যান্টিন ভবনের দেয়ালে বহুদিন ধরেই ফাটল রয়েছে। বারবার মেরামত করলেও সেটি ঠিক হয়নি। সম্প্রতি ভূমিকম্পের পর ফাটল আরও বড় হয়েছে। এতে আতঙ্ক বিরাজ করছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।
গণপূর্ত বিভাগ দুইবার সিমেন্ট-বালু দিয়ে মেরামত করলেও কিছুদিনের মধ্যে আবার আগের মতো ফাটল দেখা যায়।
ক্যান্টিন ম্যানেজার রহমত আলী বলেন, দু’বছর ধরে ফাটল আছে। ভূমিকম্পের পর আরও বেড়েছে।
মেডিকেল কলেজটি ২০১৪ সালে কাজ শুরু করে। ২০১৫-২০২২ সালের মধ্যে শিয়ালকোল এলাকায় স্থায়ী ভবন নির্মাণ করা হয়। প্রায় ৮৮২ কোটি টাকার এ প্রকল্পে ক্যান্টিনসহ একাডেমিক ভবন নির্মাণ করে ‘মুক্তা কনস্ট্রাকশন’, যার মালিক সাবেক মেয়র সৈয়দ আব্দুর রউফ। অভিযোগ আছে, নির্মাণে ত্রুটি থাকার কারণেই ভবন হস্তান্তরের দুই বছরের মাথায় ক্যান্টিনে ফাটল দেখা দেয়।
এ ছাড়া পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ আছে সাবেক প্রকল্প পরিচালক (পিডি) ডা. কৃষ্ণ কুমার পালের বিরুদ্ধে। প্রায় আড়াইশ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি কেনা হলেও জনবল সংকটের কারণে পাঁচ বছরেও আইসিইউ চালু হয়নি। অনেক দামি সরঞ্জাম অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। হাসপাতালের নিচতলায় কোটি টাকার আসবাব ব্যবহার না হওয়ায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
সরঞ্জাম কেনাকাটাসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে দুদক তাঁকে অভিযুক্ত করে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও মামলা করেছে। এগুলোর কোনোটি এখনও নিষ্পত্তি হয়নি।
অধ্যক্ষ ডা. কামরুল হাসান পারভেজ বলেন, ২০১৯ সালে ভবন হস্তান্তর হয়। দু’বছর পর ফাটল দেখা দেয়। বিষয়টি গণপূর্তকে জানিয়েছি। পরিচালক ডা. এটিএম নুরুজ্জামান বলছেন ক্যান্টিন ছাড়াও ভবনের আরও কিছু জায়গায় সমস্যা আছে। গণপূর্ত দেখে গেছে। গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘ফাটল নতুন নয়। মাটির ধসের কারণে বাড়তে পারে। স্থায়ী মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
সাবেক পিডি ডা. কৃষ্ণ কুমার পাল বলেন, হস্তান্তরের দু’বছর পর ফাটল দেখা দেয়। ঠিকাদার রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী হওয়ায় গণপূর্ত কিছু বলেনি। ঠিকাদার সৈয়দ আব্দুর রউফ রাজনৈতিক মামলায় লুকিয়ে থাকায় তাঁর মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
- বিষয় :
- ভবন ধস
