তানোর
কূপ খননকারী কছির পলাতক, কঠোর শাস্তি চান স্বজনরা
নিয়ম ভেঙে একাধিক গর্ত খোঁড়ান জামায়াত নেতার ভাই, ফেলে রাখেন উন্মুক্ত
রাজশাহীর তানোরে পরিত্যক্ত গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে প্রাণ গেছে দুই বছরের সন্তান সাজিদের। তাকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন মা রুনা খাতুন। সান্ত্বনা দিচ্ছেন স্বজনরা। গতকাল শুক্রবার সকালে কোয়েলহাট গ্রামে সমকাল
রাজশাহী ব্যুরো ও তানোর সংবাদদাতা
প্রকাশ: ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৮:১৬ | আপডেট: ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১০:২৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
হাজারো মানুষ অশ্রুসিক্ত চোখে চিরবিদায় জানিয়েছেন দুই বছরের সাজিদকে। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজশাহীর তানোরের কোয়েলহাট গ্রামে সাজিদের জানাজা হয়। এতে হাজারো মানুষ অংশ নেন। এরপর গ্রামের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এর আগে জানাজায় অংশ নিয়ে মৃত সাজিদের বাবা রাকিবুল হোসেন গর্ত খননকারী কছির উদ্দীনের কঠোর শাস্তি দাবি করেন। প্রবাসফেরত কছিরের ভাই আব্দুল করিম ইউনিয়ন জামায়াতের রোকন। নিয়ম ভেঙে এসব জমিতে গভীর নলকূপের জন্য একাধিক গর্ত খুঁড়েছিলেন কছির। জামায়াত সমর্থক রাকিবুল হোসেনের বাড়ির পাশের জমিতে এসব গর্ত করে তিনি ফেলে রাখেন অরক্ষিতভাবে।
তাঁর শাস্তি চেয়ে রাকিবুল বলেন, শুধু একটা গর্ত নয়, সেখানে এমন আরও দুটি গর্ত রয়েছে। তিনি গর্ত খনন করেছেন, কিন্তু ভরাট করেননি। এটা অবহেলা। গর্তটা ভরাট করা থাকলে এমন হতো না। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলেটা যদি ১০ থেকে ১৫ ফুট নিচেও থাকত, তাহলে হয়তো বাঁচানো যেত। কিন্তু সে ৪৫ ফুট নিচে এই শীতের ঠান্ডায় ৩২ ঘণ্টা পড়ে ছিল। তার অবহেলার কারণে আমার কলিজার টুকরা আজ চলে গেল।’ তিনি বলেন, ‘আর কোনো বাবা-মায়ের বুক যেন এভাবে খালি না হয়। আমি বিচার চাই– যেন দেশের আর কোনো পরিবার এভাবে সন্তান না হারায়। ঘটনায় জড়িতদের কঠোর শাস্তি চাই।’ এ ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি।
একনজর দেখতে হাজারো মানুষের ভিড়
গতকাল সকালে সাজিদকে একনজর দেখতে হাজারো মানুষ ভিড় করেন কোয়েল গ্রামে। প্রিয় সন্তানকে হারিয়ে শোকে বিহ্বল মা রুনা খাতুন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা কান্নার পর তিনি ক্লান্ত। নাওয়া-খাওয়া বন্ধ রেখেছেন। চারপাশে শোকাহত আত্মীয়রা একজন আরেকজনকে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন।
জানাজাস্থলের পাশে বাড়ির উঠানে ভাঙা গলায় রুনা খাতুন জানান, কছির দুই বছর আগে তাঁর বাড়ির পাশেই তিনটি গর্ত খনন করেন। সেখানে পানি পাননি। তারপর তা বন্ধ না করে ফেলে রাখেন। তাঁর অবহেলার কারণেই সাজিদের মৃত্যু হয়েছে। তিনি এ ঘটনায় বিচার দাবি করেন।
সাজিদের বাবা রাকিবুল গাজীপুরে একটি গুদামে কাজ করেন। স্ত্রী-সন্তান বাড়িতে থাকলেও তিনি সেখানে থাকেন।
পাঁচন্দর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির জুয়েল রানা বলেন, ‘কছির উদ্দিন একজন প্রবাসী। তাঁর ভাই আব্দুল করিম জামায়াতের রোকন। তিনি সেখানে গর্ত খুঁড়ে পানি না পেয়ে অন্যত্র গভীর নলকূপ স্থাপন করেছেন। গর্তটাও ভরাট করেছিলেন। কিন্তু বর্ষায় মাটি সরে গেছে। সেখানে দুই বছরের বাচ্চা যাওয়ার কথা নয়। তারপরও যাওয়ার কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে।’
তানোর থানার ওসি শাহীনুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় এখনও কোনো অভিযোগ কেউ করেনি। পুলিশ নিজ উদ্যোগে মামলা করবে না। থানায় শুধু একটা ইউডি মামলা হয়েছে। পুলিশ কছির উদ্দীনকে খুঁজছে। তিনি পলাতক।
তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাঈমা খান বলেন, পুলিশ বা ভুক্তভোগীর পরিবার চাইলে মামলা করতে পারে। ইউএনও কিছু করতে পারেন না।
- বিষয় :
- শিশুর মৃত্যু
- তানোর
