ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বাঁধের কাজে পিআইসি গঠন নিয়ে এবারও তৎপর মধ্যস্বত্বভোগীরা

সুনামগঞ্জের হাওরে ১৩৮ কোটি টাকার ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ

বাঁধের কাজে পিআইসি গঠন নিয়ে এবারও তৎপর মধ্যস্বত্বভোগীরা
×

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কালনার হাওরসংলগ্ন বাঁধে শুরু হয়েছে মাটি ফেলানোর কাজ। ছবিটি সোমবার তোলা সমকাল

পঙ্কজ দে, সুনামগঞ্জ

প্রকাশ: ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৭:৩৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

সুনামগঞ্জের প্রায় চার হাজার কোটি টাকার বোরো ফসল রক্ষার জন্য প্রতি বছরই অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করতে শতকোটি টাকা ব্যয় করে সরকার। এই টাকায় ভাগ বসানোর জন্য মৌসুমে মরিয়া হয়ে ওঠেন কিছু অসৎ জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা-কর্মীসহ পানি উন্নয়ন বোর্ড সংশ্লিষ্ট সরকারি একশ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি।

জানা গেছে, এরইমধ্যে মধ্যস্বত্বভোগীরা তৎপর হয়ে উঠেছেন। তারা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠনেও উৎকোচ গ্রহণ করেন বলে প্রতি বছরই কথা ওঠে। এ বছরও এই অপচেষ্টা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অনেকেই। অবশ্য উপজেলা হাওর রক্ষা বাঁধ বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির সভাপতিগণ বলেছেন, সামনে নির্বাচন, কারও অনুরোধে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি করা যাবে না।

সুনামগঞ্জের ৯৫টি হাওরে ৫৭৩ কিলোমিটার বাঁধে সংস্কার ও মেরামত কাজ করতে ৬৭৩টি প্রকল্প বুধবার অনুমোদন হয়েছে। ১৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) এই কাজ করবে। নির্দেশনা অনুযায়ী ১৫ ডিসেম্বর সোমবার প্রত্যেক উপজেলায় একটি প্রকল্পে কাজও শুরু হয়েছে। বুধবার পর্যন্ত ৬৭৩টি প্রকল্পে কাজ করানোর জন্য প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠনের কাজই শেষ হয়নি।

তাহিরপুর উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি ফেরদৌস আহমদ বললেন, শুনেছি গেল বছরে রাজনৈতিক বিবেচনায় করা পিআইসি এ বছরও বহাল রাখতে চান কিছু রাজনৈতিক নেতা। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির দায়িত্বশীলরা এই উদ্যোগকে এ বছর চ্যালেঞ্জ মনে করছেন। সামনে নির্বাচন, এভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি করলে বিতর্কিত হতে পারেন বলে মনে করছেন দায়িত্বশীলদের কেউ কেউ।
জেলার শাল্লা উপজেলার শাল্লা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুস ছাত্তার বললেন, কিছু অসৎ রাজনৈতিক কর্মী আছে, যারা হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের কাজের সময় তৎপর হয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের আশপাশে ঘুর ঘুর করে। এবারও এই মধ্যস্বত্বভোগীদের তৎপরতা আছে।

জেলা জামায়াতের আমির তোফায়েল আহমদ খান বললেন, পিআইসি গঠনে আগেকার সময়ের মতোই রাজনৈতিক নেতাদের পছন্দের লোকদের দিয়ে তালিকা করানোর চেষ্টার কথা শোনা যাচ্ছে। এটি হওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। যাদের দিয়ে কাজ আদায় হবে; নীতিমালার আলোকে তাদের বাঁধের কাজে যুক্ত করা উচিত। তাতে কৃষকদের ক্ষতিগ্রস্ত হবার ঝুঁকি কম থাকবে।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য অ্যাডভোকেট শেরেনুর আলী বলেন, ‘আমাদের দলের দায়িত্বশীল কেউ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিতে নাম ঢোকানোর জন্য তদবির করেন না, করবেনও না। নীতিমালা অনুযায়ী পিআইসি গঠন করে কঠোর মনিটরিংয়ের মাধ্যমে বাঁধের কাজ সম্পন্ন করা হোক চাই আমরা।’
মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির সভাপতি উজ্জ্বল রায় বলেন, গেল বছরের ৩৪টি প্রকল্পকে ভেঙে ৩৭টি করা হয়েছে। আরেকটি নতুন প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন পেলে এই প্রকল্পটিও গ্রহণ করা হবে। 
জানা গেছে, এরইমধ্যে ২৩টি পিআইসি গঠনের কাজ প্রায় শেষ। জেলা প্রশাসক বৃহস্পতিবারের মধ্যে পিআইসি গঠনের কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন। কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে গেল বছর যারা ভালো করেছে, তাদের রাখার চেষ্টা হচ্ছে। আগের কাজগুলোতে যারা ভালো করেনি তাদের বাদ দিয়ে নতুন কমিটি করা হবে।
একই ধরনের মন্তব্য করলেন জেলার তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান মানিক ও শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাস। তারাও জানিয়েছেন, পূর্বের রেকর্ড দেখেই সদস্য বাছাই করা হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, বুধবার পর্যন্ত তিনি কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির তালিকা পাননি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের হাতে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির কিছু তালিকা রয়েছে বলে দাবি করলেন এই প্রকৌশলী।

আরও পড়ুন

×