মসজিদে আট ইসলামী দলের সমালোচনা, হট্টগোল
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন আট ইসলামী দলের সমালোচনা করে গতকাল জুমার নামাজের আগে ইমাম বক্তৃতা দেওয়ায় নারায়ণগঞ্জ নগরীর ডিআইটি মসজিদে হট্টগোল হয় সমকাল
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৭:৫৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন আট ইসলামী দলের সমালোচনা করে বক্তৃতা দেওয়ায় নারায়ণগঞ্জ নগরীর ডিআইটি মসজিদে হট্টগোল হয়েছে। পরে মুসল্লিরা ওই দলগুলোর কর্মী-সমর্থকদের মসজিদ থেকে বের করে দেন। গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের আগে ইমামের বক্তব্যের সময় এ ঘটনা ঘটে।
ডিআইটি মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুল আউয়াল হেফাজতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির। গতকাল খুতবার আগে তিনি তাঁর বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীসহ ইসলামী আট দলের সমালোচনা করে বলেন, ‘আট দল মিলিয়ে আপানার ইসলামী হুকুমত কায়েম করে ফেলবেন? সেক্যুলারদের সাথে যোগসাজশ কইরা কোনোদিন ইসলাম কায়েম সম্ভব হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ওসমান হাদিকে রাজনৈতিক কারণে হত্যা করা হয়েছে। একটি দেশের গোয়েন্দা সংস্থার নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আগামী দিনে তারা এই দেশে বন্দুক নিয়া আসবে। আলেম ওলামা যারা এ দেশকে ইসলামী বানাইতে চায় তাদের বন্দুকের আওতায় নিয়া আসবে।’
এ সময় কয়েকজন চরমোনাই ও জামায়াত সমর্থক এর প্রতিবাদ করার চেষ্টা করলে ইমাম আউয়ালের অনুসারীদের সঙ্গে তাদের মসজিদের ভেতরেই হট্টগোল বেধে যায়। পরে ওই কর্মী-সমর্থকদের মসজিদ থেকে বের করে দেওয়া হয়।
ওই আট দলের উদ্দেশে মাওলনা আব্দুল আউয়াল বলেন, ‘আট দল মিলিয়ে আপানার ইসলামী হুকুমত কায়েম করে ফেলবেন? আপনারা বিএনপির কাছে দৌড়াইছেন কেন? লন্ডনে কেন গেছেন আপনারা? অনেকে মনে করছেন ইসলাম কায়েম করেই ফেলেছি আমরা। এটা আলাদ্দিনের চেরাগ! চেষ্টাটা কীভাবে করছেন? ব্যাংক ঠিক রাইখা, সুদ ঠিক রাইখা, জুয়া ঠিক রাইখা, মহিলাদের বেপর্দা রাইখা? সত্যিকার ইসলাম চাই, মদিনার ইসলাম চাই। এভাবে যোগসাজশ করে আল্লাহর নবী (সা.) কোনোদিন ইসলাম কায়েম করেননি। তিনশ জনের মধ্যে ভাগাভাগি করতে যাইয়া একশ অমুক দলকে দিবো, আপনারা মানবেন না– এই টানাহ্যাঁচড়ার অর্থটা কী? সেক্যুলারদের সাথে যোগসাজশ কইরা কোনোদিন ইসলাম কায়েম সম্ভব হবে না। ইসলাম কায়েম করতে চাইলে পুরাপুরি করেন। তাহলে এ দেশের নব্বইভাগ মানুষ আপনাকে সমর্থন করবে। অনেকে বলেন– না, এইটা দেখছি, ঐটা দেখছি, এখন এটাকে দেখতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ব্যাংক চলবে, সুদ চলবে, জেনা চলবে, বাউল চলবে– তাহলে তারা সহযোগিতা করবে না। যত অশ্লীলতা আছে, তাহলে তারা সহযোগিতা করবে। আর এগুলোতে চোখ দিলে চোখ উঠিয়ে ফেলবে।’ তাঁর এই বক্তব্য তাঁর ফেসবুক পেজেও পোস্ট করা রয়েছে।
নামাজে উপস্থিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মুসল্লিরা জানান, তাঁর বক্তব্যের এক পর্যায়ে চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জামায়াতের তিন-চারজন সমর্থক এর প্রতিবাদ করলে মসজিদের ভেতরে হট্টগোল দেখা হয়। পরে তাদের মসজিদ থেকে বের করে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে জানতে গতকাল রাতে ডিআইটি মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুল আউয়ালকে ফোন দিলে তিনি রিসিভ করেননি।
এ ব্যাপারে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ মহানগর শাখার সভাপতি মুফতি মাসুম বিল্লাহ জানান, ‘মাওলানা আউয়াল প্রায়ই মসজিদে ভেতরে বিভিন্ন ধরনের উল্টাপাল্টা বক্তব্য দেন। আজকে আমাদের একজন কর্মী মমিন মিয়া এর প্রতিবাদ করেছেন। আমরা মসজিদ কমিটির সভাপতি হাজী নুরুদ্দিন সাহেবকে বলেছি, খতিব সাহেব যেন মসজিদে রাজনৈতিক বক্তব্য না দেন।’
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে জামায়াতের ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ও দলটির কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরার সদস্য মাওলানা মাঈনুদ্দিন আহমাদ বলেন, ‘আমি বিষয়টি সম্পর্কে জানি না। তার বক্তব্য শুনিনি। শুনে মন্তব্য করব।’
মসজিদ কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নুরুদ্দিনের মোবাইল ফোনে কল করলে তার দুটি ফোনই বন্ধ পাওয়া যায়।
- বিষয় :
- ইসলামি দল
