ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বুড়ি তিস্তা সেচ প্রকল্প ঘিরে উত্তেজনা

বুড়ি তিস্তা সেচ প্রকল্প ঘিরে উত্তেজনা
×

নীলফামারীতে কৃষকদের বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদে মশাল মিছিল। ছবি: সমকাল

নীলফামারী প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৯:২৫

নীলফামারীর বুড়ি তিস্তা সেচ প্রকল্পের জলাধার খনন নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে স্থানীয় জনপদ। গত ৩১ ডিসেম্বর ও ১ জানুয়ারি আনসার ক্যাম্পে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে প্রায় ৭০০ কৃষকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

এর প্রতিবাদে ও মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে গত শনিবার রাতে মশাল মিছিল করেছেন বিক্ষুব্ধ কৃষকরা। তারা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁসিয়ারি দিয়েছেন। এ নিয়ে বর্তমানে প্রকল্প এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের দাবি, সরকারের উন্নয়নমূলক কাজে বাধা দিয়ে অবৈধ দখলকারীরা দুই দফায় পরিকল্পিত হামলা চালিয়েছে। হামলায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের যন্ত্রপাতি ও সংরক্ষিত আনসার ক্যাম্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ নিয়ে জলঢাকা থানায় করা দুটি মামলা হয়েছে। এতে ৪১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৬৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, স্থানীয় কৃষকদের দাবি ভিন্ন। তাদের অভিযোগ, এটি কৃষকদের পৈতৃক সম্পত্তি। এ সম্পত্তি থেকে তাদের উচ্ছেদে এক গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। এ ষড়যন্ত্র কিছুতে্ফ ইল হতে দেবেন না বলছেন তাঁরা।

‘জনগোষ্ঠী’ সংগঠনের মুখপাত্র আব্দুল আলিম সমকাল প্রতিবেদককে জানান, তিন ফসলি জমিতে উঁচু বাঁধ দিয়ে জলাধার খননের চেষ্টা করা হচ্ছে। যার ফলে কৃষকরা তাদের জমিতে চাষাবাদ করতে পারছেন না। জমি ছাড়ার জন্য কৃষকদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে এবং প্রতিবাদ করায় সাজানো মামলায় তাদের ফাঁসানো হয়েছে।

এদিকে জমির মালিকানা ও অধিগ্রহণ বিষয়েও পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিচ্ছেন স্থানীয় কৃষক ও পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ। কৃষকদের মতে, ১৯৬৮ সালে তৎকালীন সরকার জলাধার তৈরির জন্য পাঁচটি গ্রামের ১,২১৭ একর জমি হুকুম দখলের উদ্যোগ নিলেও পরে তা কার্যকর হয়নি। ফলে কয়েক দশক ধরে স্থানীয়রা সেখানে ফসল ফলিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান জানান, জমিগুলো পাউবোর নামে রেকর্ডভুক্ত এবং যথাযথ নিয়ম মেনেই খনন কাজ শুরু হয়েছে। জলাধারটি সম্পন্ন হলে প্রায় পাঁচ হাজার কৃষক উপকৃত হবেন। উন্নয়ন কাজে বাধা দিতেই পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

এদিকে মামলা হওয়ার পর থেকেই প্রকল্প এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে গ্রেপ্তার আতঙ্ক বিরাজ করছে। কৃষক নেতা জাহিদুল ইসলাম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা না হলে তারা কঠোর আন্দোলনে নামবেন। কৃষকদের দাবি, পৈতৃক সূত্রে পাওয়া তিন ফসলি জমি এবং সরকারি বসতি রক্ষার লড়াই থেকে তারা পিছিয়ে যাবেন না।

জলঢাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল আলম সমকাল প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। অপরাধীদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। 

তবে সাধারণ কৃষকরা এই ভেবে শঙ্কিত যে, এই আইনি জটিলতা তাদের জীবন-জীবিকাকে চরম সংকটের মুখে ঠেলে দেবে।

আরও পড়ুন

×