মান্নানের মনোনয়ন বাতিল চেয়ে আবেদন গিয়াসের
আজহারুল ইসলাম, মুহম্মদ গিয়াস উদ্দিন
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৮:১৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হলফনামায় নারায়ণগঞ্জ-৩ (সিদ্ধিরগঞ্জ-সোনারগাঁ) আসনের বিএনপির প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান পাঁচ ধরনের তথ্য গোপন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব তথ্য উল্লেখ করে তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিলের জন্য আপিল করেছেন একই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহম্মদ গিয়াস উদ্দিন।
গত শুক্রবার ঢাকায় নির্বাচন কমিশনে এই আপিল করেন তিনি। ১৯ জানুয়ারি আপিল শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
মুহম্মদ গিয়াস উদ্দিন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি। নারায়ণগঞ্জ-৪ (যখন ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ ছিল) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। বর্তমানে সিদ্ধিরগঞ্জ অংশ নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে যুক্ত। তিনি একই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ-৪ ও নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী। আজহারুল ইসলাম মান্নান বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য।
বিএনপি প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের মনোনয়নপত্র বাতিলের আপিল আবেদনে মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন উল্লেখ করেন, নারায়ণগঞ্জ জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের মনোনয়নপত্রের সঙ্গে হলফনামা দাখিল করেন। কিন্তু রিটার্নিং অফিসার হলফনামার তথ্য যাচাই করে দেখে সিদ্ধান্ত নেননি। সঠিকভাবে যাচাই না করেই মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা করেছেন। হলফনামা সঠিকভাবে যাচাই করলে তাঁর মনোনয়ন বৈধ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই এবং বাতিল বলে বিবেচিত হবে।
আপিল আবেদন আরও উল্লেখ করেন, বিএনপি প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা হলফনামায় ইচ্ছাকৃতভাবে এবং অসৎ উদ্দেশ্যে স্থাবর সম্পত্তি সম্পর্কে ফর্ম ২১-এ ভুল এবং মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। বার্ষিক আয় গোপন করেছেন। হলফনামা থেকে জানা যায়, আজহারুল ইসলাম মান্নান তাঁর ৪৪ কোটি ৯৪ লাখ ১১ হাজার টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। ২০১৮ সালের চেয়ে আয়ের পাশাপাশি বেড়েছে জমির পরিমাণও। গত সাত বছরে তিনি ৯৫৬ শতাংশ জমি কিনেছেন। বর্তমানে তাঁর এক হাজার ২৫৯ দশমিক ৬২ শতাংশ জমি রয়েছে।
গিয়াস উদ্দিন অভিযোগে আরও বলেন, মান্নান হলফনামায় দুটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর উল্লেখ করেছেন। যেখানে তিনি ৫২ হাজার ৬৮০ টাকার অবশিষ্ট ব্যালেন্স প্রকাশ করেছেন। কিন্তু প্রাইম ব্যাংক পিএলসি, বসুন্ধরা শাখা, ঢাকায় রক্ষিত অ্যাকাউন্ট নম্বর ২১৬৫১১২০০২০৪০ প্রকাশ করেননি। এ ছাড়া প্রিমিয়ার ব্যাংকে রক্ষিত আরেকটি অ্যাকাউন্টও প্রকাশ করেননি। রিটার্নিং অফিসার তদন্ত করলে বিভিন্ন ব্যাংকে মান্নানের অন্তত ১০টি অ্যাকাউন্ট খুঁজে পাবেন। কিন্তু আপত্তি উত্থাপন করা সত্ত্বেও রিটার্নিং অফিসার তদন্ত না করেই মান্নানের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন।
আজহারুল ইসলাম মান্নান পাঁচ সন্তানের জনক। মনোনয়নপত্রে ছেলে সাইদুল ইসলাম ও মেয়ে মালিহা ইসলাম মাইশার নাম উল্লেখ করলেও বাকি তিনজনের নাম উল্লেখ করেননি। তাঁর বড় ছেলে খায়রুল ইসলাম সজীব এবং সাইদুল ইসলাম শাকিল কোটিপতি। তাদের ই-টিন নম্বর রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী তাদেরও সম্পদের হিসাব দেওয়ার কথা। কিন্তু সেটি দেওয়া হয়নি। তাঁর স্ত্রীরও ই-টিন নম্বর রয়েছে এবং তাদের প্রচুর সম্পত্তি রয়েছে। সেসব সম্পত্তির হিসাবও হলফনামায় দেওয়া হয়নি।
আপিল আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, আজহারুল ইসলাম মান্নান তাঁর পেশা এবং ব্যবসার বিবরণ গোপন করেছেন। তিনি ‘মেসার্স একতা ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশনস’ নামে একটি ফার্ম পরিচালনা করেন, যার তথ্য হলফনামায় গোপন করেছেন। অসৎ উদ্দেশ্যে মনোনয়নপত্রে ওই ফার্মের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর উল্লেখ করেননি।
এসব বিষয়ে মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন জানান, হলফনামা যাচাই-বাছাইকালে ১৪ অনুচ্ছেদের (১) ধারার অধীনে এ ব্যাপারে আপত্তি উত্থাপন করেন তিনি। কিন্তু আপত্তি নিষ্পত্তি না করেই আজহারুল ইসলাম মান্নানের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেছেন রিটার্নিং অফিসার। তাঁর উচিত ছিল আপত্তির ওপর সংক্ষিপ্ত তদন্ত করা। কিন্তু আইনের বিধান না মেনে আজহারুল ইসলাম মান্নানের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হয়েছে, যা বাতিলযোগ্য। আপিল নিষ্পত্তির মাধ্যমে আজহারুল ইসলাম মান্নানের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হবে বলে আশা করেন মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন।
অভিযোগের ব্যাপারে আজহারুল ইসলাম মান্নানের ভাষ্য, তিনি কোনো তথ্য গোপন করেননি। যেসব তথ্য দেওয়া দরকার সবই দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, গিয়াস উদ্দিন শুরু থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে লেগে আছেন। অপপ্রচার চালাচ্ছেন। কোনোভাবেই না পেরে এখন এই পথে এগিয়েছেন। নির্বাচন কমিশন তদন্ত করুক। তদন্ত করে যদি তাঁর আবেদনের সত্যতা পায়, তাহলে মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেবে। আর সত্যতা না পেলে নির্বাচন করবেন।
রিটার্নিং অফিসার ও নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রায়হান কবির বলেন, বাছাইর সময় এমন কোনো অভিযোগ পাননি তিনি। আর এখন এ বিষয়ে তাঁর কোনো কিছু করার এখতিয়ার নেই। আপিলের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের।
- বিষয় :
- মনোনয়ন
