চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
সংঘর্ষের পর বিতর্কিত বক্তব্য দেওয়া সেই কর্মকর্তার পদোন্নতি
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। ফাইল ছবি
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০২৬ | ২২:২৭ | আপডেট: ১১ জানুয়ারি ২০২৬ | ২২:৩৭
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষের ঘটনায় বিতর্কিত মন্তব্য করে আলোচনায় আসা কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম সহকারী রেজিস্ট্রার পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। গত শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬৫তম সিন্ডিকেট সভায় তাঁর পদোন্নতি চূড়ান্ত করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় সিরাজুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদোন্নতির বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়। সেকশন অফিসার (নবম গ্রেড) পদ থেকে তিনি এখন সহকারী রেজিস্ট্রার (ষষ্ঠ গ্রেড) পদে উন্নীত হলেন।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সিরাজুল ইসলাম আগে থেকেই পদোন্নতির যোগ্য ছিলেন। বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে তাঁকে আগে শাস্তি ও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। কিন্তু নীতিমালা অনুযায়ী তাঁর পদোন্নতি আটকে রাখার কোনো বিধান নেই। মূলত বৈষম্য নিরসন কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
গত বছরের আগস্ট মাসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষের পর এক মতবিনিময় সভায় সিরাজুল ইসলাম বলেছিলেন, ‘চবি আমাদের পৈতৃক সম্পত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। আমরা এই এলাকার মালিক, আমরা জমিদার। জমিদারের ওপর কেউ হস্তক্ষেপ করবে, তা মেনে নেব না।’
তাঁর এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর জেরে জামায়াতে ইসলামী তাঁর সংসদ সদস্য প্রার্থিতা বাতিল করে এবং উপজেলা আমিরের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও তখন তাঁকে শোকজ করেছিল।
জানা গেছে, সিরাজুল ইসলাম ছাড়াও বৈষম্যের শিকার দাবি করা অন্তত ৫০ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পদোন্নতির তালিকায় রাখা হয়েছে। তবে সিরাজুল ইসলামের ক্ষেত্রে অভিযোগ রয়েছে, তিনি ২০১০, ২০১৩ এবং ২০২২ সালেও পদোন্নতি পেয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও ‘বৈষম্য নিরসন’ প্রক্রিয়ায় তাঁর বর্তমান এই পদোন্নতি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
নিজেকে ‘ইঞ্জিনিয়ার’ পরিচয় দেওয়া সিরাজুল ইসলাম হাটহাজারী উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির। পদোন্নতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মুখে মুখে শুনতে পেরেছি, এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চিঠি পাইনি।’
- বিষয় :
- চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
- পদোন্নতি
