ভোলায় যুবককে স্টাম্প দিয়ে পিটিয়ে হত্যা
চট্টগ্রামে পৃথক স্থানে দুই চালককে হত্যা, এলাকায় বিক্ষোভ
নিহত মো. শাকিল। ছবি-সংগৃহীত
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২৬ | ০০:১৭
ভোলার তজুমদ্দিনে টাকা নিয়ে ঝগড়ার জেরে মো. শাকিল (৩০) নামের এক যুবককে ক্রিকেট স্টাম্প দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবার সন্ধ্যায় তাঁকে উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ আড়ালিয়া গ্রামে স্টাম্প দিয়ে আঘাত করা হয়। রোববার ভোরে ঢাকার জাতীয় নিউরোসায়েন্সেস ইনস্টিটিউট এবং হাসপাতাল চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত শাকিল চাঁদপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কেরানির দোকান এলাকার মো. ইউনুসের ছেলে। তিনি পেশায় কাঠমিস্ত্রি ছিলেন। এ ঘটনায় রোববার সকালে তাঁর বাবা তজুমদ্দিন থানায় হত্যা মামলা করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাকিলের ছোট ভাই রাকিবের কাছে একই এলাকার মো. নুরনবীর ছেলে তামিম হোসেনের ৬০০ টাকা পাওনা ছিল। এ নিয়ে শনিবার বিকেলে স্থানীয় মাঠে ক্রিকেট খেলার সময় রাকিব ও তামিমের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। রাকিব ঝগড়া থামাতে গিয়ে তামিমকে চড়থাপ্পড় দেন। ওই দিন সন্ধ্যায় শাকিল স্থানীয় কেরানির দোকানের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন। এ সময় তামিম পেছন থেকে এসে ক্রিকেট খেলার স্টাম্প দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করেন। তাঁকে দ্রুত তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান উপস্থিত লোকজন। অবস্থার অবনতি হলে রাতেই ঢাকায় নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে পাঠানো হয়। ভোরে সেখানে তিনি মারা যান। তজুমদ্দিন থানার ওসি আবদুস সালাম জানান, হত্যা মামলার একমাত্র আসামি তামিমকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
যুবককে গুলি করে হত্যা
খুলনার রূপসা উপজেলায় আবদুল বাছেদ বিকুল (৩০) নামের এক যুবককে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার রাতে বাগমারা কদমতলা মাঠে এ ঘটনা ঘটে। বিকুল বাগমারা এলাকার আবদুল আওয়ালের ছেলে। তিনি খুলনার দৌলতপুর থানার মহেশ্বরপাশা পশ্চিম পাড়ায় বসবাস করতেন। কিছুদিন আগে রূপসায় সংঘটিত একটি হত্যা মামলার আসামি ছিলেন বিকুল।
রূপসা থানার ওসি আবদুর রাজ্জাক মীর জানান, শনিবার রাতে কদমতলা মাঠে বিকুলসহ কয়েকজন বনভোজন করছিলেন। রাত ১টার সময় দুর্বৃত্তরা সেখানে গিয়ে তাঁকে গুলি করে। দুটি গুলি বিকুলের বুকে এবং একটি গুলি মাথায় বিদ্ধ হয়। তাঁকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে রাত ২টার দিকে মারা যান। এ ঘটনায় বিকুলের দ্বিতীয় স্ত্রীসহ কয়েকজনকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
চট্টগ্রামে দুই চালক খুন
চট্টগ্রামে ছুরিকাঘাতে ভাড়ায় চলা মোটরসাইকেলের (পাঠাও) চালক ও মাইক্রোবাসচালক হত্যার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার গভীর রাতে ও রোববার ভোরে নগরীর বন্দর ও হাটহাজারী উপজেলায় এসব ঘটনা ঘটে। নিহত পাঠাও চালকের নাম আজিয়ার রহমান (৩৬)। তাঁর বাড়ি বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার আলতি বুরুজবাড়িয়া এলাকায়। আজিয়ার মোটরসাইকেলে রাইড শেয়ার করতেন। তিনি পরিবার নিয়ে থাকতেন নগরের দক্ষিণ মধ্যম হালিশহরের ধোপপুল এলাকায়। নিহত মাইক্রোবাসচালক মাহাবুল আলমের (৩৫) বাড়ি হাটহাজারীর আজিমপাড়ায়।
বন্দর থানার এসআই আবু বক্কর জানান, শনিবার রাত দেড়টার দিকে পোর্ট কলোনি এলাকায় ছুরিকাহত অবস্থায় আজিয়ার রহমানকে পাওয়া যায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
জানা গেছে, রোববার ভোরে হাটহাজারীর কলাবাগান এলাকায় দুই-তিন যুবক মাহাবুলের সঙ্গে ঝগড়া শুরু করেন। এক পর্যায়ে তাঁর পেটে ও বুকে ছুরিকাঘাত করে সটকে পড়েন তারা। পরে মাহাবুলের মৃত্যু হয়।
ভ্যানচালক খুন
বরিশালের গৌরনদী উপজেলার পূর্ব কাসেমাবাদ এলাকায় বাড়ি ফেরার পথে ভ্যানচালককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম মঞ্জু ব্যাপারী (৫০)। তাঁর বাড়ি পূর্ব কাসেমাবাদ গ্রামে। স্থানীয় সূত্র জানায়, রাত সাড়ে ১১টার দিকে যাত্রী নামিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন মঞ্জু। বাড়ির কাছে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তাঁর পথরোধ করে। একপর্যায়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে সঙ্গে থাকা নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে পালিয়ে যায়।
জেলের মরদেহ উদ্ধার
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় নিখোঁজের তিন দিন পর ফেরদৌস মুন্সী নামের এক জেলের মাটিচাপা দেওয়া মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের পশ্চিম মধুখালী গ্রামের সাপুরিয়ার খালের পাড় থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ফেরদৌস একই গ্রামের রহমান মুন্সির ছেলে।
(সংশ্লিষ্ট ব্যুরো ও প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য)
