ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

১১ ট্রেনের ‘স্নিগ্ধা’ কোচে নেই ব্যাগ রাখার ব্যবস্থা

১১ ট্রেনের ‘স্নিগ্ধা’ কোচে  নেই ব্যাগ রাখার ব্যবস্থা
×

আন্তঃনগর চিলাহাটি এক্সপ্রেস ট্রেনের এসি চেয়ার কোচগুলোতে ব্যাগ ও লাগেজ রাখারা জায়গা নেই। বিষয়টি নিয়ে প্রায়ই অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয় রেলের কর্মীদের সমকাল

 ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৮:১৮ | আপডেট: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ | ১২:৩৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ রেলওয়ের পাকশী বিভাগের ১১টি আন্তঃনগর ট্রেনের এসি চেয়ার (স্নিগ্ধা) কোচগুলোতে ব্যাগ ও লাগেজ রাখা নিয়ে ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিটি কোচের ৮০টি আসনের মধ্যে ৩০টি আসনের ওপরে মালপত্র রাখার কোনো র‍্যাক বা বাঙ্কার নেই। ফলে মালপত্র রাখা নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক, ঝগড়া ও হাতাহাতি এখন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, চীন থেকে আমদানি করা এসব কোচের দুপাশের প্রবেশমুখের ১ থেকে ১৫ এবং ৬৬ থেকে ৮০ নম্বর আসনের ওপরে কোনো র‍্যাক নেই। ফলে এই ৩০ জন যাত্রী তাদের ব্যাগ বা লাগেজ সিটের কাছাকাছি রাখতে পারেন না। যখন তারা অন্য যাত্রীদের সিটের ওপরের র‍্যাকে ব্যাগ রাখার চেষ্টা করেন, তখনই বাধে বিপত্তি। আগে ওঠা যাত্রীরা জায়গা দখল করে রাখায় পরের যাত্রীরা ব্যাগ রাখার জায়গা পান না, যা থেকে সৃষ্টি হয় চরম বিশৃঙ্খলা।

পাকশী বিভাগের অধীনে চলাচলকারী যেসব ট্রেনে এ সমস্যা প্রকট, তার মধ্যে রয়েছে রাজশাহী-ঢাকা রুটের সিল্কসিটি, বনলতা, পদ্মা ও ধূমকেতু এক্সপ্রেস, চিলাহাটি-ঢাকা রুটের চিলাহাটি ও নীলসাগর এক্সপ্রেস, খুলনা-ঢাকা রুটের চিত্রা, সুন্দরবন ও হানাবাদ এক্সপ্রেস এবং বেনাপোল-ঢাকা/যশোরের বেনাপোল ও রূপসী বাংলা এক্সপ্রেস।
ট্রেনে কর্তব্যরত টিটিই, পরিচালক ও অ্যাটেনডেন্টরা প্রতিদিন যাত্রীদের তোপের মুখে পড়ছেন। ঈশ্বরদী হেডকোয়ার্টারের সিনিয়র টিটিই আব্দুল আলীম বিশ্বাস মিঠু বলেন, ‘এসব ট্রেনে ডিউটি করতে এসে আমাদের প্রতিদিন কটুকথা ও নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। যাত্রীদের ঝগড়া থামাতে আমরা হিমশিম খাচ্ছি।’ সমস্যাটির সমাধানে তিনি সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও দিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

চিলাহাটি এক্সপ্রেসের যাত্রী মাহ্বুবুর রহমান পলাশ আক্ষেপ করে বলেন, ‘আসন আছে কিন্তু ব্যাগ রাখার জায়গা নেই, এটা কেমন অব্যবস্থাপনা? ট্রেনে উঠে মালপত্র নিয়ে আমাদের রীতিমতো যুদ্ধে নামতে হয়।’ ট্রেনের পরিচালক সাঈদ ইকবালসহ অন্যান্য কর্মীও এ অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এই সমস্যা প্রসঙ্গে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে যান্ত্রিক প্রকৌশলী (ডিএমই) রবিউল ইসলাম জানান, কোচগুলোতে বাঙ্কার বা র‍্যাক সংযোজন করতে হলে ট্রেনগুলো সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় পাঠাতে হবে এবং এর জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতির প্রয়োজন। তবে এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কার্যকর কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

আরও পড়ুন

×