ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

একটি ঘোষণায় লন্ডভন্ড সাজানো সংসার

একটি ঘোষণায় লন্ডভন্ড সাজানো সংসার
×

স্বামীকে হারিয়ে দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন আবিয়া বেগম সমকাল

 নীলফামারী প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৮:১৮ | আপডেট: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৮:২৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

মানুষের সম্মানই তাঁর সবচেয়ে বড় সম্পদ। সেই সম্মান যখন ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়া হয়, তখন বেঁচে থাকার ইচ্ছাটাই মরে যায়। নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের দক্ষিণ সোনাখুলি গ্রামে ঠিক এমনটাই ঘটেছে ফল ব্যবসায়ী রোকনুজ্জামানের (২৭) জীবনে। গরু চুরির মিথ্যা অপবাদ আর মসজিদের মাইকে কলঙ্কিত ঘোষণার অপমান সহ্য করতে না পেরে নিজ ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন তিনি।

প্রতিবেশী আব্দুর রশিদের একটি গরু হারিয়ে গেলে পরে তা উদ্ধারও হয়। কিন্তু চুরির অপবাদ দেওয়া হয় রোকনুজ্জামানকে। গত শুক্রবার স্থানীয় সালিশে তাঁকে ও তাঁর বাবাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রেখে দুই হাজার ২০০ টাকা জরিমানা এবং সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এতেও ক্ষান্ত হয়নি প্রতিপক্ষ। পরদিন সকালে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়– ‘রোকনুজ্জামান ও তাঁর পরিবার চোর, কারও কিছু হারালে তাদের ধরবেন।’

এই লজ্জা ও ক্ষোভে শনিবার দুপুরে নিজ ঘরে আত্মহননের পথ বেছে নেন তিনি।

রোকনুজ্জামানের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় হৃদয়বিদারক দৃশ্য। স্বামী হারিয়ে স্ত্রী আবিয়া বেগম পাগলপ্রায়। পাশে বসে আছে দুই অবুঝ সন্তান– ইমরান ও রোকাইয়া। বাবার আদর কী, তা বোঝার আগেই মাথার ওপর থেকে ছায়া সরে গেছে তাদের। কান্নাজড়িত কণ্ঠে আবিয়া বেগম বলেন, ‘ছোট মেয়েটার দুধ কেনার টাকাও নেই ঘরে। দুদিন ধরে ও না খেয়ে আছে। আমার সন্তানদের কে দেখবে? আমি এখন কোথায় যাব?’ বৃদ্ধ মা রোকসানা বেগম কেবল তাঁর আদরের সন্তানের মৃত্যুর বিচার চান।

ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় বাবা জহিরুল ইসলাম আব্দুর রশিদ, তার ভাই মোহাম্মদ আলী, সেকেন্দার আলীসহ সাতজনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা করেছেন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো– মামলার পাঁচ দিন পার হলেও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। উল্টো আসামিরা পলাতক থেকেও পরিবারটিকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্বজনদের দাবি, রোকনুজ্জামানকে ফাঁসানো হয়েছে। মীমাংসার পরও কেন মাইকিং করে তাঁকে সামাজিকভাবে হেয় করা হলো, সেই প্রশ্ন এখন সবার মনে।
সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। 

আরও পড়ুন

×