ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

দুস্থদের কম্বল বাজারে বিক্রি করলেন ইউপি সদস্য

দুস্থদের কম্বল বাজারে বিক্রি করলেন ইউপি সদস্য
×

ইউপি সদস্য রুঙ্গু খান

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি  

প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৭:৪৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় দুস্থ ও অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দ সরকারি কম্বল বিতরণের পরিবর্তে বাজারে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। উপজেলার পাটগাতী ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রুঙ্গু খানের বিরুদ্ধে ওঠা এই অনিয়ম নিয়ে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

পাটগাতী ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, চলতি শীত মৌসুমে উপজেলা প্রশাসন থেকে ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের জন্য ১৫০ পিস কম্বল বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দরিদ্রদের জন্য ২১টি কম্বল বরাদ্দ পান ইউপি সদস্য রুঙ্গু খান। গত ২ জানুয়ারি তিনি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে এই কম্বলগুলো গ্রহণ করেন এবং উপকারভোগীদের একটি তালিকা (মাস্টাররোল) জমা দেন।

ইউপি মেম্বার উপকারভোগীদের তালিকায় ২১টি মোবাইল ফোন নম্বর উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে দুটি নম্বরে কল করে জানা গেছে, তারা কম্বল পাননি। এর মধ্যে একজন খুলনা ও অপরজন চট্টগ্রামে থাকেন বলে জানিয়েছেন। স্থানীয় তিনজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে তারাও কম্বল পাননি। বাদ বাকি ১৬টি মোবাইল ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে। ১৬টি নম্বর অস্তিত্বহীন বলে ধারণা করা হচ্ছে। 
তালিকায় থাকা মোবাইল ফোন নম্বর ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। ২১টির মধ্যে ১৬টি মোবাইল ফোন নম্বরই বন্ধ পাওয়া গেছে, যেগুলোর কোনো অস্তিত্ব নেই বলে ধারণা করা হচ্ছে। তালিকায় থাকা দুজন (মাজেদা বেগম ও রোজিনা খানম) বর্তমানে খুলনা ও চট্টগ্রামে অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন।

তালিকায় নাম থাকা স্থানীয় বাসিন্দা আবেজান বেগম, নাসিমা বেগম ও জুলি খানম জানান, তারা কোনো কম্বল পাননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাটগাতীর এক ইউপি সদস্য অভিযোগ করে বলেন, ‘রুঙ্গু মেম্বার ভুয়া তালিকা জমা দিয়ে পরিষদ থেকে কম্বলগুলো সংগ্রহ করেন। এরপর তিনি রাসেল নামে এক ভ্যানচালকের মাধ্যমে কম্বলগুলো পাটগাতী বাজারে নিয়ে বিক্রি করে দেন। হতদরিদ্রদের হক মেরে তিনি এই কাজ করেছেন।’
অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি সদস্য রুঙ্গু খান বলেন, ‘আমি কোনো কম্বল বিক্রি করিনি। তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের মধ্যেই বিতরণ করেছি।’ এর বেশি কোনো মন্তব্য না করেই তিনি ফোনটি কেটে দেন।
টুঙ্গিপাড়ার ইউএনও জহিরুল আলম বলেন, ‘উপকারভোগীদের না দিয়ে যদি কোনো জনপ্রতিনিধি তা বিক্রি করে থাকেন, তবে সেটি বড় অপরাধ। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আরও পড়ুন

×