প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে
কুয়াকাটা সৈকত পরিচ্ছন্নতা অভিযানে বক্তারা
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত থেকে গতকাল বুধবার বর্জ্য সংগ্রহ করছেন স্থানীয় পরিবেশবাদী স্বেচ্ছাসেবীরা সমকাল
কুয়াকাটা (পটুয়াখাখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৮:০২
| প্রিন্ট সংস্করণ
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উপকূলীয় অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন পটুয়াখালীর কুয়াকাটার পরিবেশবাদীরা। গতকাল বুধবার সকালে জিরো পয়েন্টের পূর্ব পাশে আয়োজিত মানববন্ধনে এমন মন্তব্য করেন তারা। পরে সেখান থেকে সমুদ্রসৈকতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়।
কার্বনমুক্ত বাংলাদেশ গড়া ও কার্বন নিঃসরণকারী দেশের কাছে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার দাবিতে এই দুটি কর্মসূচি পালন করে নজরুল স্মৃতি সংসদ (এনএসএস)। মানববন্ধনে বক্তারা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব, উপকূলীয় পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি সংগঠন ও সাধারণ জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা বাড়ানো ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ উপকূল গড়ে তোলার ওপর তারা গুরুত্ব দেন।
বক্তব্য দেন এনএসএস নির্বাহী পরিচালক শাহাবুদ্দিন পাননা, কমিটির কোষাধ্যক্ষ খায়রুল বাশার বুলবুল, কেয়ার বাংলাদেশ প্রতিনিধি বায়েজিদ বোস্তামী ও ওয়ার্ল্ড ভিশন আমতলী এপি ম্যানেজার বিভুদান বিশ্বাস। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের (উপরা) যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন রাজু, সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান মিরাজ, কুয়াকাটা ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শামিম হোসেন রাজু, সাংবাদিক জাকির হোসেনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
সৈকতের প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পরিচালিত পরিচ্ছন্নতা অভিযানে দুই শতাধিক প্রতিনিধি ছাড়াও পর্যটক ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক অংশ নেন। এনএসএস নির্বাহী নির্বাহী পরিচালক শাহাবুদ্দিন পাননা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে উপকূলীয় অঞ্চলে। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও নদীভাঙনের কারণে এখানকার মানুষের জীবন-জীবিকা আজ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে। পরিবেশ রক্ষায় এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই উপকূল টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। এ জন্য পরিবেশবান্ধব আচরণ, প্লাস্টিক বর্জ্য কমানো এবং সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে সবাইকে সম্পৃক্ত করতে হবে।
কেয়ার বাংলাদেশ প্রতিনিধি বায়েজিদ বোস্তামী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর কোনো ভবিষ্যৎ আশঙ্কা নয়, এটি বর্তমান বাস্তবতা। উপকূলীয় দরিদ্র জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি
ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অথচ তাদের অভিযোজন সক্ষমতা সবচেয়ে কম। টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে
হলে স্থানীয় জনগণকে জলবায়ু সহনশীল কৃষি, বিকল্প জীবিকা ও দুর্যোগ প্রস্তুতির বিষয়ে প্রশিক্ষিত করতে হবে।
- বিষয় :
- কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত
