ঈশ্বরদীতে বিচার চলাকালে চেয়ারম্যান ও গ্রাম পুলিশকে মারধর
ছবি: গুগল ম্যাপ
ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ | ২১:২৪
পাবনার ঈশ্বরদীতে ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম্য আদালতে ছেলের বিরুদ্ধে মায়ের দায়ের করা অভিযোগ নিয়ে বিচার চলাকালে ইউপি চেয়ারম্যান ও গ্রাম পুলিশকে মারধর করেছে আসামি।
বুধবার উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ইউনিয়ন পরিষদ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদকের আখড়া বসানো নিয়ে সলিমপুর ইউনিয়নের মানিকনগর পশ্চিমপাড়া গ্রামের সুলায়মান ভুট্টুর বিরুদ্ধে তার মা কোহিনুর বেগম ইউনিয়নের গ্রাম্য সালিশ আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন।
বুধবার এ নিয়ে বিচার সালিশ চলাকালে অভিযুক্ত সোলায়মান এক পর্যায়ে চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশকে উদ্দেশ করে গালাগাল করে। এ সময় তাকে ভদ্রভাবে কথা বলা ও শান্ত থাকতে বলার কারণে গ্রাম পুলিশ মো. নূরুন্নবী মৃধার ওপর চড়াও হয়ে তাঁকে বেধড়ক মারধর করে সুলায়মান।
ঘটনার আকস্মিকতায় সালিশের বিচারক ইউপি চেয়ারম্যান মহির উদ্দিন গ্রাম পুলিশকে রক্ষা করতে এজলাস থেকে নেমে এলে ভুট্টু ও তার সঙ্গী মো. রুয়েল প্রামাণিকসহ কয়েকজন মিলে চেয়ারম্যানের ওপর চড়াও হয়। এক পর্যায়ে সুলায়মান ও রুয়েলের সহযোগী অনিক প্রামাণিক, মো. গিট্টু হোসেন, মো. ইমন, রাব্বি হোসেনসহ কয়েকজন লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যানকে মারধর করে সেখান থেকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. স্বপন সরদার, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আসাদুল হক, গ্রাম পুলিশ মাহাতাব মুন্সি, লিখন প্রামাণিকসহ সেখানে উপস্থিত লোকজন এগিয়ে এলে তারা পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় আহত গ্রাম পুলিশ মো. নুরুন্নবী মৃধা বাদী হয়ে ছয়জনকে আসামি করে ঈশ্বরদী থানায় মামলা দায়ের করেন।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আসাদুজ্জামান সরকার জানান, ঘটনার পর পরই যৌথ বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে এলাকায় আসামিদের বাড়ি বাড়ি ও মাদকের আখড়ায় অভিযান চালানো হয়। আসামিরা আত্মগোপন করায় তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। অভিযানে বেশকিছু মাদক জব্দ করা হয়েছে।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুজ্জামান বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
- বিষয় :
- পাবনা
- ঈশ্বরদী
- গ্রাম আদালত
- মারধর
