ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

একসঙ্গে নাস্তার পর বন্ধুকে গলা কেটে হত্যা করেন শুভ: পুলিশ

একসঙ্গে নাস্তার পর বন্ধুকে গলা কেটে হত্যা করেন শুভ: পুলিশ
×

গ্রেফতার শুভ রায় -সমকাল

আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২০ | ০৬:২২

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে প্রেম সংক্রান্ত বিরোধে সাইফুল ইসলামকে গলা কেটে হত্যা করেছেন তারই বন্ধু। গ্রেফতার শুভ রায় স্বীকারোক্তীমূলক জবানবন্দীতে বন্ধুকে হত্যার করা ঘটনা বর্ণনা করেছেন। 

বৃহস্পতিবার বিকালে নারায়ণগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুন্নাহার ইয়াসমিনের আদালতে শুভ রায়কে হাজির করা হলে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন তিনি। এর আগে বুধবার রাতে সাইফুল হত্যায় জড়িত অভিযোগে শুভ রায়কে (২০) গোপালদী বাজার এলাকা থেকে পুলিশ গ্রেফতার করে। শুভ রায় কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার লাজৈর গ্রামের শংকর চন্দ্র রায়ের ছেলে। তিনি তার মামা বাড়ি উপজেলার উলুকান্দি এলাকায় থাকতেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে আড়াইহাজার থানার ওসি নজরুল ইসলাম জানান, উপজেলার দড়িবিশনন্দী গ্রামের সাইফুল নামের এক তরুণের লাশ বুধবার বিকালে গোপালদী মসজিদ মার্কেটের ছাদ থেকে উদ্ধার করা হয়। ওই রাতেই তার বোন লিজা আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে আড়াইহাজার থানায় মামলা দায়ের করার পর শুভ রায়কে গ্রেফতার করলে পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের প্রেম সংক্রান্ত বিরোধে তিনি সাইফুলকে হত্যা করার দায় স্বীকার করেন। পরে বৃহস্পতিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুন্নাহার ইয়াসমিনের আদালতে শুভকে হাজির করা হলে ১৬৪ ধারায় তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন।

আদালতকে শুভ রায় জানান, সাইফুল ইসলাম নরসিংদীর একটি বেসরকারি কলেজে মনোবিজ্ঞান বিভাগে অনার্সে লেখাপড়া করছেন। পাশাপাশি গোপালদী বাজারে অবস্থিত মনির ফার্মেসিতে কর্মরত ছিলেন। শুভ তার সঙ্গে একই ফার্মেসিতে কর্মরত ছিলেন। স্থানীয় এক মেয়ের সঙ্গে সাইফুলের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। একই মেয়েকে শুভও পছন্দ করতেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়শই ঝগড়া হতো। এছাড়াও শুভ ফার্মেসি থেকে টাকা চুরি করে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক সেবন করতেন। বিষয়টি ফার্মেসির মালিককে জানানোয় সাইফুলের প্রতি তিনি ভীষণ ক্ষিপ্ত হয়। তারপর থেকে প্রতিশোধের নেশা চেপে ধরে শুভকে। হত্যাকাণ্ডের দুইদিন আগে তিনি একটি ধারালো ছুরি কেনেন। মঙ্গলবার রাতে হত্যাকাণ্ডের আগে দুই বন্ধু একসঙ্গে নাস্তা করেন। এরপর সাইফুলকে জরুরি কথা আছে বলে গোপালদী বাজার মসজিদের ছাদে নিয়ে যান শুভ। পরিকল্পনা অনুযায়ী কথা বলার এক পর্যায়ে শুভ সাইফুলের পেছন দিক দিয়ে ধারালো ছুড়ি এলোপাথাড়ি আঘাত করেন। তার পেটে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের ফলে নাড়িভুড়ির কিছু অংশ বের হয়ে যায়। পরে তার মৃত্যু নিশ্চিত করতে তার গলার অগ্রভাগের কিছু অংশ ও দুই হাতের কব্জির রগ কেটে দেন সাইফুল। পরে কাপড়-চোপড় পাল্টে শুভ ফার্মেসিতে স্বাভাবিকভাবেই দায়িত্বও পালন করেছিল যাতে কেউ তাকে সন্দেহ না করে। কিন্তু পুলিশ ওই রাতেই তাকে গ্রেফতার করে।

এদিকে নিহত সাইফুলের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। ছেলেকে হারিয়ে মা নাজমা বেগম বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। পরিবারের লোকজনের আহজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে বাতাস। সাইফুল গোপালদী পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের উলুকান্দিপূর্বপাড়া জেলে পল্লীতে নানা বাতেন মিয়ার বাড়িতে মা নাজমাকে নিয়ে ছোট বেলা থেকে বসবাস করে আসছিলেন। ভাই বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। 

আরও পড়ুন

×