ঢাকা শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

রান্নার সময় সবুজ রঙ

ল্যাবে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে সেই মাংসের নমুনা

ল্যাবে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে সেই মাংসের নমুনা
×

রান্নার সময় মাংস সবুজ হয়ে যায়। গতকাল বুধবার তোলা ছবি: সংগৃহীত

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬ | ২২:১২ | আপডেট: ২৩ জুলাই ২০২৬ | ২৩:০৫

খুলনার পাইকগাছায় রান্না করার সময় গরুর মাংসের রং লাল থেকে সবুজ হয়ে যাওয়া মাংসের নমুনা ল্যাবে পরীক্ষার জন্য ঢাকার ল্যাবে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য পরিদর্শক উদয় কুমার মন্ডল। আজ বৃহস্পতিবার রাতে সমকালকে এ তথ্য জানান তিনি।

জানা গেছে, মডার্ন বেকারি নামে স্থানীয় একটি কারখানার শ্রমিকরা পিকনিকের জন্য বুধবার সকালে বাজার থেকে মাংস কিনে আনেন। দুপুরে ওই মাংস রান্নার সময় রং পরিবর্তন হতে শুরু করে। ধীরে ধীরে তা লাল থেকে সবুজ রং ধারণ করে। এ সময় রাঁধুনির হাঁকডাকে অন্যরা সেখানে উপস্থিত হয়ে বিস্মিত হয়ে পড়েন।

কারখানার কর্মচারী লিটন হোসেন জানান, পিকনিকের জন্য তারা সকালে পাইকগাছা বাজারের মাংস ব্যবসায়ী ইসমাইলের দোকানে মাংস কিনতে যান। সে সময় দোকানে মাংস না থাকায় তিনি বাড়ি থেকে ফ্রিজে রাখা মাংস এনে দেন। এরপর পিকনিকের জন্য বাজার-সদাই করে যথারীতি কড়াইতে মাংস রান্না শুরু করেন তিনি। রান্নার প্রায় অর্ধেক শেষ হওয়ার পর দেখতে পান, মাংসের স্বাভাবিক লালচে রং পরিবর্তন হয়ে সবুজ রং ধারণ করেছে। বিষয়টি দেখে তারা মাংসসহ কড়াইটি নিয়ে প্রথমে মাংস বিক্রেতা ইসমাইলের দোকানে যান। পরে মাংস নিয়ে থানায় হাজির হন।

আজ রাতে সমকালকে মডার্ন বেকারির মালিক আমানুল্লাহ গাজী জানিয়েছেন, ওই মাংস দেখার জন্য এলাকার উৎসুক মানুষ কারখানায় ভীড় করছিল। এ কারনে ওই মাংস ফেলে দেওয়া হয়েছিল। পরে স্যানেটারি ইন্সপেক্টরের ফোন পাওয়ার পর ডাস্টবিন থেকে কিছু মাংস তুলে আানা হয়। তিনি তা সংগ্রহ করে নিয়ে গেছেন।

তবে মাংস বিক্রেতা ইসমাইল হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি ভালো মাংসই বিক্রি করেছি। মাংসে কোনো ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়নি। তারা হয়তো রান্নার সময় অন্য কোনো কেমিক্যাল ব্যবহার করেছেন। আমার দোকান থেকে আরও অনেকেই মাংস কিনে নিয়ে গেছেন, কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ এমন অভিযোগ করেননি।’

পাইকগাছা থানার ওসি জুলফিকার আলী বলেন, বুধবার দুপুরে কয়েকজন একটি কড়াইয়ে মাংস নিয়ে থানায় আসেন। রান্নার পর মাংসের রং সবুজ হওয়ায় তারা মৌখিকভাবে মাংস বিক্রেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। তবে এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ দিতে বললে তারা মাংসের কড়াই নিয়ে চলে যায়।

পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য পরিদর্শক উদয় কুমার মন্ডল বলেন, মাংসের রঙ পরিবর্তন নিয়ে এলাকায় কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে। এ জন্য ওই মাংস ল্যাব টেস্টের জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট আসলে কারণ জানা যাবে।

আরও পড়ুন

×