ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সেবার মাধ্যমে প্রতিদান দিতে চান সৈয়দ ফয়সল

সেবার মাধ্যমে প্রতিদান দিতে চান সৈয়দ ফয়সল
×

সৈয়দ মো. ফয়সল।

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ২০:০১

এলাকার উন্নয়ন ও সেবার মাধ্যমে ভোটারদের আস্থার প্রতিদান দিতে চান হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সল। তিনি বলেছেন, জনগণের দেওয়া প্রতিশ্রুতির মর্যাদা রক্ষা করাই হবে তার প্রধান লক্ষ্য। নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে তিনি অঙ্গীকারবদ্ধ বলেও জানান।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন ধানের শীষের প্রার্থী সৈয়দ মো. ফয়সল। এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, মাধবপুর ও চুনারুঘাটের জনগণ অনেক আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আমাকে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করেছেন। আমি সেই আস্থার প্রতিদান দিতে চাই উন্নয়ন ও সেবার মাধ্যমে।

তিনি উল্লেখ করেন, ভৌগোলিকভাবে মাধবপুর ও চুনারুঘাট উপজেলা বৈচিত্র্যে ভরপুর– এখানে রয়েছে হাওর-বাঁওড়, নদী, পাহাড়, চা বাগান, রাবার বাগান এবং অর্ধশতাধিক শিল্পকারখানা। এসব সম্পদ কাজে লাগিয়ে একটি সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা জানান তিনি। এ অঞ্চলের চা বাগান ও শিল্পকারখানায় বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষ শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন। তাদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারিভাবে সহযোগিতা নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলেন নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্য।

শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দেবেন বলেও জানান তিনি। শিক্ষা খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সৈয়দ ফয়সল বলেন, মাধবপুর-চুনারুঘাটে যুগোপযোগী ও কর্মমুখী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে। তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করতে কারিগরি ও প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষার প্রসারে উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি মনে করেন, বিশাল তরুণ ও যুবসমাজকে সঠিকভাবে প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ দিতে পারলে এলাকাটি অর্থনৈতিকভাবে আরও সমৃদ্ধ হবে।

স্বাস্থ্যসেবার বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে স্বাস্থ্যব্যবস্থা কাঙ্ক্ষিত মানে পৌঁছায়নি। বিশেষ করে চা বাগান ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য ও মানসম্মত করা প্রয়োজন। যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নেও গুরুত্বারোপ করেন সৈয়দ ফয়সল। তিনি বলেন, গ্রামীণ সড়ক ও সেতু সংস্কার ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে যোগাযোগব্যবস্থা টেকসই করা হবে। কৃষিপণ্য ও শিল্পপণ্য পরিবহনে যাতে কোনো বাধা না থাকে, সে বিষয়ে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।

পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, পরিবেশ দূষণ রোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। একই সঙ্গে মাদক নির্মূলে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথাও জানান তিনি। তিনি বলেন, যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে হবে। তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারলে মাদকাসক্তি অনেকাংশে কমে আসবে।

ধর্মীয় সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়েও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। মাধবপুর-চুনারুঘাটে চা শ্রমিকসহ সব ধর্ম-বর্ণের মানুষ যাতে উৎসবমুখর পরিবেশে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারেন, সেই অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করার কথা বলেন তিনি। কৃষকদের দেশের প্রাণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৃষি খাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা হবে। তার লক্ষ্য মাধবপুর-চুনারুঘাটকে একটি শান্তিপূর্ণ, উন্নয়নমুখী ও বসবাসযোগ্য জনপদে পরিণত করা। তিনি জানান, দলের ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচির আলোকে নিজের নির্বাচনী এলাকায় নিরলসভাবে কাজ করে যাবেন।

আরও পড়ুন

×