গুমের শিকার সালাহউদ্দিন আহমেদ এখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সালাহউদ্দিন আহমেদ
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ২২:০৬
২০১৫ সালে দেশের রাজনীতির উত্তাল সময়ে বিএনপির মুখপাত্রের দায়িত্বে ছিলেন সালাহউদ্দিন আহমেদ। ওই বছরের ১০ মার্চ গুমের শিকার হন তিনি। দীর্ঘ ৬২ দিন পর ১১ মে তাঁকে মানসিক বিপর্যস্ত অবস্থায় পাওয়া যায় ভারতের মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শিলংয়ে। ওই শহরে বন্দি অবস্থায়ই বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হন তিনি। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে ২০২৪ সালের আগস্টে অভ্যুত্থানোত্তর বাংলাদেশে ফেরেন তিনি।
আজ মঙ্গলবার বিকেল ৪টা ২০ মিনিটের দিকে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনের কাছে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন সালাহউদ্দিন আহমেদ। সন্ধ্যায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে তাঁকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর আগে এদিন সকালে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবেও শপথ নেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধোত্তর কক্সবাজারের ইতিহাসের তিনি প্রথম পূর্ণমন্ত্রী। এর আগে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী ছিলেন এই জেলার সন্তান ফরিদ আহমদ।
কক্সবাজার-১ আসন থেকে সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রথম দফায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ১৯৯৬ সালের জুনে। এরপর ২০০১ সালেও নির্বাচিত হয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তিনিই স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে কক্সবাজার জেলার থেকে প্রথম প্রতিমন্ত্রী হন।
১৯৬২ সালের ৩০ জুন পেকুয়ার সিকদারপাড়া গ্রামের জন্ম নেন সালাহউদ্দিন আহমেদ। তাঁর বাবা মৌলভী ছাঈদুল হক ও মা বেগম আয়েশা হক। ১৯৭৭ সালে পেকুয়ার শিলখালী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে রেকর্ড নম্বর পেয়ে এসএসসি পাস করেন সালাহউদ্দিন আহমেদ। চট্টগ্রাম কলেজ থেকে ১৯৭৯ সালের এইচএসসিতেও দারুণ ফলাফল করেন। ১৯৮০ সালে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে। ১৯৮৪ সালে এলএলবি (সম্মান) ও ১৯৮৬ সালে এলএলএম ডিগ্রি লাভ করেন। এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। কিছুদিন ছিলেন এই সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতিও।
১৯৮৫ সালের সপ্তম বিসিএস পরীক্ষায় (প্রশাসন) উত্তীর্ণ হয়ে ১৯৮৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সালাহউদ্দিন আহমেদ সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে বগুড়া জেলা প্রশাসনের তৎকালীন সিনিয়র সহকারী সচিব পদ থেকে বদলি হয়ে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) নিযুক্ত হন। ১৯৯৬ সালে চাকরি ছেড়ে আহ্বায়ক হিসেবে কক্সবাজার জেলা বিএনপির হাল ধরেন।
কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘পুরো জেলাবাসীর জন্য আজকে গৌরবের দিন, আমরা একজন যোগ্য মানুষকে মন্ত্রী হিসেবে পেতে যাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ সালাহউদ্দিন আহমেদের যোগ্য নেতৃত্বে পুরো দেশের সঙ্গে আরও সমৃদ্ধ হবে কক্সবাজার।’
