চট্টগ্রামের প্রার্থীরা ফেসবুকে খরচ করেছেন ২৬ হাজার ডলার
আব্দুল্লাহ আল মামুন, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৮:০৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
এবারের সংসদ নির্বাচনে মাঠের পাশাপাশি ফেসবুকেও সরগরম ছিল প্রচারণা। কেউ কেউ প্রচারণায় উড়িয়েছেন ডলার। চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে ১৭ প্রার্থী ১৭ হাজার ৭১০ ডলার খরচ করেছেন, যা ২১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এর বাইরে বিএনপি দলগতভাবে খরচ করেছে আট হাজার ৫০২ ডলার, যা দেশীয় মুদ্রায় ১০ লাখ ৩৭ হাজার টাকা।
এই তালিকায় শীর্ষে আছেন চট্টগ্রাম-৭ আসনের বিএনপির হুম্মাম কাদের চৌধুরী। এ ছাড়া জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন, ইসলামী ফ্রন্ট ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও ফেসবুকে ডলার খরচ করেছেন।
তবে প্রার্থীদের এই ব্যয় যথাযথ পর্যবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) কিংবা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এই ব্যয় তদারকি নিয়ে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, সামাজিক মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণার খরচ প্রার্থীদের ব্যয় সীমায় অন্তর্ভুক্ত হবে। এই ব্যয়ের হিসাব নির্বাচিত প্রার্থীর নাম ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়ার কথা।
মেটা অ্যাড লাইব্রেরির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের প্রার্থীর মধ্যে ১৭ জন ও তাদের পক্ষে চারটি ফেসবুক পেজ থেকে বিজ্ঞাপনে মোট খরচ হয়েছে ৩১ লাখ ৯৭ হাজার ৮৮০ টাকা। ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর তপশিল ঘোষণার পর থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন পর্যন্ত এই ব্যয় করেছেন প্রার্থীরা। তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে ১৭ ফেব্রুয়ারি।
শীর্ষে বিএনপি
ফেসবুক প্রচারণায় বিএনপি খরচ করেছে ২৭ লাখ ৭১ হাজার ৩৫২ টাকা। এর মধ্যে ১০ প্রার্থী ব্যয় করেছেন ১৭ লাখ ৩৪ হাজার ১০৮ টাকা এবং দলীয় ব্যয় হয়েছে ১০ লাখ ৩৭ হাজার ২৪৪ টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির তিন প্রার্থী ব্যয় করেছেন মোট দুই লাখ আট হাজার ৭৪২ টাকা। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ব্যয় করেছে ৫৫ হাজার ৯৯৮ টাকা, এনসিপি ৩৮ হাজার ৬৭৪ টাকা এবং বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট ১৩ হাজার ৫৪ টাকা ব্যয় করেছে। দুজন স্বতন্ত্র প্রার্থী খরচ করেছেন এক লাখ ১০ হাজার ৬০ টাকা।
ব্যক্তি পর্যায়ে কারা এগিয়ে
ব্যক্তি হিসেবে সর্বোচ্চ খরচ করা হুম্মাম কাদের চৌধুরী তাঁর দুটি পেজ (হুম্মাম কাদের চৌধুরী ও জনতার রাঙ্গুনিয়া) মিলিয়ে ব্যয়ের পরিমাণ আট হাজার ৮৬৬ ডলার, যা ১০ লাখ ৮১ হাজার ৬৫২ টাকা। তাঁর এলাকার ভোটার তিন লাখ ১৩ হাজার ১৬৪ জন। আচরণবিধি অনুযায়ী, নির্বাচনে তাঁর ব্যয়সীমা ৩১ লাখ ৩১ হাজার টাকা। তিনি তাঁর ফেসবুক দুটির আইডি জমা দিয়েছিলেন কিনা– এ তথ্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় দিতে পারেনি। হুম্মাম কাদের চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলেতে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ধরেননি।
এ ছাড়া বিএনপি মিডিয়া সেল-চট্টগ্রাম বিভাগ পেজ থেকেও আট হাজার ৫০২ ডলার বা ১০ লাখ ৩৭ হাজার ২৪৪ টাকা খরচ করা হয়। চট্টগ্রাম-১০ আসনের বিএনপির সাঈদ আল নোমান ব্যয় করেছেন দুই লাখ ২৬ হাজার ৩১০ টাকা। চট্টগ্রাম-৪ আসনের জামায়াতের আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী ব্যয় করেছেন এক লাখ ২৪ হাজার ১৯৬ টাকা।
‘চট্টগ্রাম-১১’ নামে পেজ থেকে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ব্যয় করেছেন ৯৯ হাজার ৬৭৪ টাকা। চট্টগ্রাম-৫ ব্যারিস্টার মীর হেলাল নামের পেজ থেকে ব্যয় করা হয়েছে ৯৬ হাজার ৩৮০ টাকা। ‘আলোকিত ১৪’ নামে পেজ থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ মিজানুল হক চৌধুরী ব্যয় করেছেন ৭৩ হাজার ৬৮৮ টাকা। চট্টগ্রাম-৯ আসনে বিএনপির আবু সুফিয়ান ব্যয় করেছেন ৬৭ হাজার ৯৫৪ টাকা। চট্টগ্রাম-৭ আসনে বিএনপির গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ব্যয় করেছেন প্রায় ৬৬ হাজার টাকা। চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির সরোয়ার আলমগীর খরচ করেছেন প্রায় ৫২ হাজার ৯৪৮ টাকা।
আইনি বাধ্যবাধকতা কী বলছে
রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা ২২(৪) ধারায় বলা হয়েছে, সামাজিক মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা বাবদ ব্যয় প্রার্থীর নির্ধারিত নির্বাচনী ব্যয়সীমার অন্তর্ভুক্ত হবে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২-এর বিধান অনুযায়ী, কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নির্বাচন খরচ-দলীয় ব্যয়সহ প্রতি ভোটারের জন্য ১০ টাকা বা সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা (যেটি বেশি) অতিক্রম করতে পারবে না।
সংশ্লিষ্টরা যা বলছেন
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মো. সাইদুজ্জামান বলেন, সব প্রার্থী তাদের ফেসবুক আইডি জমা দেননি। তবে ফেসবুকে কে কত ব্যয় করেছেন, তা তদারকি করা আমাদের এখতিয়ারে ছিল না।
নির্বাচন কমিশনের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞ জেসমিন টুলি বলেন, প্রার্থীর নির্ধারিত ব্যয়সীমার মধ্যে ডিজিটাল প্রচারের খরচও অন্তর্ভুক্ত। ব্যয়সীমার বেশি খরচ শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ জন্য প্রার্থিতাও বাতিল হতে পারে।
- বিষয় :
- ফেসবুক
