ইবিতে শহীদ মিনারে মোনাজাত ঘিরে হট্টগোল
জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ করে দ্বিতীয় দফায় মোনাজাত
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৮:২৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
ভাষাশহীদ স্মরণে আয়োজিত মোনাজাত ঘিরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাতে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত মোনাজাতে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ করা হয়নি। ছাত্রদল নেতাকর্মীদের প্রতিবাদের মুখে তাঁর নাম উল্লেখ করে দ্বিতীয় দফায় মোনাজাত করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, শুক্রবার রাত ১২টা ১ মিনিটে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরে বিভিন্ন বিভাগ, হল, শিক্ষক-কর্মকর্তা ও ছাত্রসংগঠন এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো শ্রদ্ধাঞ্জলি দেয়। এরপর সেখানে ভাষাশহীদ স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। তাঁদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত পরিচালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম ও খতিব আশরাফ উদ্দিন খান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ ছাড়া মোনাজাত শেষ করলে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানান শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ, সদস্য সচিব মাসুদ রুমী মিথুনসহ শতাধিক নেতাকর্মী মোনাজাতে জিয়াউর রহমানের নাম না নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। তারা প্রশাসনের কাছে পুনরায় মোনাজাত পরিচালনার দাবি জানান। এ সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ ও উপউপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এয়াকুব আলীসহ অন্যদের হস্তক্ষেপে ইমাম আশরাফ উদ্দিন খান দ্বিতীয়বার মোনাজাত পরিচালনা করেন। তিনি সেখানে জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ করেন।
সেখান থেকে যাওয়ার সময় বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক এস এম সুইটের সঙ্গে উপউপাচার্য ড. এম এয়াকুব আলীর তর্কাতর্কি হয়। তখন প্রশাসনের কর্মকর্তা ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় হট্টগোল দেখা দেয়।
ছাত্রদল নেতা সাহেদ আহম্মেদ বলেন, ‘মোনাজাতে শহীদ জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ না করা ইচ্ছাকৃত ভুল বলে মনে করছি। এর আগে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ইমাম কখনোই তাঁর নাম নিতে ভোলেননি। আমরা মনে করছি, উদযাপন কমিটি ও প্রশাসনের সিদ্ধান্তেই নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।’
এটি অস্বীকার করে দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ ধারণ করে রাজনীতি করে আসছি। তাদের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। মোনাজাতের সময় ইমাম সাহেব অনিচ্ছাকৃতভাবে শহীদ জিয়ার নাম উল্লেখ করতে ভুলে গেছেন। পরে তিনি ভুল স্বীকার করে পুনরায় মোনাজাত করেন। আমরাও সেই মোনাজাতে অংশ নিয়েছি।’
উপউপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী বলেন, দোয়ার আগেই তিনি ইমামকে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্য দোয়া করতে বলেছিলেন। হয়তো কোনো কারণে তিনি ভুলে গেছেন। মানুষের ভুল হতেই পারে। এ নিয়ে অতিরিক্ত হৈচৈ করার কিছু দেখছেন না তিনি।
- বিষয় :
- ইবি
