চিলাই নদীর রাবার ড্যাম ক্ষতিগ্রস্ত হুমকির মুখে বোরো ফসল
দোয়ারাবাজার-সংলগ্ন চিলাই নদী অংশে স্থাপিত রাবার ড্যামে লিকেজের কারণে নেমে যাচ্ছে আটকে রাখা পানি সমকাল
ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৮:৪৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় সরকারি অর্থায়নে নির্মিত চিলাই নদীর রাবার ড্যামটি ক্ষতিগ্রস্ত (লিকেজ) হয়েছে। যার ফলে সেচ সংকটের কারণে বোরো চাষ ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে দুশ্চিন্তা বাড়ছে স্থানীয় বোরোচাষিদের।
হাওর অধ্যুষিত এ অঞ্চলের স্থানীয় কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে চিলাই নদীতে নির্মাণ করা হয়েছিল এই রাবার ড্যাম। ড্যামের রাবার ব্যাগে লিকেজ দেখা দেওয়ায় বর্তমানে এটি অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, লিকেজ থাকায় ড্যামের মাধ্যমে পানি ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এতে উপজেলার বোগলাবাজার ইউনিয়নসহ আশপাশ এলাকায় বোরো ধান চাষাবাদ মারাত্মক সেচ সংকটের মুখে পড়তে পারে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভারতীয় সীমান্ত এলাকার মেঘালয় পাহাড়ঘেঁষা চিলাই নদীতে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) তত্ত্বাবধানে প্রায় ৭ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬৫ মিটার দীর্ঘ ও প্রায় সাড়ে ৪ মিটার উচ্চতার একটি রাবার ড্যাম নির্মাণ করা হয়।
প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১৭ সালের ১৮ জানুয়ারি। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হওয়ার পর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রায় দুই হাজার কৃষকের চার হাজার একর জমি সেচের আওতায় আসে। পাশাপাশি বছরে প্রায় এক লাখ টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।
প্রকল্পের আওতায় মাটি খনন, শিট পাইল ড্রাইভিং, বালি ভরাট, রাবার ড্যামের বেজ নির্মাণ, উইং ওয়াল ও রিটেনিং ওয়াল নির্মাণ, রাবার ব্যাগ স্থাপন, ফুটব্রিজ, পাম্প হাউস, গভীর নলকূপ এবং অফিস ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বর্তমানে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ড্যামটি কার্যকারিতা হারিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
চিলাই নদীর পাড়ে গিয়ে দেখা যায় ড্যামের রাবার ব্যাগ ফেটে পানি বের হয়ে যাওয়ায় উজানে পানি জমছে না। যে কারণে প্রায় এক হাজার ২০০ হেক্টর বোরো ফসলি জমিতে সেচ কার্যক্রম মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। পানির অভাবে অনেক জমি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। এতে চলতি মৌসুমে খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
এ অঞ্চলের বিশেষ করে বোগলাবাজার ও বাংলাবাজার ইউনিয়নের শত শত কৃষক পরিবার এখন চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছে। কৃষকদের ভাষ্য, পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় সেচ পাম্পগুলোও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে বিকল্প সেচ ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছে।
চিলাইপাড় গ্রামের বাসিন্দা মনির মিয়া, জয়নাল আবেদিন, শাহাব উদ্দিনসহ অনেক কৃষক জানিয়েছেন, রাবার ড্যাম নির্মাণের সময় কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক আশার সঞ্চার হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে ড্যামটি সঠিকভাবে কাজ না করায় তাদের প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, দ্রুত রাবার ড্যামটি মেরামত করে স্বাভাবিক সেচ কার্যক্রম চালু না করলে চলতি মৌসুমে ব্যাপক ফসলহানির আশঙ্কা রয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
বোগলাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মিলন খান বলেন, রাবার ড্যামে লিকেজ হয়ে পানি বের হয়ে যাওয়ায় প্রায় ১ হাজার ২০০ হেক্টর কৃষিজমি এখন হুমকির মুখে পড়েছে। চলতি বোরো মৌসুমে কৃষকদের বড় ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে। বিষয়টি সমাধানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সেচের সহকারী প্রকৌশলী কাজী হোসনে আর রাফি এ বিষয়ে বলেন, রাবার ড্যামে লিকেজের বিষয়টি নজরে এসেছে। ঘটনাস্থলে আমাদের লোক পাঠানো হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে রাবার ড্যামটি মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- ফসল
