ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ছেলেকে মালয়েশিয়া পাঠাতে গিয়ে সর্বস্বান্ত এক বাবা

ছেলেকে মালয়েশিয়া পাঠাতে গিয়ে সর্বস্বান্ত এক বাবা
×

শিবালয় (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৮:৫১ | আপডেট: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৩:৫৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

সংসারে সুদিন ফেরাতে ছেলেকে মালয়েশিয়া পাঠাতে চেয়েছিলেন আব্দুল খালেক শেখ। এ জন্য ছয় লাখ টাকা ব্যয় করে ছেলেকে দেশটিতে পাঠালেও সেখানে গিয়েই তাঁর ঠাঁই হয় কারাগারে। তিন দিন পর তাঁকে ফেরত পাঠায় মালয়েশিয়ার পুলিশ। প্রতিবেশী শরিফ শেখের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে আব্দুল খালেক এখন সর্বস্বান্ত।
এ ব্যাপারে গতকাল মঙ্গলবার মানিকগঞ্জের শিবালয় থানায় শরিফ শেখসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযুক্ত শরিফ শেখ শিবালয় উপজেলার কান্দা বাশাইল গ্রামের তফিজ উদ্দিন তাপালের ছেলে। 

স্থানীয়রা জানান, শরিফ শেখ তার প্রতিবেশী আব্দুল খালেক শেখের ছেলে আশরাফুল আলমকে মালয়েশিয়া পাঠানোর কথা বলে কয়েক দফায় পাঁচ লাখ টাকা নেন। এক পর্যায়ে আশরাফুল মালয়েশিয়া গেলে বিমানবন্দরেই তাঁকে আটক করে ওই দেশের পুলিশ। তিন দিন জেলহাজতে কাটে তাঁর। এ সময়ে আব্দুল খালেকের কাছ থেকে শরিফ শেখ আরও ৮০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। তিন দিন পরে আশরাফুলকে দেশে পাঠিয়ে দেয় মালয়েশিয়ার পুলিশ। এভাবে আব্দুল খালেকের কাছে থেকে পাঁচ লাখ ৯০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন শরিফ শেখ।

আশরাফুল আলমের বাবা আব্দুল খালেক শেখ বলেন, আমি দরিদ্র মানুষ। আমার হার্টে চারটি ব্লক ধরা পড়েছে। কোনো কাজকর্ম করতে পারি না। প্রতিবেশী শরিফ শেখ মালয়েশিয়ায় উচ্চ বেতনের আশ্বাস দিয়ে আমার ছেলে আশরাফুল আমলকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলেন। আমি এলাকার মানুষের কাছে থেকে ধারদেনা ও সুদে-কিস্তিতে সাড়ে চার লাখ টাকা নিয়ে তাকে দিই। আরও এক লাখ ৪০ হাজার টাকা দাবি করলে দুই শতাংশ জমির বাড়িটাও বন্ধক রেখে টাকা দিয়েছি। আমি এখন গৃহহীন। কিন্তু শরিফ আমার ছেলেকে মালয়েশিয়া পাঠাচ্ছেন না। টাকাও ফেরত দিচ্ছেন না।

আব্দুল খালেকের ছেলেকে বিদেশে পাঠোনোর কথা বলে টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে অভিযুক্ত শরিফ শেখ বলেন, আমার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। আইনগতভাবে যা হয়, আমি সেটি মেনে নেব। অনেককে বিদেশে পাঠানোর কথাও স্বীকার করেন তিনি।

ওই গ্রামের মাতবর নজরুল ইসলাম বলেন, শরিফ শেখ একই গ্রামের আশরাফুল আলমকে মালয়শিয়া পাঠানোর কথা বলে পাঁচ লাখ ৯০ হাজার টাকা নিয়েছেন আমাকে সাক্ষী রেখে। স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি। এ নিয়ে গ্রামে কয়েকবার সালিশও হয়েছে। শিবালয় থানর ওসি মনির হোসেন বলেন, একটি অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গতকালই পুলিশ ভুক্তভোগীদের বাড়িতে গিয়েছিল বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন

×