রাতভর বালু লুটপাট, হুমকিতে হরিণাপাঠি ও সোনাপুর
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৭:৫০
| প্রিন্ট সংস্করণ
রাতে ড্রেজার দিয়ে বালু লুটপাট করায় সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার রঙ্গারচর ইউনিয়নের হরিণাপাঠি ও সোনাপুর গ্রামের সামনে সুরমা নদীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে নদীর তীরবর্তী গ্রামের মানুষে আতঙ্কে আছেন। বালু লুট বন্ধে মানববন্ধন ও প্রশাসনকে অবগত করেও কোনো প্রতিকার না পাওয়াতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গ্রামবাসী।
ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী গতকাল বুধবার ভোরে বালু লুটের সময় হরিণাপাঠি ও সোনাপুর গ্রামবাসী নদীতে ধাওয়া করে বালুভর্তি স্টিলবডি নৌকা আটক করে। পরে পুলিশে খবর দিলে ঘটনাস্থলে এসে জব্দকৃত নৌকা সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানা হেফাজতে নেওয়া হয়।
এলাকাবাসী জানান, রঙ্গারচর ইউনিয়নের সুরমা নদীর তীরে দুই-তিনটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের বসবাস। অবাধে বালু লুটপাট করায় হরিণাপাঠি ও সোনাপুর গ্রামের বাজারসহ বেশ কয়েক জায়গায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে নদী ভাঙনের কবলে পড়ে বসতভিটা হারিয়ে অন্যত্র চলে গেছে অনেক পরিবার। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী বালুখেকো চক্র রাতে নদীতে ড্রেজার লাগিয়ে বালু লুটপাট করে যাচ্ছে। এতে নদীর তীরবর্তী স্থানীয় বাজার, মসজিদ ও বাড়িঘর হুমকির মুখে পড়েছে। প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছত্রছায়ায় নদীর তীর থেকে ড্রেজার বসিয়ে এসব বালু লুটপাট হচ্ছে বলে অভিযোগ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
রাতের আঁধারে বালু লুট বন্ধে এলাকাবাসী মানববন্ধন ও স্থানীয় প্রশাসনকে অবগত করলেও কোনো পদক্ষেপ না নেওয়াতে চক্রটি বেপরোয়া হয়ে বালু লুট করছে। প্রশাসনের সহায়তা না পেয়ে নিজেদের বসতভিটা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন এলাকাবাসী। সাহ্রির পর নদীতে ড্রেজারের শব্দ শুনে বালুভর্তি নৌকা আটক করে পুলিশে খবর দেন গ্রামবাসী। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে নৌকাটি তাদের হেফাজতে নিয়ে যায়।
গ্রামবাসীর অভিযোগ, বালু লুটের সঙ্গে জড়িত হরিণাপাঠি এলাকার হেলাল, নুফুর, আক্তার হোসেন ও আইন উদ্দীন।
স্থানীয় বাসিন্দা ইব্রাহিম বলেন, নদীতে ড্রেজার বসিয়ে বালু লুটের কারণে পারের ভাঙন তীব্র হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে অনেক পরিবারকে বসতভিটা হারাতে হবে।
কিছুদিন আগে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি আব্দুল হাই একটি ছোট নৌকা আটকের পরে সেটি ভাঙা হয়। পরে আবার স্থানীয় একটি চক্রের প্রভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলন শুরু হয়।
আবু সাইদ বলেন, বালু লুটের চক্র প্রভাবশালী হওয়াতে তাদের নাম নিতে ভয় পায় মানুষ। প্রশাসন যদি কঠোর ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে নদীর তীর রক্ষা করা যাবে না।
রঙ্গারচর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল হাই জানান, নদীতে বসতভিটা হারিয়ে অনেকে অন্যত্র চলে গেছেন। এলাকাবাসী মিলে নদীর তীর রক্ষার লড়াই করছেন।
এসআই ফরিদ হোসেন জানান, গ্রামবাসী মিলে বালুভর্তি নৌকা আটক করে পুলিশে খবর দিলে তারা এসে ব্যবস্থা নেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত হেলাল উদ্দিন বললেন, বালু লুটের সঙ্গে তারা জড়িত নন। নদীতে তাঁর কোনো নৌকাও নেই।
- বিষয় :
- বালুদস্যু
