ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বকেয়া কিস্তি নিতে আসা কর্মকর্তাকে টেঁটার আঘাত

বকেয়া কিস্তি নিতে আসা কর্মকর্তাকে টেঁটার আঘাত
×

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৯:২৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে গ্রাহকের কাছ থেকে ঋণের কিস্তি আদায়ে গিয়ে টেঁটার আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের মানিকদী পূর্বকান্দা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী প্রদীপ চন্দ্র দাস (৩৬) বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা পদক্ষেপে সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট ট্রেনিং অফিসার হিসেবে কর্মরত। তিনি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী, বাজিতপুর, কুলিয়ারচর ও ভৈরব উপজেলায় সংস্থাটির আঞ্চলিক ব্যবস্থাপকের দায়িত্বে আছেন। সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভৈরবের পূর্বকান্দা গ্রামের রোজিনা আক্তার পদক্ষেপের সদস্য। তিনি পরিবারের সদস্যদের গ্রাহক সাজিয়ে নিজেসহ ১০ লক্ষাধিক টাকার ঋণ নিয়েছেন। কয়েকটি কিস্তি দেওয়ার পর বাকি টাকা দিতে বারবার অনীহা প্রকাশ করেন। এ ঘটনায় মাঠকর্মীরা একাধিকবার তাঁর বাড়িতে যায়। 
দুই দিন আগে রোজিনা আক্তার ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে বকেয়া আদায় করতে যান পদক্ষেপের মাঠকর্মী অঙ্কর কুমার সরকার। এ সময় রোজিনার স্বামী মো. সেন্টু মিয়া দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের তাড়া করেন। তারা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে জানান। বৃহস্পতিবার দুপুরে পদক্ষেপের কর্মকর্তা প্রদীপ চন্দ্র দাস দুই মাঠকর্মীকে নিয়ে রোজিনার বাড়িতে যান। বকেয়া কিস্তি নিয়ে আলোচনার মধ্যে দুই পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। হঠাৎই রোজিনার স্বামী মো. সেন্টু মিয়া দৌড়ে এসে টেঁটা দিয়ে প্রদীপ চন্দ্র দাসের বুকে আঘাত করেন। অন্য মাঠকর্মীরা দ্রুত তাঁকে এলাকাবাসীর সহায়তায় রক্তাক্ত অবস্থায় কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। 

ওই হাসপাতালের চিকিৎসক স্বস্তিকা হাসিন বলেন, গুরুতর অবস্থায় প্রদীপ চন্দ্র দাসকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাঁর বুকের ডান পাশে আঘাত লেগেছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাঁকে রেফার করেছেন।
মাঠকর্মী অঙ্কুর কুমার সরকারের ভাষ্য, ‘রোজিনা আক্তার, তাঁর শাশুড়ি, ননদসহ আত্মীয়স্বজনকে নিয়ে আমাদের এনজিও থেকে বড় অঙ্কের টাকা লোন নিয়েছেন। কিন্তু ঠিকমতো কিস্তি দিতে 
পারেননি। কিস্তির টাকা চাইতে গেলে আমাদের হুমকি-ধমকি দেন। আজকে (বৃহস্পতিবার) তারা আমাদের খবর দিয়ে নিয়ে যান কিস্তির টাকা দেবেন বলে। টাকা না দিয়ে উল্টো আমাদের ওপর হামলা করেছেন।’ তিনি জানিয়েছেন, গুরুতর অবস্থায় তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রদীপ চন্দ্র দাসকে বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। তিনি সুষ্ঠু তদন্ত করে এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
সেন্টু মিয়ার ভায়রা আব্দুল হাসিমের ভাষ্য, সেন্টু বিভিন্ন এনজিও থেকে প্রায় ৩২ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন। তিনি এনজিওর কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে সমাধানের চেষ্টা করছেন। বৃহস্পতিবার 
বাড়িতে যাওয়া এনজিওকর্মীকে টেঁটা দিয়ে আঘাতের বিষয়টি দুঃখজনক।
ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দ বলেন, কিস্তির টাকা আনতে গিয়ে আহত হওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। 

আরও পড়ুন

×