ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

লালন স্মরণোৎসব কাল

লালন স্মরণোৎসব কাল
×

গানে মগ্ন লালন স্মরণোৎসবে আসা সাধু-ফকিরেরা। গতকাল শনিবার দুপুরে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় ছেঁউড়িয়ার আখড়াবাড়ীতে সমকাল

কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২৬ | ০৮:৩৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেউড়িয়ায় প্রতি দোলপূর্ণিমা তিথিতে উদযাপিত হয় ফকির লালন শাহ স্মরণোৎসব। এই আয়োজনে অংশ নিতে আখড়াবাড়ীতে আসছেন সাধু-গুরু, লালনভক্তরা। অন্যান্যবার তিন দিনের হলেও এবার রমজানের কারণে আয়োজন এক দিনের। আগামীকাল সোমবার দুপুরে শুরু হবে এই উৎসব। তবে থাকছে না সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মেলা। 
আখড়াবাড়ীর ভারপ্রাপ্ত খাদেম মশিউর রহমান জানিয়েছেন, এবার সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের সহায়তায় আলোচনা অনুষ্ঠান ও বাউলদের আপ্যায়নের মধ্য দিয়েই মঙ্গলবার দুপুরে শেষ হবে আয়োজন। সাধুসঙ্গ চলবে রীতি অনুসারে।

উৎসবে যোগ দিতে কয়েক দিন আগে থেকেই আখড়াবাড়ীতে আসতে শুরু করেছেন লালনভক্ত বাউল-ফকিররা। কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে লালনের গান। তারা দলে দলে ভাগ হয়ে আসন পেতে বসেছেন; করছেন নিজেদের মধ্যে ভাববিনিময়। গতকাল শনিবার দুপুরে সেখানে কথা হয় ঢাকা থেকে আসা ফকির ফাহিমের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘সারা বছর এই দিনের অপেক্ষায় থাকি। দোল উৎসবে দেশ-বিদেশের বাউল ও সাধুরা আখড়াবাড়ীতে আসেন। একে অপরের মধ্যে ভাববিনিময় হয়।’

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাসী মিজানুর রহমান বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই লালনের গান শুনে আসছি। সেই টানে এবার প্রথমবারের মতো আখড়াবাড়ীতে আসা। এখানে বসে বাস্তবতা অনুভব করছি।’
মানিকগঞ্জ থেকে আসা সাধু তোফাজ্জেল হোসেন বলেন, সাঁইজির প্রেমের টানে, মায়ার টানে কয়েক দিন আগেই আখড়াবাড়ীতে এসেছি। এবার পবিত্র রমজানের কারণে উৎসব একটু কম হবে। তবুও আসতে পেরে খুশি।

চুয়াডাঙ্গার শান্ত ফকির বলেন, ‘শুভ কাজ করতে গেলে একটা শুভদিন লাগে। সেই শুভদিন উপলক্ষে এই দোলপূর্ণিমা পূর্ণ হয়। তাই এই দিনে লালন ফকির জ্ঞানী-গুণী ও ভক্তদের নিয়ে সমাবেশ করতেন। সেই থেকেই আমরা গুরুপরম্পরা এসে থাকি সাঁইজির প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থেকে। এখানে এলে আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে জ্ঞানচর্চা হয়, তাত্ত্বিক উন্নতি হয়, মানসিক উন্নতি হয়।’
আখড়াবাড়ীর ভারপ্রাপ্ত খাদেম মশিউর রহমান বলেন, ‘সোমবার সন্ধ্যায় গুরুকার্য দিয়ে শুরু হবে সাধুসঙ্গ। এর পর রাখাল সেবা, মধ্যরাতে অধিবাস, মঙ্গলবার ভোররাতে বাল্যসেবা ও দুপুরে পূর্ণসেবার মধ্য দিয়ে সাধুসঙ্গ শেষ হবে। পবিত্র মাহে রমজানের কারণে এবার অনুষ্ঠান সীমিত। লোকসমাগমও অনেক কম হতে পারে।’
কুমারখালীর ইউএনও ফারজানা আখতার বলেন, উৎসবের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে মাজারসংলগ্ন এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য পর্যাপ্ত পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। আগত বাউল সাধক, ভক্ত, অনুরাগী ও দর্শনার্থীদের সহায়তা করতে 
গ্রাম পুলিশ, স্বেচ্ছাসেবক দল ও মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

×