ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

শ্বাসনালি কেটেছে ইরার বলতে পারছে না কথা

শ্বাসনালি কেটেছে ইরার বলতে পারছে না কথা
×

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ মার্চ ২০২৬ | ০৭:৫৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামে সীতাকুণ্ডের দুর্গম পাহাড় থেকে গলাকাটা অবস্থায় উদ্ধার মেয়েটির (৮) শ্বাসনালি কেটে গেছে। যে কারণে সে কথা বলতে পারছে না। রোববার রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার গলায় অস্ত্রোপচার হয়েছে। বর্তমানে শিশুটি ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেলে (ওসিসি) আছে। 

রোববার দুপুরে উপজেলার বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্ক এলাকায় সড়কের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকেরা জান্নাতুর নাঈমা ইরা (৭) নামের শিশুটিকে উদ্ধার করে। সে উপজেলার কুমিরা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ার রিকশাচালক মো. মনিরুল ইসলামের মেয়ে। মসজিদ্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ইরা। এ ঘটনায় রোববার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মনিরুল ইসলামকে হেফাজতে নিয়েছিল পুলিশ। তাঁকে রাতেই ছেড়ে দেওয়া হয়। 

ইকোপার্ক সড়কের কর্মরত শ্রমিকেরা শিশুটির রক্তাক্ত গলা বেঁধে রোববার ট্রাকে করে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক, কান ও গলা ওয়ার্ডে তাকে ভর্তি করা হয়। এদিক রাতেই অস্ত্রোপচার করা হলে শিশুটির অবস্থার উন্নতি হয়। সোমবার তাঁকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে ড্রেসিং করা হয়। ইরার বড় বোন জান্নাতুল ফেরদৌস জানিয়েছেন, ইরার হাত-পা নাড়ছে, নিঃশ্বাস ও চোখ স্বাভাবিক হয়েছে। 

এ ঘটনায় শিশুটির মা রোকেয়া বেগম সীতাকুণ্ড মডেল থানায় মামলা করেছেন। তবে এতে কাউকে আসামি করা হয়নি। বাদী এজাহারে উল্লেখ করেছেন, বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় জান্নাতুল নাইমা ইরা প্রতিদিন দাদার বাড়িতে যায়। ২-৩ ঘণ্টা পর আবার ফিরে আসে। রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় সময় দাদার বাড়িতে যাওয়ার পথে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা তাকে ফুসলিয়ে সীতাকুণ্ড পৌরসভার ইকোপার্কের ভেতরে বিমানবাহিনীর টাওয়ারের দক্ষিণ পাশে ঝর্ণামুখী রাস্তার পাশে নিয়ে যায়। দুপুর গড়িয়ে গেলেও মেয়ে বাড়িতে না আসায় তারা খোঁজাখুঁজি করেন। পরে ফেসবুকে জানতে পারেন, মেয়েটিকে গলাকাটা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। পরে পরিবারের লোকজন নিয়ে ঘটনাস্থলে যান।
পুলিশ দুই দিনেও এ ঘটনার ক্লু উদঘাটন করতে পারেনি। সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, তদন্তে পুলিশ টিম কাজ করছে। শিশুকন্যাটি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের এলোমেলো কথাবার্তা বলেছিল। এ কারণে তার বাবা মনিরুল ইসলামকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পরে তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন গতকাল সোমবার সমকালকে বলেন, রোববার শিশুটির অপারেশন হয়েছে। শিশুটিকে এখন ওসিসিতে রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন

×