সাতক্ষীরার শ্যামনগর
সংবাদের জেরে হাতুড়ি দিয়ে পিটুনি
প্রেস ক্লাবে ঢুকে হামলা, অভিযোগ যুবদল নেতকর্মীদের বিরুদ্ধে
হামলায় আহত শ্যামনগর প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক সমকালের উপজেলা প্রতিনিধি সামিউল মনির হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গতকাল সোমবার শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তোলা -সমকাল
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ মার্চ ২০২৬ | ০৮:৩৮ | আপডেট: ০৩ মার্চ ২০২৬ | ১২:১৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
বালু নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে উপজেলা যুবদল নেতার নেতৃত্বে সাতক্ষীরার শ্যামনগর প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও সমকালের উপজেলা প্রতিনিধি সামিউল মনিরের ওপর হামলা করেছে দলটির নেতাকর্মীরা। গতকাল সোমবার দুপুর ১২টার দিকে তারা প্রেস ক্লাব থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে তাঁর ওপর নির্যাতন চালায়। সামিউল মনির উপজেলার মুন্সীগঞ্জ কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক।
খবর পেয়ে শ্যামনগর থানা পুলিশ উপজেলা পরিষদসংলগ্ন প্রেস ক্লাব চত্বরে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করে। গুরুতর আহত অবস্থায় মনিরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনার পর শ্যামনগর বাসস্ট্যান্ড থেকে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। তারা হলেন শ্যামনগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জি এম বাবলুর রহমান ও বিএনপি কর্মী আব্দুর রহিম।
প্রত্যক্ষদর্শীসহ উপজেলা প্রেস ক্লাবে অবস্থানরত জুবায়ের মাহমুদ, মিজানুর রহমানসহ সাংবাদিকরা জানান, গতকাল দুপুরে শ্যামনগর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আনোয়ারুল ইসলাম আঙ্গুর, যুবদল নেতা মিজান, মফু খাঁসহ নেতাকর্মীরা শ্যামনগর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে ‘শ্যামনগরের সর্বস্তরের জনগণ’ ব্যানারে একটি মিছিল বের করে। মিছিলটি প্রেস ক্লাব চত্বরে এসে মানববন্ধন করে। মানববন্ধনে প্রেস ক্লাব সভাপতি সামিউল মনিরের বিরুদ্ধে নানা মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়।
এক পর্যায়ে যুবদল সদস্য সচিব আঙ্গুর, বাবলু, মিজান, মোতালেবসহ ২৫ থেকে ৩০ নেতাকর্মী প্রেস ক্লাবের ভেতরে ঢুকে সামিউল মনিরের ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়। উপস্থিত সাংবাদিকরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে তাদেরও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, হামলাকারীরা সমকাল প্রতিনিধিকে মারতে মারতে প্রেস ক্লাব চত্বরের বাইরে নিয়ে ইট, হাতুড়িসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। পরে পুলিশের সহায়তায় তাঁকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক শাকির হোসেন জানান, মনিরের মাথার বাঁ পাশে শক্ত কিছু দিয়ে গুরুতর আঘাত করা হয়েছে। শরীরের বিভিন্ন অংশে হাতুড়ি ও লোহার রডের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
গত ২৩ ফেব্রুয়ারি দৈনিক সমকালে ‘যুবলীগ-যুবদল-যুব বিভাগ মিলে বালু লুট’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর পর থেকে সমকাল প্রতিনিধিকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছিল।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সামিউল মনির জানান, সকালে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রেস ক্লাবের দিকে যাচ্ছিলেন। প্রেস ক্লাবের মানববন্ধন দেখে তিনি ভিডিও ধারণ করেন। ওই সময় আনোয়ার ইসলাম আঙ্গুর ও তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে ভেঙে ফেলে। এর পর তিনি প্রেস ক্লাবের ভেতরে ঢুকে গেলে তারা সেখানে হামলা চালায়। এই সময় তারা ক্লাবের জিনিসপত্র ভাঙচুরসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে যায়।
সামিউল মনিরের ওপর হামলার ঘটনায় শ্যামনগরে কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা প্রেস ক্লাবের মতো একটি পেশাজীবী সংগঠনের কার্যালয়ে ঢুকে হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে শ্যামনগর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আনোয়ারুল ইসলাম আঙ্গুর বলেন, রোববার বিকেলে প্রেস ক্লাবের সভাপতি রহিম নামে একজনকে মারধর করার প্রতিবাদে ব্যবসায়ীরা সোমবার মানববন্ধনের আয়োজন করে। ওই সময় ব্যবসায়ীদের গালাগাল করতে থাকেন সামিউল মনির। এতে হামলার ঘটনা ঘটে। নিজেকে নির্দোষ দাবি করে তিনি বলেন, আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করা হচ্ছে।
উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম দুলু জানান, হামলার খবর শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি প্রেস ক্লাব সভাপতির খোঁজখবর নিয়েছেন। হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন।
ঘটনার বিষয়ে শ্যামনগর থানার ওসি খালেদুর রহমান জানান, এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন ও জড়িতদের মধ্যে দুজনকে আটক করা হয়েছে।
শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জাহান কনক বলেন, থানাকে অবহিত করা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হামলার ঘটনা শুনে প্রেস ক্লাবে যান সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনকে বলা হয়েছে।
- বিষয় :
- পিটুনি
- শ্যামনগর
- যুবদল নেতা
- হামলা
- সাংবাদিক
