ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

গলায় ছুরি চালিয়ে মৃত ভেবে ফেলে যায়

সীতাকুণ্ডে শ্বাসনালি কাটা সেই শিশু মারা গেছে, মূল আসামি গ্রেপ্তার

গলায় ছুরি চালিয়ে মৃত ভেবে ফেলে যায়
×

জান্নাতুল নাইমা ইরা

 কক্সবাজার ও সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৪ মার্চ ২০২৬ | ০৮:৪০ | আপডেট: ০৪ মার্চ ২০২৬ | ০৮:৪৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পাহাড়ি এলাকা থেকে শ্বাসনালি কাটা অবস্থায় উদ্ধার সাত বছরের মেয়েটি মারা গেছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল মঙ্গলবার ভোরে তার মৃত্যু হয়। পরে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ঘটনায় জড়িত বাবু শেখ (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

দায় স্বীকার করে বাবু জানিয়েছে, শিশুটির পরিবারের সঙ্গে তার বিরোধ ছিল। এর জেরে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী গত রোববার সকালে তাকে ফুসলিয়ে ১০-১২ কিলোমিটার দূরে পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। শিশুটি এ ঘটনা বলে দিতে চাওয়ায় কাছে থাকা ছুরি দিয়ে তার গলায় আঘাত করে বাবু। এরপর মৃত ভেবে ফেলে চলে যায়।

মঙ্গলবার রাতে সীতাকুণ্ড মডেল থানায় প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। এর আগে দুপুর ১২টায় সীতাকুণ্ডের কুমিরা ইউনিয়নের কাজীপাড়া এলাকা থেকে বাবুকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থানার মধ্য পুলুপাড়া গ্রামে। কুমিরা এলাকায় থেকে শ্রমিক হিসেবে কাজ করত বাবু। হত্যার শিকার শিশুর নাম জান্নাতুল নাইমা ইরা। সে কুমিরা ইউনিয়নের মাস্টারপাড়ার মনিরুল ইসলাম ও রোকেয়া বেগম দম্পতির মেয়ে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে চট্টগ্রামের এসপি নাজির আহমেদ খান বলেন, বাবু জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, শিশুটির বাবার সঙ্গে তার বিরোধ ছিল। তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। বিরোধের জেরে প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করে বাবু। সে অনুযায়ী রোববার সকালে বাড়ির পাশ থেকে মেয়েটিকে চকলেট কিনে দিয়ে বেড়াতে নেওয়ার কথা বলে বাসে করে সাত-আট কিলোমিটার দূরে সীতাকুণ্ড বাসস্ট্যান্ডে নিয়ে যায়। এরপর হেঁটে বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্কের ভেতর থেকে তিন-চার কিলোমিটার দূরে পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। শিশুটি সবাইকে বলে দেওয়ার হুমকি দেয় এবং চিৎকার করে। এ সময় ছুরি দিয়ে তার গলায় আঘাত করে বাবু। মৃত ভেবে শিশুটিকে ফেলে সে সটকে পড়ে। এরপর ধীরে ধীরে পাহাড়ের সড়ক ধরে নামতে থাকে মেয়েটি। সেখানে কাজ করা শ্রমিকরা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে উদ্ধার করে প্রথমে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ইকোপার্কের সিসি ক্যামেরায় শিশুটির হাত ধরে বাবু শেখের হেঁটে যাওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে। সীতাকুণ্ড মডেল থানার পুলিশ ফুটেজটি সংগ্রহ করে বাবুকে শনাক্তের পর আটক করে। এসপি জানান, রোববার সীতাকুণ্ড মডেল থানায় শিশুটির মা অজ্ঞাতপরিচয় আসামির বিরুদ্ধে অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার মামলা করেছিলেন। সেটি এখন হত্যা মামলায় পরিণত হবে। এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হবে বাবুকে।

গৃহবধূকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ
কক্সবাজারের উখিয়ায় ঘরে ঢুকে প্রবাসীর স্ত্রীকে (৩০) ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার ভোরে উপজেলার হলদিয়াপালং ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত নারীর ভাশুর বলেন, ‘আমার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী দুই শিশু সন্তান নিয়ে ঘরে একাই থাকত। ভোরে সে সাহ্‌রি খাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। হঠাৎ দু-তিনজন দরজা ভেঙে ঘরে ঢোকে। সে চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসে। এরপর দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। ঘরে ঢুকে তাকে রক্তাক্ত ও মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে হত্যার আগে ধর্ষণ করেছে দুর্বৃত্তরা। স্থানীয় একজনের সঙ্গে আমার ছোট ভাইয়ের জমি-সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। এর জেরে হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।’ উখিয়া থানার ওসি নুর আহম্মদ জানান, এ ঘটনায় তদন্ত চলছে।

আরও পড়ুন

×