ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

নারী দিবসের বাইরে নেই শ্রমজীবী নারীর গল্প

নারী দিবসের বাইরে নেই শ্রমজীবী নারীর গল্প
×

মাধবপুরের জগদীশপুর বাগান থেকে চা পাতা তোলার পর কারখানায় ফিরছেন নারী শ্রমিকরা। শুক্রবার তোলা ছবি: সমকাল

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২৬ | ১১:৩৬

মাধবপুর উপজেলার চা বাগান, কৃষি ও শিল্প খাতে কর্মরত হাজারো নারী শ্রমিক নীরবে কঠোর পরিশ্রম করে সংসারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। সংসার চালানো থেকে শুরু করে সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে তারা প্রতিদিন লড়ছেন সময় ও সমাজের নানা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস এলেই তাদের জীবনসংগ্রাম, পরিশ্রম ও প্রত্যাশার কথাগুলো সামনে আসে। দিবসের সঙ্গে আবার তা চলে যায় অন্তরালে। এমনই বাস্তবতাই জানালেন মাধবপুর উপজেলার পাঁচটি চা বাগানে কর্মরত নারী শ্রমিকরা।

নারী চা শ্রমিকরা বলেন, ভোরের আলো ফোটার আগেই ঝুড়ি হাতে বাগানের পথ ধরেন তারা। দিনভর খাটুনি শেষে ঘরে ফিরে সংসারের কাজ। জীবন ও জীবিকার দায়ে কেউ কেউ বাড়তি কাজও করেন। তাদের সমস্যা ও সংকট দিবসের আলোচনায় এলেও সমাধান আসে না অনেক ক্ষেত্রেই।

নোয়াপাড়া চা বাগানের নারী শ্রমিক নীলমণি রেলি বলেন, সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কাজ করেও মজুরি খুব বেশি নয়। তবুও সংসারের তাগিদে কাজ চালিয়ে যেতে হয়। সংসারে উপার্জনের মানুষ কম। তাই বাগানের কাজই ভরসা।

শুধু চা বাগানেই নয়, উপজেলার আশপাশের গ্রামগুলোতে কৃষিকাজেও নারীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য। ধান রোপণ, আগাছা পরিষ্কার, সবজি চাষ ও ফসল কাটার কাজে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। অনেক সময় পুরুষের সঙ্গে সমান পরিশ্রম করলেও মজুরির ক্ষেত্রে পার্থক্যের অভিযোগ রয়েছে।

বৈকুণ্ঠপুর চা বাগানের নারী শ্রমিক মমতা চাষা জানান, মৌসুম এলেই মাঠে কাজের চাপ বেড়ে যায়। ধান লাগানো কিংবা ফসল কাটার সময় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠেই থাকতে হয়। বাড়িতে ফিরে আবার রান্না ও পরিবারের কাজ সামলাতে হয়। শিল্পকারখানায় যারা কাজ করেন, তারা তুলনামূলকভাবে কিছুটা ভালো অবস্থায় আছেন।

মমতা বলেন, জাতীয় দিবসগুলোতে তাদের নিয়ে কথা হলেও প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত করা হয় না। সরকারিভাবে নারীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হলে তারা আরও ভালো করতে পারতেন।

মাধবপুরে গড়ে ওঠা বিভিন্ন শিল্পকারখানায়ও কাজ করছেন অনেক নারী। ফাতেমা বেগম নামে এক নারী শ্রমিক জানান, তিনি দুই মেয়েকে নিয়ে একটি কারখানায় কাজ করেন। নারী দিবস সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনি তেমন কিছু জানেন না। কারখানায় কাজ করে এখন আগের তুলনায় সংসার কিছুটা ভালো চলছে।

ফাতেমা বলেন, তাদের মতো হাজার হাজার নারী এখন মাধবপুরের শিল্পকারখানায় কাজ করছেন। এতে সংসার চালাতে সুবিধা হচ্ছে। স্বল্পআয়ের মানুষ তারা। বিশেষ দিবসে শ্রমজীবী নারীদের নিয়ে কথা হলেও তাদের এরসঙ্গে সম্পৃক্ততা নেই।

তেলিয়াপাড়া চা বাগানের নারী শ্রমিক শিউলি তাঁতী বলেন, নারীরা সরাসরি শ্রমের সঙ্গে জড়িত। কিন্তু বাগানের বাইরে সরকারিভাবে তেমন কোনো সহায়তা পান না। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে মাধবপুর উপজেলা পরিষদে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

তেলিয়াপাড়া চা বাগানের ইউপি সদস্য সাইমন মর্মু বলেন, চা বাগান, কৃষি ও শিল্প খাতে কর্মরত এসব নারী শ্রমিকের নীরব পরিশ্রমেই দেশের অর্থনীতির একটি বড় অংশ সচল রয়েছে। তাই তাদের সম্মান, অধিকার ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা সবার কর্তব্য।

আরও পড়ুন

×