ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

আলমগীর হত্যার জেরে ৪০ বাড়িতে প্রতিপক্ষের তাণ্ডব

আলমগীর হত্যার জেরে ৪০ বাড়িতে প্রতিপক্ষের তাণ্ডব
×

মাদারীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৬ | ০৮:৪০

| প্রিন্ট সংস্করণ

মাদারীপুর সদর উপজেলার ‘নতুন মাদারীপুর’ গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আলমগীর হাওলাদার (৪৫) হত্যার জেরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ও প্রতিশোধ নিতে প্রতিপক্ষের অন্তত ৪০টি বসতবাড়িতে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং যৌথ বাহিনীর প্রবেশ ঠেকাতে রাস্তায় গাছ কেটে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে দাঙ্গাবাজরা। বুধবার সকালে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

জানা গেছে, মাদারীপুর পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর আক্তার হাওলাদার এবং হাসান মুন্সী পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর এই দুই পক্ষ ফের মুখোমুখি দাঁড়ায়। গত ২৩ মার্চ শ্রমিক দলের কমিটি গঠন নিয়ে সংঘর্ষে হাসান মুন্সীর ভাই সদর উপজেলা শ্রমিক দলের একাংশের সভাপতি শাকিল মুন্সী নিহত হন। মঙ্গলবার সকালে আক্তার হাওলাদারের সমর্থক আলমগীর হাওলাদারকে একা পেয়ে কুপিয়ে ও হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন করে হত্যা করে প্রতিপক্ষ হাসান মুন্সীর লোকজন।
হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে মঙ্গলবার রাতে আলমগীরের সমর্থকরা বিএনপি নেতা লাবলু হাওলাদার ও হাসান মুন্সীর বাড়িসহ অন্তত ৪০টি ঘরে হামলা চালায়। তারা ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও মালপত্র লুটপাটের পর আগুন ধরিয়ে দেয়। প্রশাসনের গাড়ি আটকাতে প্রধান সড়কে বড় বড় গাছ কেটে ফেলে রাখা হয়। 

ক্ষতিগ্রস্ত হামুমন নেছা বলেন, ‘আমার ছেলে বিদেশে থাকে, কোনো দল করে না। অথচ রাতে এসে আমাদের ঘর পুড়িয়ে দিল। আমি এর বিচার চাই।’ আরেক ভুক্তভোগী ডালিয়া আক্তার বলেন, ‘আমাদের ঘরে কিছুই নেই, সব লুট করে নিয়ে গেছে। শুধু পরনের কাপড়টা ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।’
নিহত আলমগীরের বোন লাইজু আক্তার অভিযোগ করেন, পুলিশ তাদের পক্ষের নেতা আক্তার কমিশনারকে দ্রুত গ্রেপ্তার করলেও মূল খুনিরা শহরে ঘুরে বেড়ালেও তাদের ধরছে না। তিনি দাবি করেন, প্রতিপক্ষ নিজেরা ঘরে আগুন দিয়ে তাদের ওপর দোষ চাপাচ্ছে। তিনি তাঁর ভাইয়ের হত্যাকারীদের ফাঁসি দাবি করেন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক বলেন, হত্যার ঘটনায় ৮৬ জনের নামে মামলা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন ঘটে, এমন কোনো কাজ কাউকে করতে দেওয়া হবে না। 

আরও পড়ুন

×