চাকরি দেওয়ার আশ্বাসে প্রতারণা
ফরিদপুর অফিস
প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০২৬ | ০৮:২১
| প্রিন্ট সংস্করণ
ফরিদপুরে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি বিদ্যালয়ের দপ্তরির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সোহেল রানা নামের এক ভুক্তভোগী মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। সোহেল ফরিদপুর সদর উপজেলার গুহলক্ষ্মীপুর এলাকার বাসিন্দা।
গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে দেওয়া লিখিত অভিযোগে সোহেল দাবি করেন, ফরিদপুর সদর উপজেলার আনছারউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের দপ্তরি কাজী রফিক চাকরি দেওয়ার কথা বলে তাঁর কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। রফিক নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন রেখে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। ওই সময় রফিক দাবি করেন যে, সাবেক জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, যিনি তখন আনছারউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ছিলেন, তাঁর মাধ্যমে স্কুলে অফিস সহায়ক পদে চাকরি দেওয়া সম্ভব। এ আশ্বাসে তিনি জামানত হিসেবে রফিককে পাঁচ লাখ টাকা দেন।
শুধু সোহেল রানা নন, আরও কয়েকজন ব্যক্তি একই ধরনের প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ভাষানচর এলাকার আব্দুল মতিন নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরে অফিস সহায়ক পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ১০ লাখ টাকা নেন রফিক। এ ছাড়া আনছারউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে মো. সালাউদ্দিন নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
একই অভিযোগে আরও বলা হয়, বিদ্যালয়ের আয়া পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে মর্জিনা নামের এক নারীর কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা এবং বাখুন্ডা গ্রামের সাব্বির হোসেনের কাছ থেকে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে অফিস সহায়ক পদে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন রফিক। সোহেল রানা জানান, কাজী রফিক তাঁকে স্কুলের অফিস সহায়ক পদে চাকরি তো দেনইনি, এখন টাকা ফেরত দিতে অস্বীকার করছেন। এই প্রতারকের মাধ্যমে আর যেন কেউ প্রতারিত না হয় এজন্য তাকে আইনের আওতায় আনা উচিত। ভুক্তভোগী মো. সালাউদ্দিন বলেন, উচ্চমহলে যোগাযোগ থাকার গল্প বলে আমার কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন দপ্তরি রফিক। তিনি নিজের পরিচয় গোপন করে ফাঁদে ফেলেছেন। আমি যাচাই-বাছাই না করে সরল বিশ্বাসে টাকা দেই। এখন টাকা ফেরত পেতে তার পেছনে ঘুরছি।
এসব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন কাজী রফিক। তিনি বলেন, যারা আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন তাদের আমি চিনি না। তাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার প্রশ্নই আসে না।
আনছারউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু জাফর শেখ জানান, কাজী রফিকের বিরুদ্ধে এমন কোনো অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অবগত নয়।
ফরিদপুর সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হাসান বলেন, অভিযোগের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হবে। তদন্তে যদি সত্যতা পাওয়া যায় তবে বিধি অনুসারে ওই দপ্তরির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- প্রতারণা
