ডুমুরিয়ায় সড়কের পাশে হাটবাজার ও দোকানপাট, দুর্ভোগ
খুলনার ডুমুরিয়ায় দৌলতপুর-শাহাপুর সড়কে গরুর হাটের কারণে সৃষ্ট যানজট। ছবি: সমকাল
ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৬ | ১০:৫৮
ডুমুরিয়া উপজেলার অভ্যন্তরে খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়ক ও দৌলতপুর-শাহাপুর সড়কের দুপাশজুড়ে বাজার, দোকানপাটসহ নানা অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। একাধিক স্থানে নিয়মিত বসছে সাপ্তায়িক গরু-ছাগলের হাট। এতে যানবাহন চালক ও পথচারীদের ভোগান্তির শেষ নেই। বিশেষ করে ঈদের আগে ঘরে ফেরা মানুষের ভোগান্তির পাশাপাশি সড়কে চলাচলে ঝুঁকি বাড়ছে।
জানা যায়, ডুমুরিয়া উপজেলার কৈয়া ব্রিজ থেকে আঠারমাইল পর্যান্ত প্রায় ৩২ কিলোমিটার খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়ক। এ ছাড়া দৌলতপুর-শাহাপুর ৪৫ কিলোমিটার এবং উপজেলার ডুমুরিয়া থেকে খর্নিয়া বাজার পর্যান্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার পাকা সড়ক রয়েছে। অর্থাৎ, উপজেলার অভ্যন্তরে ৮৩ কিলোমিটার সড়ক-মহাসড়ক রয়েছে। প্রতিনিয়ত এসব সড়কের দুই পাশ ঘেঁষে গরু-ছাগলের হাট, কাঁচাবাজার, বাঁশ, ইট-বালু, ফলের দোকানসহ মাছের বাজার বসছে। ফলে যানবাহন চালক, যাত্রী ও পথচারীদের দুর্ভোগের পাশাপাশি ছোট-বড় দুর্ঘটনার সংখ্যাও বাড়ছে।
উপজেলার খর্নিয়ার ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন জানান, খর্নিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে মহাসড়কের জমি বেদখল এবং উপজেলের শাহাপুর, আঠারোমাইল এলাকায় সড়কের ওপর নিয়মিত গরু-ছাগলের হাট বসেছে। এসব সড়কে যানবাহন ও পথচারীদের ভোগান্তির শেষ নেই। এগুলো অপসারণ দরকার।
চুকনগরের স্কুলশিক্ষক আ. খালেক বলেন, খর্নিয়া থেকে আঠারমাইল পর্যান্ত মহাসড়কের দুপাশ ঘেঁষে সব জায়গা প্রভাবশালীরা দখলে নিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি খর্নিয়া ও চুকনগর বাজারে যাত্রী ছাউনির দখল নিয়ে সেখানে খাবারের দোকান বসানো হয়েছে। এসব বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনসহ সড়ক ও জনপথ বিভাগ যেন নির্বিকার।
শাহাপুর বাজার কমিটি সভাপতি গাজী নিজাম উদ্দিন বলেন, সড়কে গরুর হাট বসানোর অনুমতি নেই। তবে বাজার উন্নয়নের স্বার্থে সড়কে গরুর হাট বসানো হয়। সবার সঙ্গে কথা বলে দ্রুতই সড়ক থেকে পশুর হাট সরিয়ে নেওয়া হবে।
ডুমুরিয়ার বাসিন্দা জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক খান ইসমাইল হোসেন বলেন, উপজেলা পরিষদের সামনে হাসপাতাল মোড় থেকে উপজেলার ডুমুরিয়া বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত মহাসড়কের দুপাশজুড়ে কোথাও খালি জায়গা নেই। মহাসড়কেই বিছালী, বাঁশ, ইট, বালু, খোয়া ও স্যানিটেশনের কারখানায় বসিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য চালানো হচ্ছে। ওই এলাকায় দুটি ডিগ্রি কলেজসহ কয়েকটি স্কুল রয়েছে। সড়কে শিক্ষার্থীসহ পথচারীদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। অবৈধ দখল থেকে সড়কের দুই পাশ দ্রুতই মুক্ত করা দরকার।
ইউএনও নমিতা সরকার বলেন, সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে কথা বলে সড়কের দুপাশে গড়া ওঠা অবৈধ হাটবাজার ও দোকানপাট উচ্ছেদ করা হবে।
খুলনা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তালিমুল হক বলেন, সড়ক-মহাসড়কে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান চলমান রয়েছে। শিগগিরই সড়ক ঘেঁষে গড়ে ওঠা দোকানপাট ও হাটবাজার অপসারণ করা হবে।
