ঈদযাত্রা
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রায় যানজট, ধীরগতিতে চলছে যানবাহন
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রায় ধীরগতিতে চলছে যানবাহন
কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২৬ | ১৪:৪৫
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় মঙ্গলবার সকাল থেকে উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে। বেলা ১২টার পর থেকে মানুষের ঢল নেমেছে। বিকেলে এই চাপ আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যানজটে স্থবির না থাকলেও ধীরগতিতে চলছে যানবাহন। যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে দুই শতাধিক অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তেল সিন্ডিকেটের কৃত্রিম সঙ্কটের কারণে অনেক পরিবহনের বাস চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। এতে যাত্রীরা ভোগান্তির মুখে পড়তে পারে বলে চালকরা জানিয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, মঙ্গলবার সকাল থেকেই উত্তরবঙ্গের ২২টি জেলায় নারীর টানে বাড়ি ফেরা যাত্রীদের চাপ বেড়েছে। তবে দুপুর থেকে যাত্রীদের ঢল নেমেছে। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ করতে ব্যাগ, বস্তা নিয়ে রওনা হয়েছেন তারা। তবে এখন পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ঘরমুখো যাত্রীরা পছন্দ অনুযায়ী পরিবহনে দরদাম করে ফিরছেন গন্তব্যে।
কারখানা ও শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গাজীপুরে ছোট-বড় প্রায় ৫ হাজার শিল্পকারখানা রয়েছে। এর মধ্যে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ’র মোট ২ হাজার ৮৩৪টি কারখানা রয়েছে। এবারের ঈদে ছুটি দেওয়া হবে ২ হাজার ৭৫৩টি কারখানা। এছাড়া আংশিক ছুটি হয়েছে ৮১টি। এ সকল কারখানা ছুটি দেওয়া হয়েছে ধারাবাহিকতাভাবে। সোমবার ৬২টি ও মঙ্গলবার ৪৪৪টি কারখানা ছুটি হয়েছে। বুধবার ১৪১৪টি ও বৃহস্পতিবার ৮৩৩টি কারখানা ছুটি হবে।
এদিকে চন্দ্রা এলাকায় এখনও যানবাহনের দীর্ঘ লাইন থাকলেও যাত্রীদের চাপ ধীরে ধীরে বাড়ছে। তবে বিকেল থেকে যাত্রীদের চাপ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন প্রশাসন ও বাস কাউন্টার মালিকরা।
উত্তরবঙ্গ পথের যাত্রী সালেহা খাতুন নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমার বাবা-মা বুধবার বিকেলে কারখানা ছুটি হলে বাড়ি যাবে। সবাই এক সাথে গেলে যানজটের কারণে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। সেজন্য আগেই ভাই-বোন নিয়ে আজকে গ্রামের বাড়ির দিকে রওনা হয়েছি।’
টিপু সুলতান ও হায়দার আলী নামে দুই কাউন্টার মালিক বলেন, ঈদ উপলক্ষে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। কারণ যাবার সময় যাত্রী থাকে। কিন্তু আসার সময় গাড়ি সম্পূর্ণ ফাঁকা থাকে। তাছাড়া ডিজেল পাচ্ছি না। অনেক কষ্টে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন থেকে ডিজেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে।
নাওজোর হাইওয়ে পুলিশের ওসি শওগাত উল আলম জানান, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীদের চাপ বাড়তে শুরু করেছে। তবে এখনও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সড়কে নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে। ৬টি চেকপোস্ট বসিয়ে নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া চারটি মোবাইল টিম সব সময় মহাসড়কে নজরদারিতে রয়েছে।
- বিষয় :
- ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক
- ঈদযাত্রা
