ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

দখল-দূষণে মুমূর্ষু মাধবপুরের সোনাই নদী

দখল-দূষণে মুমূর্ষু মাধবপুরের সোনাই নদী
×

মাধবপুর সদর উপজেলায় সোনাই নদীর তীরে স্তূপ করা ময়লা-আবর্জনা সমকাল

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২৬ | ০৮:১৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সোনাই নদী এখন অবৈধ স্থাপনা এবং ময়লা-আবর্জনা ও বর্জ্যে ভরাট হয়ে সংকুচিত হয়ে পড়েছে। দখল ও দূষণে এক সময়ের খরস্রোতা নদী আজ মৃতপ্রায়। 
স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীটি একসময় এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকার বড় উৎস ছিল। এখন সেখানে ময়লা ছাড়া কিছু দেখা যায় না। দীর্ঘদিন ধরে নদীতে অপরিকল্পিত ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি অবাধে ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এ কারণে ধীরে ধীরে অস্তিত্ব হারাতে চলেছে সোনাই নদী। নদী বাঁচাতে প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। 

স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্যমতে, কয়েক দশক আগেও সোনাই নদী ছিল এলাকার মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। নদীতে সারাবছর পানি থাকত, বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত এবং নৌকা চলাচল ছিল স্বাভাবিক দৃশ্য। নদীর পানি ব্যবহার করে কৃষকরা জমিতে সেচ দিতেন, অনেক জেলে পরিবার মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন। গত দুই দশকে অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে নদীর জমি দখল করা হয়েছে। এ ছাড়া হাট-বাজার ও গৃহস্থালি বর্জ্য ফেলে নদী ভরাট করা হয়েছে। এতে সোনাই নদী স্বর্ণালি সময় পেরিয়ে বর্তমানে খালে রূপ নিয়েছে। ঐতিহ্যবাহী নদীটি দিন দিন বিলুপ্তির পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
সরেজমিনে নদীর বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখা যায়, নদীর তীরে গড়ে ওঠা বাজার, দোকানপাট এবং বসতবাড়ি থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ময়লা-আবর্জনা সরাসরি নদীতে ফেলা হচ্ছে। প্লাস্টিক, পলিথিন এমনকি নির্মাণকাজের মাটি ও বালুও নদীতে জমা হচ্ছে। এসব কারণে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে পানিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি হয়েছে। অনেক স্থানে নদী এতটাই ভরাট হয়ে গেছে যে, বর্ষা মৌসুম ছাড়া সেখানে নদীর অস্তিত্বই বোঝা যায় না। 

স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, নদীর কিছু অংশে অবৈধভাবে দখল করে কোথাও দোকানঘর, কোথাও আবার বসতবাড়ি তৈরি করে নদীর জায়গা সংকুচিত করা হচ্ছে। ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। কোথাও গতিপথও পরিবর্তন হয়েছে। 
প্রবীণ বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, ‘আমরা ছোটবেলায় এই নদীতে সাঁতার কাটতাম, মাছ ধরতাম। নদী ছিল আমাদের আনন্দের জায়গা। এখন নদীর দিকে তাকালে কষ্ট লাগে। ময়লা-আবর্জনায় ভরে গেছে। যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, কয়েক বছরের মধ্যে নদীটির অস্তিত্বই হয়তো থাকবে না।’ বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি–বেলার মাধবপুরের পরিবেশকর্মী ওমাইয়া ফেরদৌস বলেন, নদী দখল ও দূষণ রোধে কার্যকর নজরদারি না থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। নদীর তীর রক্ষা এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ বিন কাশেম বলেন, একটি নদী শুধু পানিপ্রবাহের উৎস নয়; এটি একটি অঞ্চলের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং অর্থনীতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। নদী শুকিয়ে গেলে বা দূষিত হয়ে গেলে আশপাশের কৃষি, মৎস্যসম্পদ এবং পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। সোনাই নদীর অবস্থা খুবই করুণ। নদী খনন করে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সরকারের কাছে বিষয়টি তুলে ধরা হবে। 
 

আরও পড়ুন

×