ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ফুটপাতের দোকান ঘুরে কেনা ‘ঈদের খুশি’

ফুটপাতের দোকান ঘুরে কেনা ‘ঈদের খুশি’
×

আড়াইহাজারের পৌরবাজারের ফুটপাতের দোকানে কাপড় দেখছে একটি পরিবার সমকাল

আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২৬ | ০৮:২৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

আড়াইহাজার পৌরবাজারের হাজি সোয়াদ আলী হকার্স মার্কেটের ফুটপাতের দোকানে জামাকাপড় পছন্দ করছিলেন খাদিজা বেগম। উপজেলার সীমান্তবর্তী সোনারগাঁ থানার মাঝেরচর এলাকার বাসিন্দা তিনি। স্বামী কৃষিকাজ করেন। পরিবারে রয়েছে ছোট্ট তিন ছেলেমেয়ে। প্রতিবছর কম টাকার মধ্যে খাদিজা বেগমই ঈদের কেনাকাটা করেন। ফুটপাতের দোকান ঘুরে ঘুরে যা কেনেন, তাতেই পরিবারে দেখা দেয় ঈদের খুশি।
ছেলেমেয়েদের জন্য কাপড় নেড়েচেড়ে দেখার ফাঁকে ফাঁকে খাদিজা বেগম জানালেন সাধ আর সাধ্যের সমন্বয় ঘটাতে নিজের সঙ্গে কতটা বোঝাপড়া করতে হয় তাঁকে। তাঁর এ কাজ অনেকটা সহজ হয় ফুটপাতের দোকানে এলে। তিনি বলেন, ফুটপাতের দোকানে কিছুটা সস্তায় জিনিস পাওয়া যায়। আমাদের মতো মানুষের এটা একটা ভরসার জায়গা। বাচ্চাদের জন্য নতুন জামা কিনতে পারি, তারা খুশি হয়। তাদের খুশিতেই আমাদের খুশি। অনেক সময় নিজেদের জন্যও কিছু কেনাকাটা করেন খাদিজা বেগম।
সেখানেই কথা হয় সখিনা আক্তার নামের আরেকজনের সঙ্গে। তিনি উপজেলার খাগকান্দা এলাকা থেকে এসেছেন থ্রি-পিস, তিনটি লুঙ্গি, শাড়ি ও বাচ্চার জন্য জামা কিনতে। তিনি বলেন, আমরা নিম্ন মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ। রমজান মাসে সংসারে খরচ বেড়েছে। তবুও নিজের জন্য কিছু না কিনলেও বাচ্চারা তো মানবে না। তাই সাধ্যের মধ্যে কেনাকাটা করতে ফুটপাতে এসেছি। এখানে পোশাকের দামও অনেক কম।

সম্প্রতি সরেজমিন দেখা যায়, সোয়াদ আলী মার্কেট ছাড়াও বিএনপির কার্যালয়ের সামনের ফুটপাত এবং ব্যস্ততম সড়কের পাশের ফুটপাতের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ব্যাপক ভিড়। নিম্নবিত্তের পাশাপাশি মধ্যবিত্তরাও ফুটপাতের দোকানগুলোতে কেনাকাটা করছেন। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে জমে উঠেছে কেনাকাটা। সাশ্রয়ী দামে পোশাক, জুতা ও প্রসাধনী পেতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের অনেকে সাধারণ মার্কেট এবং ফুটপাতের দোকানগুলোতে ভিড় করছেন।
নাগেরচর এলাকার গৃহিণী নুরজাহান আক্তার বলেন, ফুটপাতের দোকানগুলোতে শিশুদের পোশাক ১৫০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা বা তার একটু বেশি দামে পাওয়া যায়। তরুণরা ৬০০ থেকে এক হাজার টাকায় সব ধরনের পোশাক কিনতে পারছে। পরিবারসহ কেনাকাটা করতে জোগারদিয়া থেকে এসেছেন রাবেয়া বসরি। তিনি বলেন, রোজার শেষ সময় ফুটপাতে অনেকে ভিড় থাকে। দাম গত বছরের তুলনায় এবার একটু বেশি।

পৌর এলাকার হারুনুর রশীদ বলেন, আমি আমার স্ত্রী, দুই সন্তান এবং কয়েকজন আত্মীয়ের জন্য পোশাক কিনতে এসেছি। গত বছরের তুলনায় এ বছর দাম কিছুটা বেশি, তবে ফুটপাতের দোকানগুলোতে কেনাকাটা এখনও নাগালের মধ্যে রয়েছে।
একই কথা বলেন আরেক ক্রেতা মামুনুর রশীদ ও এনজিও কর্মী লোকমান হোসেন। তাদের মতো অনেক মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত মানুষ ফুটপাত বা সাধারণ বাজার-সংলগ্ন দোকান থেকে কেনাকাটা করেন।
সোয়াদ আলী মার্কেটের সালমান ফ্যাশনের স্বত্বাধিকারী মো. শাহআলম বলেন, এবার ক্রেতার চাহিদা মাথায় রেখে ভিন্ন ভিন্ন ডিজাইনের পোশাক উঠিয়েছি। প্রথমদিকে ক্রেতা কম থাকলেও রোজার মাঝামাঝি সময় থেকে ভিড় দেখা যাচ্ছে। আশা করছি, এবার বিক্রি ভালো হবে।
এ মার্কেটের দোকানদার হাসিবুর রহমান শামীম বলেন, আমরা এখন প্রচুর বিক্রি করছি, ভালো ব্যবসা হচ্ছে। আমরা যুক্তিসংগত লাভ নিয়ে কাপড় বিক্রি করি। আমাদের ক্রেতারা কেবল নিম্নবিত্ত নন, অনেক মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষও পোশাক কিনতে আসেন।

ফুটপাতের দোকানদার মাসুম মিয়া, সাইফুল ইসলামসহ ফুটপাতের অন্যান্য ব্যবসায়ীরা জানান, নিম্নআয়ের মানুষের পাশাপাশি অনেক নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত লোকজনও তাদের দোকানে কেনাকাটার জন্য আসছেন। ক্রেতাদের অধিকাংশই নারী। কম বাজেটের মধ্যে ক্রেতাদের পছন্দ হয় এমন বাহারি নকশা ও রঙের সব পোশাকের সংগ্রহ রয়েছে ফুটপাতের এসব দোকানে। তাই ক্রেতাদের কোনো না কোনো জিনিস পছন্দ হচ্ছে আর কিনেও নিচ্ছেন।
আড়াইহাজার থানার ওসি মো. আলাউদ্দিন বলেন, ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা যেন নির্বিঘ্নে কেনাবেচা করতে পারেন, সে জন্য আইনশৃঙ্ক্ষলা বাহিনী তৎপর রয়েছে।

আরও পড়ুন

×