লক্ষ্মীপুর নৌঘাটে নাব্য ও লঞ্চ সংকটে দুর্ভোগ যাত্রীদের
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২৬ | ০৮:৫১
| প্রিন্ট সংস্করণ
ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে বিভিন্ন শহরমুখী মানুষের ঢলে মুখর হয়ে উঠেছে লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরীর হাট নৌঘাট। তবে লঞ্চ সংকট এবং নাব্য সমস্যার কারণে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা।
লক্ষ্মীপুর-ভোলা-বরিশাল নৌরুটে যাত্রীদের চাপ বেড়েছে কয়েক গুণ। ২৫ মার্চ ভোর থেকেই ঘাটজুড়ে ছিল যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। অনেকেই সকাল ৬টায় এসে দুপুর পর্যন্ত লঞ্চের অপেক্ষায় বসে থাকতে বাধ্য হন।
যাত্রীরা জানান, নৌপথে লঞ্চ সংকটের পাশাপাশি নাব্য সমস্যাও চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। এতে করে ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়ছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা আদায় করা হচ্ছে। যেখানে লঞ্চ ভাড়া ১৮০ টাকার ভাড়া, সেখানে নেওয়া হচ্ছে ২০০ টাকা। আবার মজুচৌধুরীর হাট থেকে চট্টগ্রাম রুটের স্বাভাবিক ৪০০ টাকার বাস ভাড়ার পরিবর্তে নেওয়া হচ্ছে ৬০০ টাকা। অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই, গাদাগাদি পরিবেশ এবং দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে নারী ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েছেন।
বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ থেকে ভোলা হয়ে লক্ষ্মীপুরে এসেছেন সফিকুর রহমান। ঘাটে চট্টগ্রামের বাসের জন্য অপেক্ষা করা এই যাত্রী বলেন, ৪০০ টাকার ভাড়া ৬০০ টাকা দিয়ে টিকিট কাটলেও সাড়ে তিন ঘণ্টা ঘাটে বসে থাকতে হয়েছে। লঞ্চ কম, বাসও পাওয়া যায় না।
তারেক মিনহাজ নামের এক যাত্রী জানান, অতিরিক্ত ভাড়া নিলেও বাসের জন্য সাড়ে তিন ঘণ্টা তাঁকে ঘাটে বসে থাকতে হয়েছে। বাস দূরে রেখে সংকট দেখানো হচ্ছে। একই অবস্থা ভোলা-ইলিশা রুটেও। ভাড়া বেশি দিলেও সময়মতো গন্তব্যে যেতে পারছেন না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, লক্ষ্মীপুর-ভোলা রুটে অপরাজিতা, পারিজাত, গাংচিল, খিজির-৫, খিজির-৮, সাংগুসহ ছয়টি সি ট্রাক চলাচল করছে। এসব সি ট্রাকের প্রতিটিতে ১৫০০ থেকে ২০০০ যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা থাকলেও যাত্রীর চাপ এত বেশি, তা পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছে না।
সাংগু সি ট্রাকের সুপারভাইজার রাসেলের দাবি, নাব্য সংকটের কারণে চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে, রহমতখালী চ্যানেলে পানি কমে যাওয়ায় ভাটার সময় নৌযান চলাচল বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এতে মাঝনদীতে লঞ্চ আটকে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে যাত্রীদের। দ্রুত ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু না হলে এই দুর্ভোগ কমানো সম্ভব নয়।
খিজির-৫-এর সুপারভাইজার লিটন বলেন, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ ভাড়া কমানোর নির্দেশনা তারা পাননি। নির্দেশনা পেলে তখন কমিয়ে নেওয়া হবে।
মজুচৌধুরীর ঘাট থেকে চট্টগ্রামগামী শাহী পরিবহনের সুপারভাইজার সিরাজ মিয়া বলেন, তারা নির্ধারিত ভাড়াই নিচ্ছেন। যাত্রীরা অতিরঞ্জিত অভিযোগ করছেন।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) লক্ষ্মীপুরের সহকারী পরিচালক শাহ আলম বলেন, লঞ্চ ভাড়া বেশি না নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, নদীতে নাব্য সংকট তেমন নেই। শুধু ভাটার সময়ে লঞ্চ চলাচলে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। আগে লক্ষ্মীপুর মজুচৌধুরীর হাট থেকে ভোলার ইলিশা পর্যন্ত যেতে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা লাগলেও এখন জোয়ারের সময় এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় লাগছে।
- বিষয় :
- দুর্ভোগ
