দৌলতদিয়ায় দুর্ঘটনা
দুই শিশু ও এক তরুণের মরদেহ পৌঁছাল খোকসায়, আহাজারি
শোকে স্তব্ধ শিশু ইসরাফিলের মা। ছবি-সমকাল
খোকসা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২৬ | ১৮:১৮ | আপডেট: ২৬ মার্চ ২০২৬ | ১৯:১৭
দৌলতদিয়ায় পদ্মায় পড়ে যাওয়া বাস থেকে উদ্ধার দুই শিশু ও এক যুবকের মরদেহ খোকসার গ্রামের বাড়িতে দাফন ও সৎকার হয়েছে। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন তাদের স্বজন ও প্রতিবেশিরা।
আজ বৃহস্পতিবার ভোরে কুষ্টিয়ার খোকসার সন্তোষপুর গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে ইসরাফিলের (৩) মরদেহ বাড়িতে আনা হয়। প্রায় একই সময়ে শোমসপুর গ্রামের বাড়িতে যায় নিহত আয়শা সিদ্দিকার (১৩) মরদেহ। এছাড়া, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে একই দুর্ঘটনায় নিহত রাজিব বিশ্বাসের (২৬) মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স তার গ্রামের বাড়ি খাগড়বাড়িয়াতে পৌঁছায়।
একে একে তিনটি মরদেহ পৌঁছানোর খবরে শোকাহত মানুষের ঢল নামে। সকাল ৯টায় উপজেলার শোমসপুরে পারিবারিক কবরস্থানে বড় চাচার পাশে দাফন করা হয় আয়শা সিদ্দিকাকে। তার বাবা গিয়াস উদ্দিন জানান, চোখের সামনে তিনি মেয়ে ও স্ত্রীকে ডুবে যেতে দেখেন। এক পর্যায়ে স্ত্রী ভেসে উঠলেও মেয়েকে আর উদ্ধার করতে পারেননি। পরে রাতে ডুবুরিরা মৃত আয়শাকে উদ্ধার করে। রাতেই রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল থেকে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।
তিন বছরের ইসরাফিলের মরদেহ সকালে সন্তোষপুরে গ্রামে পৌঁছায়। এরপর থেকে শিশুটির স্বজনরা আহাজারি করছেন। পরে তাকে সিংঘড়িয়া কবরস্থানে দাফন করা হয়।
রাজিবের মরদেহ উদ্ধার হয় ভোরের দিকে। এরপর তা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে রাজিবের মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স খাগড়বাড়িয়া গ্রামে পৌঁছায়। পরে দুপুরের দিকে স্থানীয় শৈলডাঙ্গী মহাশ্মশানে তার শেষকৃত্য হয়।
সৌহার্দ্য পরিবহনের খোকসা কাউন্টার মাস্টারের দেওয়া তথ্যমতে, এক বৃদ্ধ যাত্রীর সন্ধান এখনও মেলেনি।
