ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বাঁধে ভাঙন, বন্যার শঙ্কায় দুই ইউনিয়নের বাসিন্দা

বাঁধে ভাঙন, বন্যার শঙ্কায়  দুই ইউনিয়নের বাসিন্দা
×

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মনুমুখ ইউনিয়নের কুশিয়ারা নদীর ভাঙনে হুমকির মুখে শেওয়াইজুড়ী গ্রাম। বৃহস্পতিবার দুপুরে তোলা সমকাল

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৬ | ০৯:৫৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মনুমুখ ইউনিয়নের শেওয়াইজুড়ী গ্রামে কুশিয়ারা নদীর ভাঙনের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। পাউবো থেকে ভাঙন ঠেকানোর উদ্যোগ না নেওয়া হলে আসছে বর্ষায় শেওয়াইজুড়ী গ্রামের বিশাল অংশ কুশিয়ারায় বিলীন হতে পারে। পাশাপাশি সদর উপজেলার দুই ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকার কৃষিজমি ও বসতঘর পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকসহ অর্ধলক্ষাধিক বাসিন্দা। 

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মনুমুখ ইউনিয়নের শেওয়াইজুড়ী গ্রামের নুর উদ্দিন মিয়ার বাড়িসংলগ্ন কুশিয়ারা নদীর তীর রক্ষা বাঁধে ২-৩ বছর ধরে ভাঙন চলছে। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে বাঁধ রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জেলা কার্যালয় থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের কিছু বালুর বস্তা দিয়ে সহযোগিতা করা হয়। এছাড়া ভাঙনকবলিত গ্রামের মানুষের স্বেচ্ছাশ্রম ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-ইউপি সদস্যের আর্থিক অনুদানে বালু ও বাঁশ সংগ্রহ করে সাময়িকভাবে ভাঙন মোকাবিলা করা হয়। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে বারবার আবেদন করা সত্ত্বেও সেখানে টেকসইভাবে বাঁধ মেরামতের কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিচ্ছে না পাউবো। চলতি বছর বাঁধের ভাঙনকবলিত অংশের উপরিভাগে ফাটল দেখা দেওয়ায় এবং বৃষ্টি শুরু হওয়ায় এলাকাবাসীর মাঝে ভাঙন আতঙ্ক বিরাজ করছে। 

শেওয়াইজুড়ী গ্রামের নাঈম মিয়া (১৯) জানান, প্রতিবছর বর্ষায় নদীতে বালুর বস্তা ফেলা ছাড়া স্থায়ীভাবে বাঁধ মেরামতে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ভাঙন দেখা দেওয়ায় আশপাশ বাড়ির মানুষ গাছ-গাছালি ও আবর্জনা ফেলে ভাঙন ঠেকানোর বৃথা চেষ্টা করেন। বর্ষার পানি এলেই এ সব ধুয়েমুছে নিয়ে যায়। 
মনুমুখ ইউনিয়নের স্থানীয় ওয়ার্ড ইউপি সদস্য জিলা মিয়া জানান, শেওয়াইজুড়ী গ্রামে কুশিয়ারার ভাঙনের কথা ৬-৭ মাস আগে পাউবো কর্মকর্তাদের কাছে মৌখিকভাবে জানিয়েছিলেন তিনি। পরে জেলা পাউবো কার্যালয়ের সার্ভেয়ার এসে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিমাপ করেন। এরপর আর কোনো অগ্রগতি নেই। মাস তিনেক আগে বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধের এ অংশ সংস্কারের জন্য পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে পাউবোর কোনো উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায়নি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আরও জানান, আগামী বর্ষায় শেওয়াইজুড়ী গ্রামে কুশিয়ারার ভাঙন প্রকট আকার ধারণ করতে পারে। এতে ভাঙনকবলিত গ্রামের কয়েকশ পরিবারসহ বাজরাকোনা, পয়গাম্ভরপুর, আড়াইহাল, নটপাড়া, সুমারাই, বাউরভাগ, নাদামপুর, ঘোড়াখাল, করিমপুর, সরকারবাজারসহ নিকটবর্তী খলিলপুর ও আখাইলকুঁড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের ফসলি জমি প্লাবিত হওয়ার শঙ্কায় সাধারণ মানুষ দুশ্চিন্তায় আছেন। 

মনুমুখ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ইমরান সাজু বলেন, শেওয়াইজুড়ীর ভাঙন রোধে পাউবোর পক্ষ থেকে এখনই বাস্তবমুখী কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন জরুরি। নতুবা বর্ষায় তীব্র স্রোতে বাঁধ ভেঙে এই এলাকার ৩-৪ হাজার একর জমির ফসল হুমকির মুখে পড়তে পারে। এছাড়া শেওয়াইজুড়ী গ্রামের বিশাল এলাকা নদীতে বিলীন হতে পারেন।
জেলা পরিষদের প্রশাসক মিজানুর রহমান মিজান সমকালকে বলেন, শেওয়াইজুড়ী গ্রামের কাছে বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধের সংস্কারের লক্ষ্যে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন। বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে সেখানে বাঁধের সংস্কার কাজ শুরুর আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
মৌলভীবাজার পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী খালিদ বিন ওয়ালিদ বলেন, সদর উপজেলার মনুমুখ ইউনিয়নের শেওয়াইজুড়ী এলাকায় ভাঙন সংস্কারে সার্ভে করা হয়েছে। ভাঙনরোধে জিওব্যাগে বালু ভরে ফেলার জন্য ইতোমধ্যে এক কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ কিংবা কার্যক্রম পরিচালনায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পেলেই বাঁধ মেরামতের কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি জানান, ভাঙন ঠেকাতে  সেখানে ব্লক বসানোর একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

×