ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

ঢাকা থেকে বাস যাচ্ছে কম কিশোরগঞ্জে দীর্ঘ অপেক্ষা

ঢাকা থেকে বাস যাচ্ছে কম কিশোরগঞ্জে দীর্ঘ অপেক্ষা
×

ঈদসহ কয়েকটি ছুটি কাটিয়ে ঢাকায় ফিরতে গতকাল শনিবার কিশোরগঞ্জের গাইটাল বাস টার্মিনালে ভিড় করেন শিক্ষার্থীসহ চাকরিজীবী। বাস সংকটে তাদের কয়েক ঘণ্টা সেখানে অপেক্ষা করতে হয় সমকাল

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৬ | ০৮:২৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

ঈদের লম্বা ছুটির পর আজ রোববার থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে। চাকরিজীবীরা আগেই কর্মস্থলে চলে গেলেও বহু ব্যবসায়ী এখন রাজধানী ঢাকায় ফিরছেন। ফলে কিশোরগঞ্জে বাস আর ট্রেনে শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন ধরনের যাত্রীর প্রচণ্ড চাপ লক্ষ্য করা গেছে। ট্রেনের শিডিউল মোটামুটি ঠিক থাকলেও বাড়তি যাত্রীর চাপ সামলাতে গিয়ে বাসের সময়সীমার কোনো ঠিক ছিল না। কাউন্টার থেকে টিকিট কিনে বাসের জন্য টার্মিনালে অপেক্ষা করতে হয়েছে তিন থেকে চার ঘণ্টা। ফলে যাত্রীদের প্রচুর ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। তবে টিকিটের দাম বাড়ানো হয়নি বলে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা।
কিশোরগঞ্জ শহরের গাইটাল বাস টার্মিনাল থেকে অনন্যা, অনন্যা সুপার ও অনন্যা ক্ল্যাসিক নামের বাস ঢাকায় যাতায়াত করে। গতকাল শনিবার দুপুরে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিটি কাউন্টারের সামনেই টিকেটের জন্য যাত্রীর লম্বা লাইন। আবার কাউন্টারের পেছনের পার্কিং লটে দেখা গেছে, টিকিটধারী যাত্রীরা লম্বা লাইনে অপেক্ষা করছেন বাসের জন্য। কখন ঢাকা থেকে বাস আসবে, এরপর তাদের যাত্রা নিশ্চিত হবে।

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদের দীর্ঘ ছুটির পরপরই ছিল স্বাধীনতা দিবসের ছুটি। এর পর ছিল শুক্রবার ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি। শিক্ষার্থীসহ চাকরিজীবীদের যারা পেরেছেন সব ছুটি কাটিয়ে শেষদিনে শনিবার এসে টার্মিনালে ভিড় করেছেন। অন্যদিকে, ঢাকা থেকে এলাকায় এখন খুব কম লোকই ফিরছেন। ফলে বাসের সংকট দেখা দিয়েছে। 
অনন্যা বাসের কাউন্টার মাস্টার হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, এখন যাত্রীদের এত চাপ, সেই তুলনায় বাসের ঘাটতি পড়ে গেছে। যে কারণে টিকিট কাটার পর একজন যাত্রীকে চার-পাঁচ ঘণ্টা বাসের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এখন ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জে আসার যাত্রী খুবই কম। যে কারণে দীর্ঘ সময় পর পর একেকটি বাস ঢাকা থেকে গাইটাল টার্মিনালে আসছে। এর ফলে যাত্রীদের ভোগান্তি হচ্ছে। হাবিব জানান, বছরের অন্যান্য সময় দৈনিক বড়জোর এক হাজার যাত্রী যাতায়াত করতেন। এখন দৈনিক সাত হাজার থেকে আট হাজার যাত্রী ঢাকায় যাচ্ছেন। গতকাল দুপুর ১টা নাগাদই প্রায় চার হাজার যাত্রী টিকেট কিনেছেন।

শহরের খড়মপট্টি এলাকার বাসিন্দা সাগর রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পড়েন রাজধানীর বেসরকারি শান্ত-মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ে। তিনি সকাল ১০টায় গিয়ে কাউন্টার থেকে টিকিট কিনেছেন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর দুপুর সোয়া ১টায় বাসে উঠতে পেরেছেন তিনি। শহরতলির বৌলাই এলাকার ব্যবসায়ী নূরুল ইসলাম জানালেন, তিনি সকাল সাড়ে ৯টায় এসে লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কিনেছেন। এরপর আবার বাসের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। এত পেছনে তিনি দাঁড়িয়ে আছেন, বিকেল ৪টা নাগাদ রওনা হতে পারবেন কিনা, তাও নিশ্চিত নন। তবে কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকার টিকিটের দাম আগের মতোই ৩৩০ টাকা রাখা হচ্ছে। বাড়তি টাকা নেওয়া হচ্ছে না বলে তিনি স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
ট্রেনেও যাত্রীর বেশ চাপ গেছে। আসনভিত্তিক যাত্রীর বাইরেও স্ট্যান্ডিং টিকিটের প্রচুর যাত্রী ঢাকায় গেছেন। এছাড়া বহু যাত্রী ট্রেনের ছাদেও ভ্রমণ করেছেন। কিশোরগঞ্জের স্টেশনমাস্টার খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, আসনের বাইরে আসন সংখ্যার ২৫ ভাগ স্ট্যান্ডিং টিকিট বিক্রির অনুমতি আছে। যেহেতু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে, ফলে বহু শিক্ষার্থী ট্রেনের ভেতরে এবং ছাদেও ভ্রমণ করেছেন। তিনি জানান, এখন ট্রেনে যাত্রীদের এত ঠাসাঠাসি ভিড়, ট্রেন কিশোরগঞ্জ থেকে ছেড়ে যাওয়ার পর সরারচর, বাজিতপুর আর কুলিয়ারচরের বহু টিকিটধারী যাত্রী ট্রেনে উঠতেই পারেন না।
 

আরও পড়ুন

×