ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

দাম বেঁধে দেওয়ার প্রতিবাদে লামায় মাংস বিক্রি বন্ধ

দাম বেঁধে দেওয়ার প্রতিবাদে লামায় মাংস বিক্রি বন্ধ
×

লামা বাজারে ঝুলছে প্রশাসনের বেঁধে দেয়া নির্ধারিত মাংসের মূল্যতালিকা। ছবি: সমকাল

লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৬ | ০৭:০০

বান্দরবানের লামায় প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া দামের প্রতিবাদে গরুর মাংস বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছেন কসাইরা। গত শনিবার দুপুরে মাংস ব্যবসায়ীরা বৈঠক করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর গতকাল রোববার সকাল থেকে মাংস বিক্রি বন্ধ করে দেন তারা।

উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিপণন কর্তৃপক্ষের বেঁধে দেওয়া নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কেজি প্রতি ৫০ টাকা বৃদ্ধি করা না হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য মাংস বিক্রি বন্ধ থাকবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

এর আগে লামা উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিপণন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গরুর মাংসের বিক্রয় মূল্য যথাক্রমে ২০ ভাগ হাড্ডিসহ ৭৫০ টাকা এবং হাড্ডি ছাড়া ৮৫০ টাকা নির্ধারিত করে দেন। ব্যবসায়ীদের দাবি হচ্ছে নির্ধারিত দামে মাংস বিক্রি করলে লোকসান গুণতে হয় তাদের।

ইতোপূর্বে গরুর মাংসের মূল্য ইচ্ছেমতো বৃদ্ধির করা হয়– ক্রেতাদের এমন অভিযোগের ভিত্তিতে ভোক্তা আধিকার আইনে প্রশাসন কয়েক দফা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জরিমানা আদায় করেন। এরপরই বাজার নিয়ন্ত্রণে এই মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।

মাংস ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, তাদের যে দামে গরু কিনতে হয় তাতে নির্ধারিত মূল্যে মাংস বিক্রি করলে প্রতিটি গুরুতে পাঁচ থেকে সাত হাজার টাকা লোকসান গুনতে হয়। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা ও পৌর প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। কোনো সুরাহা না হওয়ায় বিক্রি বন্ধ রেখেছেন।

ব্যবসায়ীরা জানান, লামা উপজেলায় গরুর কোনো খামার নেই। গো খাদ্য ও এলাকায় বিচরণ ক্ষেত্রের সংকট থাকায় সাধারণ কৃষকরাও আগের মতো গরু পালন করেন না। নানা প্রতিবন্ধকতা ও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দুর্গম থানচিসহ মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গরু কিনে আনেন। পরিবহন করে মাংস বিক্রি করতে গেলে খরচ বেশি হয়। এই অবস্থায় মাংসের মূল্য পুনর্নির্ধারণ না করা পর্যন্ত মাংস বিক্রি বন্ধ রাখা হবে।

লামা পৌর শহরে সরকার অনুমোদিত মাংস বিক্রেতার সংখ্যা চারজন। তবে বিক্ষিপ্তভাবে আরও ২০ জন এই ব্যবসা করেন। ব্যবসায়ীরা জানান, গত কয়েক বছর ধরে লোকসান দিতে দিতে তাদের অনেকে বিপুল টাকা ঋণি হয়েছেন। 

এসব বিষয়ে কৃষি বিপণন কর্মকর্তা বোরহান উদ্দিন আহমেদ জানান, মাংসের যৌক্তিক মূল্য পুনর্নির্ধারণের ব্যাপারটি নিয়ে সবাই মিলে আলোচনা করে যদি প্রয়োজন হয় তা করা হবে। এখন নির্ধারিত মূল্যের বেশি বিক্রি করা যাবে না।

লামার ইউএনও মো. মঈন উদ্দিন জানান, সারাদেশে যে মূল্যে মাংস বিক্রি হচ্ছে, তার সঙ্গে সংগতি রেখে মাংসের নিয়ম বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

×