ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বগুড়ার ৩৭৪টি কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধ নেই ৭ মাস

বগুড়ার ৩৭৪টি কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধ নেই ৭ মাস
×

বগুড়া ব্যুরো

প্রকাশ: ৩১ মার্চ ২০২৬ | ০৮:০৫ | আপডেট: ৩১ মার্চ ২০২৬ | ১২:২২

| প্রিন্ট সংস্করণ

বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার দিঘলকান্দি কমিউনিটি ক্লিনিকে জ্বর ও সর্দির ওষুধ নিতে এসেছিলেন মরিয়ম বেগম। কিন্তু খালি হাতে ফিরতে হলো তাঁকে। কর্মরতরা জানালেন, ক্লিনিকে কোনো ওষুধ নেই; হয় বাইরে থেকে কিনে নিতে হবে, নয়তো যেতে হবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। মরিয়মের মতো প্রতিদিন শত শত নারী-পুরুষ ও শিশু প্রাথমিক চিকিৎসার আশায় এসব ক্লিনিকে এসে ওষুধ ছাড়াই ফিরে যাচ্ছেন।
জানা গেছে, বগুড়া জেলার ১২টি উপজেলায় ৩৭৪টি কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করা হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী এসব ক্লিনিকে ২২ প্রকারের ওষুধ বিনামূল্যে সরবরাহ করার কথা। গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে ওষুধ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ থাকায় জেলার ১১০টি ইউনিয়নের প্রায় ১৭ লাখ মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
সোনাতলার দিঘলকান্দি ক্লিনিকের হেলথ প্রোভাইডার মামুনুর রশিদ জানান, আগে প্রতিদিন গড়ে ৬০ জন রোগী আসত, এখন ওষুধ না থাকায় সংখ্যাটি ১০-১২ জনে নেমেছে। একই চিত্র বগুড়া সদরের মধুমাঝিড়া ও হরিগাড়ী কমিউনিটি ক্লিনিকে। স্বাস্থ্যকর্মী সোহেল রানা ও হাবিবা খাতুন জানান, বর্তমানে শুধু জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ও শিশুদের টিকা দেওয়া ছাড়া আর কোনো কাজ নেই। ওষুধ না থাকায় রোগীদের বিকল্প উপায়ে সুস্থ থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন।
হরিগাড়ী গ্রামের কৃষক হযরত আলী বলেন, ‘আগে ক্লিনিকে গেলে ওষুধ পাইতাম, এখন কিছুই মিলছে না।’ ফাঁপোড় ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু রায়হান সরকারের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সিভিল সার্জন ডা. খুরশীদ আলম জানান, আগে মূলত বৈদেশিক অর্থায়নে ওষুধ সরবরাহ করা হতো। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ওই খাতে অর্থায়ন বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে স্বাস্থ্য বিভাগের নিজস্ব রাজস্ব খাত থেকে ওষুধ কেনার প্রক্রিয়া চলছে। 

আরও পড়ুন

×