মাঠ ও শ্রেণিকক্ষে নির্মাণসামগ্রী খেলাধুলা, পাঠদান ব্যাহত
নান্দাইলের দক্ষিণ কয়রাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
নান্দাইলের দক্ষিণ কয়রাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে নির্মাণসামগ্রী রাখায় খেলাধুলা বন্ধ সমকাল
নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:৫৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
দুই বছর ধরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চারতলা ভবনের নির্মাণকাজ চলছে। মাঠ ও শ্রেণিকক্ষে রাখা হয়েছে বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী। এ কারণে শিক্ষার্থীদের প্রাত্যহিক সমাবেশ ও খেলাধুলা বন্ধ রয়েছে। নান্দাইল উপজেলার দক্ষিণ কয়রাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে এমন দৃশ্য। বারবার বলার পর সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার নির্মাণসামগ্রী সরিয়ে নিচ্ছেন না বলে অভিযোগ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের।
মুশুলী ইউপির দক্ষিণ কয়রাটি গ্রামে ৫ শতক জমির ওপর ১৯৭৭ সালে দক্ষিণ কয়রাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত। বিদ্যালয়ে শিক্ষক রয়েছেন ছয়জন এবং ১৫৪ শিক্ষার্থী। বিদ্যালয় মাঠের পশ্চিম পাশে প্রথম নির্মিত পূর্বমুখী ভবনে শিক্ষার্থীদের বসার সংকুলান না হওয়ায় ২০০৯-১০ অর্থবছরে উত্তর পাশে তিনকক্ষের আরেকটি একতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। যার একটি অফিসকক্ষ, বাকি দুটি শ্রেণিকক্ষ। আরেকটি শ্রেণির পাঠদান করা হচ্ছে প্রথমে নির্মিত পুরাতন ভবনের একটি কক্ষে। দুই বছর আগে নান্দাইল উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তত্ত্বাবধানে ওই বিদ্যালয়ে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে চারতলা একটি ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২৪ সালের ১২ মার্চ কার্যাদেশ পেয়ে মাঠের দক্ষিণ পাশে ভবনের কাজ শুরু করে মেসার্স আনোয়ার এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি ভবন নির্মাণের মালপত্র বিদ্যালয়ের ছোট মাঠে রেখে দুই বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছে। ফলে দীর্ঘ দিন নির্মাণসামগ্রী মাঠে থাকায় প্রাত্যহিক ছাত্র-শিক্ষক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। শিক্ষার্থীরাও অবসর সময়ে মাঠে খেলাধুলা করতে পারছে না।
গত সোমবার ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, দুটি ভবনের সামনে মাঠে স্তূপ করে রাখা লাল সাদা বালু, ঢালাইয়ের পাথর ও মরিচা ধরা রডের বান্ডিল। অপরিচ্ছন্ন মাঠে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ইট-সুরকি। পুরাতন ভবনে তৃতীয় শ্রেণির কক্ষে শিক্ষার্থীদের বেঞ্চের পেছনে বা ফাঁকা জায়গায় রাখা হয়েছে টাইলসসহ অন্যান্য সামগ্রী।
তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মোবাশ্বির ও ফাইজা আক্তার জানায়, তারা ঠিকমতো বসে ক্লাস করতে বা মাঠে খেলাধুলা করতে পারছে না দুই বছর। অন্য ভবনে গেলে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী নুরুন্নাহার এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী হাসান জানায়, মাঠে রাখা রডে লেগে অনেকের পা কেটে যায়। রাগের বশে কেউ কেউ মাঠে থাকা পাথর অন্যের প্রতি ছুড়ে মেরে আহত করে।
স্কুল মাঠে নির্মাণসামগ্রী রাখার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রতিবেশী অভিভাবক ছোয়াদ মিয়া। তিনি বলেন, ‘এইডা কী আইন? মাড্ (মাঠে) মালপত্তর রাখত কেরে? তুমি মিয়া কাজ করবা, মাল কই রাখবা– হেইডা তুমি চিন্তা কর গা। দুইডা বছর ধইরা পোলাপান ইস্কুল আইয়া খেলতো ফারতাছে না। এই কামডা ঠিক অইলো?’
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি হেলাল উদ্দিনের ভাষ্য, মাঠে নির্মাণসামগ্রী রাখার সময় তারা বাধা দিয়েছেন, কিন্তু কথা শোনেননি ঠিকাদার। ৬ মাস কাজ বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি চতুর্থ তলার ছাদ ঢালাই শেষ করলেও মাঠ পরিষ্কার করছে না। তিনি জানান, চারতলা ভবনের স্থান সংকুলান না হওয়া পুরাতন ভবনের একটি কক্ষ ভেঙে তার যাবতীয় মালপত্র ঠিকাদার নিয়ে গেছেন, যা অন্যায়।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রোমানা আক্তার বলেন, মালপত্র থাকায় তারা মাঠে সমাবেশ করতে পারছেন না। শিক্ষার্থীরাও খেলাধুলা করতে পারছে না। তৃতীয় শ্রেণির কক্ষে কিছু মালপত্র থাকায় সেখানেও পাঠদান করতে অসুবিধা হচ্ছে। বিষয়টি বারবার কর্তৃপক্ষকে জানালেও কোনো কাজ হচ্ছে না।
ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম জানান, কাজ প্রায় শেষের পথে। শিগগিরই তিনি মাঠের মালপত্র সরিয়ে নেবেন, তবে বিষয়টি পত্রিকায় না লেখার জন্য অনুরোধ করেন।
গতকাল মঙ্গলবার যোগাযোগ করলে নান্দাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফজিলাতুননেছা জানান, ভবন নির্মাণকাজ উদ্বোধনের সময় ওই বিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন। তবে স্থানীয় বা জেলা পর্যায়ে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন সভায়ও মাঠে কোনো মালপত্র না রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বারবার অনুরোধ করেন। কিন্তু কে শোনে কার কথা! বিদ্যালয় মাঠে রাখা মালপত্র দ্রুত অপসারণে পদক্ষেপ নেবেন তিনি।
এলজিইডির নান্দাইল উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুর রহমান বিশ্বাস সমকালকে জানান, এমন তো করার কথা নয়। ঠিকাদারকে দ্রুত মালপত্র সরিয়ে নিতে বলবেন তিনি।
- বিষয় :
- নির্মাণকাজ
