ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

পুলিশকে পিটিয়ে আসামি ছিনতাই, পরে গ্রেপ্তার

পুলিশকে পিটিয়ে আসামি ছিনতাই, পরে গ্রেপ্তার
×

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:৪২

| প্রিন্ট সংস্করণ

যশোরের কেশবপুরে সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তারে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন পুলিশের তিন সদস্য। বুধবার রাতে উপজেলার বিদ্যানন্দকাটি ইউনিয়নের হিজলডাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। এ সময় মসজিদের মাইকে আসামির মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে মব সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর ছিনিয়ে নেওয়া ওই আসামিকে পরবর্তীকালে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 
আহত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে আছেন কেশবপুর থানার উপপরিদর্শক আসমত আলী (৫৪), কনস্টেবল শহিদুল ইসলাম (৩৫) ও কনস্টেবল হাবিবুল্লাহ (৩০)। শহিদুল ইসলাম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার গভীর রাতে উপজেলার হিজলডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা ও তিন মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি জাহাঙ্গীর আলমকে (৩৫) গ্রেপ্তারে যায় কেশবপুর থানার একটি দল। তাঁকে গ্রেপ্তারের পর রাত ১টা ৩০ মিনিটের দিকে স্থানীয় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়, পুলিশ আসামিকে মেরে ফেলেছে। এই গুজব ছড়িয়ে পড়লে এলাকার ৫০-৬০ জন ব্যক্তি মব সৃষ্টি করে হামলা চালায়। তারা পুলিশের তিন সদস্যকে পিটিয়ে আসামি জাহাঙ্গীর আলমকে ছিনিয়ে নেয়। 

হিজলডাঙ্গা সরদারপাড়া মসজিদের মুয়াজ্জিন লুৎফর রহমানের ভাষ্য, আসামি জাহাঙ্গীর আলম তাঁর প্রতিবেশী। জাহাঙ্গীরের ভাই আল আমিন ঢাকার একটি মসজিদে ইমামতি করেন। তিনি ছুটিতে বাড়িতে ছিলেন। বুধবার রাতে আল আমিন তাঁর কাছ থেকে মসজিদের চাবি নিয়ে মাইকে ওই ঘোষণা দেন। 
একই এলাকার বাসিন্দা ভুট্টো আলী বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পুলিশ এলাকায় একাধিকবার অভিযান চালিয়েছে। ফলে পুরো এলাকা জনশূন্য। ঢাকার একটি মসজিদে কর্মরত আল আমিনও পালিয়েছেন। অবশেষে কেশবপুর ও ডুমুরিয়ার সীমান্ত এলাকার বাদুড়িয়া থেকে পুলিশ আসামি জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেপ্তার করেছে। 
বিদ্যানন্দকাটি ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর বাউশলা (দক্ষিণ) ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুস সালাম জানিয়েছেন, আসামি জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেপ্তার করেছিলেন পুলিশ সদস্যরা। তাঁকে নিয়ে যাওয়ার সময় প্রথমে বাড়ির মহিলারা বাধা দেন। এ সময় ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে জাহাঙ্গীর মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তখন তাঁর মৃত্যুর কথা ছড়িয়ে পড়ে। মসজিদের মাইকে জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর ঘোষণা দিয়ে লোক জড়ো করা হয়। তখন পুলিশের ওপর হামলা করে আসামিকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করে কিছু লোক।

চিকিৎসাধীন কনস্টেবল শহিদুল ইসলাম বলেন, আসামি জাহাঙ্গীর আলমকে আটকের পর স্থানীয় লোকজন মব সৃষ্টি করে। তারা পুলিশকে মারধর শুরু করেন। আসামি মাথা দিয়ে তাঁর বুকে জোরে আঘাত করেন। 
কেশবপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম বলেন, তিনটি মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি জাহাঙ্গীর আলমকে রাতে গ্রেপ্তার করা হয়। তখনই পুলিশ আসামিকে মেরে ফেলেছে বলে মসজিদের মাইকে মিথ্যা ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে এলাকার ৫০-৬০ জন পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে জাহাঙ্গীরকে ছিনিয়ে নেয়। ওই লোকজনের মারধরে পুলিশের তিনজন আহত হন। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আসামি জাহাঙ্গীর আলমকে সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

আরও পড়ুন

×