উজানে ফসল রক্ষায় সংকট ভাটিতে তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি
ধর্মপাশার নিমজ্জিত পাইকুরাটি ইউনিয়নের টগার হাওর থেকে গোখাদ্য সংগ্রহ করছেন স্থানীয় এক কৃষক। গত রোববার তোলা সমকাল
ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:৫৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় বোরো ফসলে অনিশ্চয়তা বাড়ছে জলাবদ্ধতার কারণে। এদিকে হাওর পারের উজান ও ভাটি এলাকার ফসলের জন্য একই সময়ে জলাবদ্ধতা নিরসনে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না।
এমন পরিস্থিতিতে শুক্রবার উপজেলার টগা ও শৈলচাপড়া হাওরের কৃষকদের মধ্যে বিবদমান অবস্থা সাময়িকভাবে নিরসন হয়েছে। দুটি হাওরের বোরো জমির ফসলই বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। এমন অবস্থায় শৈলচাপড়া হাওরের কৃষকেরা স্থানীয় একটি বাঁধ কেটে পানি নিষ্কাশন করতে চাইছেন। এতে করে এরইমধ্যে জলাবদ্ধতায় ধুঁকতে থাকা ভাটি এলাকার টগার হাওরে পানির পরিমাণ বেড়ে গিয়ে ফসলের আরও বেশি ক্ষতি হবে বলে আপত্তি তুলেছেন ওই গ্রামের মানুষ।
এদিকে শনিবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাঁধ না কাটার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ধর্মপাশার দায়িত্বে থাকা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম। এর আগেই রাজাপুর গ্রামসংলগ্ন বাঁধ এলাকার একাংশ কেটে দিয়েছেন স্থানীয় কয়েকজন কৃষক।
স্থানীয়রা জানান, শৈলচাপড়া হাওরের কৃষকেরা শুক্রবার সকাল থেকে তাদের অংশের পানি নিষ্কাশনের জন্য হাওরপারে জড়ো হন। এ সময় কৃষকদের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও তাদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দিতে থাকেন। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে ওইদিন দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা বিএনপির নেতারা বালিজুড়ি গ্রামের সামনে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন। ওই বাঁধটি কেটে দেওয়া যাবে কিনা তার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলায় টগার হাওরের অবস্থান। এই হাওরে মধ্যনগর ও ধর্মপাশা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকেরা বোরো ধান চাষ করেন। অপরদিকে ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ও সেলবরষ ইউনিয়নের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত শৈলচাপড়া হাওর অবস্থিত। এ হাওরে পাইকুরাটি ও সেলবরষ ইউনিয়নের কৃষকদের জমি রয়েছে। এ বছর টগার হাওরে ২ হাজার ৩৪০ হেক্টর ও শৈলচাপড়া হাওরে ৬৫০ হেক্টর জমি চাষাবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে বৃষ্টিপাতের ফলে টগার হাওরে ১৮০ হেক্টর ও শৈলচাপড়া হাওরে ৩৫ হেক্টর জমির ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। টগার হাওর থেকে পানি নিষ্কাশনের জন্য জয়শ্রী ইউনিয়নের টঙ্গীর বাঁধ কেটে দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন কৃষকেরা। বাইরের পানি হাওরে প্রবেশ ঠেকাতে গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে বিধায় প্রশাসন এমন প্রস্তাব গ্রহণ করেনি। এদিকে পাইকুরাটি ইউনিয়নের বালিজুড়ি গ্রামের সামনে বাইরা নদীতে স্থানীয়দের দ্বারা নির্মিত একটি বাঁধ রয়েছে। এই বাঁধের ফলে শৈলচাপড়া হাওরে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। তাই সেখানকার কৃষকেরা গত কয়েকদিন ধরে বাঁধ কেটে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানিয়ে আসছিলেন।
পাইকুরাটি ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক বলেন, বালিজুড়ি গ্রামের কিছু লোক এই বাঁধটি দিয়ে উজানের পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত করেছে। এতে করে পাইকুরাটি ও সেলবরষ ইউনিয়নের কৃষকেরা বিপাকে পড়েছেন। বাঁধটি কেটে দিলে টগার হাওরে এক ইঞ্চি পরিমাণ পানি বাড়তে পারে।
সেলবরষ ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম ফরিদ খোকা বলেন, অনিয়মতান্ত্রিকভাবে বালিজুড়ি গ্রামের সামনে বাঁধ দেওয়ায় এই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।
টগার হাওপারের সাড়ারকোনার কৃষক অজিত চন্দ্র সরকার বলেন, এমনিতে টগার হাওরের ক্ষতির পরিমাণ বেশি। তার ওপর বালিজুড়ি গ্রামের সামনের বাঁধ কেটে দিলে আরও সর্বনাশ হয়ে যাবে। এটি কোনোভাবেই হতে দেওয়া উচিত নয়। প্রশাসনের উচিত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা।
একই হাওরের কৃষক মঞ্জিল হক বলেন, পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় তাঁর সব ফসল এমনিতেই শেষ। শৈলচাপড়া থেকে টগার হাওরে পানি এলে আমাদের কৃষকদের অবশিষ্ট কিছুই থাকবে না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনি রায় বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বালিজুড়ি কেটে দেওয়ার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য কৃষক ও পাউবো কর্মকর্তার সমন্বয়ে কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে।
- বিষয় :
- ফসল
