প্রশাসক, প্রকৌশলীর শেষ সময়ে বড় ব্যয়ের টেন্ডার
বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) সংবাদদাতা
প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:০৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
বাকেরগঞ্জ পৌরসভায় ছয়টি প্যাকেজে উন্নয়নকাজের জন্য আহ্বান করা দরপত্রে অস্বাভাবিক প্রাক্কলনের অভিযোগ উঠেছে। মোট ব্যয় প্রায় কোটি টাকার কাছাকাছি হলেও খোদ পৌরসভা ভবন ও সংশ্লিষ্ট সড়ক উন্নয়নেই ধরা হয়েছে প্রায় ৬৩ লাখ টাকা। কাজের ধরন ও পরিসরের তুলনায় এসব ব্যয় অযৌক্তিক বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এ পৌরসভার প্রশাসক (ইউএনও) এবং নির্বাহী প্রকৌশলী দুজনেরই সম্প্রতি বদলির আদেশ হয়েছে। তারা এখনও দায়িত্বে আছেন। শেষ সময়ে বিপুল ব্যয়ের উন্নয়নকাজের টেন্ডারের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রশাসক ও পৌর ঠিকাদার বলছেন এমন প্রাক্কলন অস্বাভাবিক।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আওতায় ছয়টি প্যাকেজে এসব কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। দরপত্র বিক্রির শেষ তারিখ আগামীকাল সোমবার (৬ এপ্রিল)। দরপত্রের তথ্য অনুযায়ী, ৪ নম্বর ওয়ার্ডে পৌরসভা ক্যাম্পাসে ইউনিব্লক সড়ক ও প্ল্যাটফর্ম নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৪০ হাজার ১৫২ টাকা। পৌরসভা ভবনের কনফারেন্স ও অফিস কক্ষের অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্যবর্ধনে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৩ লাখ ৩৬ হাজার ৭৮৮ টাকা। এছাড়া ভবনের ছাদে টাইলস বসাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১১ লাখ ৪৯ হাজার ১২১ টাকা। এ তিনটি কাজ মিলিয়ে পৌর ভবনকেন্দ্রিক ব্যয় দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৬৩ লাখ টাকা। এ ছাড়া ৫ নম্বর ওয়ার্ডে সাহেবগঞ্জ বেড়িবাঁধ সড়কের পাশে ১০টি বেঞ্চ স্থাপনে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ লাখ ১৭ হাজার ২২৭ টাকা, এ হিসাবে প্রতিটি বেঞ্চে ব্যয় প্রায় ৪১ হাজার ৭২৩ টাকা। অন্যদিকে, পৌরসভার ১ থেকে ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ৫০টি সড়ক বাতি স্থাপনে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫ লাখ ৮৯ হাজার ৫৭৬ টাকা, অর্থাৎ প্রতি বাতিতে ব্যয় প্রায় ৫১ হাজার ৭৯২ টাকা। বাকেরগঞ্জ সরকারি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অভিভাবকদের জন্য অপেক্ষাকক্ষ নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৭৪ হাজার ৮০৩ টাকা।
সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা আলিম জোমাদ্দার বলেন, পৌর ভবনের জন্য নেওয়া তিনটি কাজই অপ্রয়োজনীয়। ভবনের রাস্তা ভালো আছে, ছাদে টাইলস দেওয়ার প্রয়োজন নেই। মাত্র ৩০০ বর্গফুটের দুটি কক্ষ সাজাতে ৪৩ লাখ টাকা ব্যয় ধরা অস্বাভাবিক।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মচারী বলেন, প্রশাসক (ইউএনও) ও প্রকৌশলীর বদলির প্রেক্ষাপটে এটি তাদের শেষ দিকের কাজ হওয়ায় তারা এমনটা করেছেন। না হলে এত ব্যয় কেন? শুধু পৌরসভায় এত বরাদ্দ আগে কখনও দেখিনি।
পৌর বিএনপির ৪ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি জামাল হোসেন বিপ্লব বলেন, পৌর ভবনে এসি ছাড়া তেমন কাজের প্রয়োজন নেই। সেখানে ৬৩ লাখ টাকা বরাদ্দ অস্বাভাবিক। বিষয়টি তদন্ত হওয়া উচিত।
পৌর ঠিকাদার জাকির হোসেন বলেন, দরপত্রের বরাদ্দ ও কাজের মধ্যে সামঞ্জস্য নেই। ১ হাজার ৫০০ বর্গফুট ছাদে টাইলস বসাতে সর্বোচ্চ ৪ লাখ টাকা লাগতে পারে, সেখানে সাড়ে ১১ লাখ টাকা ধরা হয়েছে। দুটি কক্ষ সাজাতে ৪৩ লাখ টাকাও অযৌক্তিক। শিক্ষক-অভিভাবক ঐক্য পরিষদের সভাপতি ফজলুর রহমান বলেন, এখনই এসব বন্ধ না হলে লুটপাট আরও বেড়ে যাবে।
পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জসিম উদ্দীন বলেন, প্রাক্কলন অনুযায়ী এবং বাজারদর বিবেচনা করেই ব্যয় নির্ধারণ করার কথা। এরপরও যিনি প্রাক্কলন তৈরি করেছেন তিনি ভালো বলতে পারবেন। প্রাক্কলন না দেখে কিছু বলতে পারব না।
ইউএনও ও বাকেরগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক রোমানা আফরোজ বলেন, ‘বিষয়টি আমার কাছেও অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। আমি বলেছি যাতে অস্বাভাবিক কিছু না হয়। আর বিষয়টি আমার দেখার কথা নয়। কাজের বরাদ্দের বিষয়টি দেখেন নির্বাহী প্রকৌশলী। এ বিষয়ে তিনি বলতে পারবেন। অস্বাভাবিক হলে আমার কিছু করার নেই।’
- বিষয় :
- টেন্ডার
