উদ্ভাবন
‘জিএইউ ধান-৪’ চাষের সময় কম, ফলনে চমক
গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উদ্ভাবন স্বল্পমেয়াদি ও উচ্চফলনশীল চিকন ধান ‘জিএইউ ধান-৪’ সমকাল
গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:৩১ | আপডেট: ০৫ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:৩২
| প্রিন্ট সংস্করণ
গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গাকৃবি) একদল গবেষক স্বল্পমেয়াদি, উচ্চফলনশীল এবং চিকন আউশ ধানের নতুন জাত উদ্ভাবন করেছেন। কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. এম. ময়নুল হক ও অধ্যাপক ড. মো. মসিউল ইসলামের নেতৃত্বে উদ্ভাবিত জাতটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘জিএইউ ধান-৪’। এক দশকের বেশি সময় গবেষণার পর সম্প্রতি জাতটি অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় বীজ বোর্ড।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি বোর্ডের ১১৫তম সভায় এ জাতের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট উদ্ভাবিত ধানের জাতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চারে।
গবেষক অধ্যাপক ড. এম. ময়নুল হক বলেন, জলবায়ু, পানি সংকট এবং স্বল্প উৎপাদনশীল জাতের কারণে আউশ মৌসুম অনেক ক্ষেত্রেই পিছিয়ে থাকে। তবে ‘জিএইউ ধান ৪’ এই বাস্তবতায় একটি কার্যকর বিকল্প হিসেবে সামনে এসেছে। এই জাত দ্রুত পরিপক্ব হয়, ফলে কৃষক অল্প সময়ের মধ্যেই জমি খালি করে পরবর্তী ফসল আবাদ করতে পারেন। ফলে একই জমিতে বছরে তিন থেকে চারটি ফসল উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত ও কৃষকের আয় বাড়াতে সহায়ক ভূমিকাও রাখে।

তিনি বলেন, বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চলের মঙ্গাপীড়িত এলাকায় এই জাতটি নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে। কারণ, স্বল্প সময়ের মধ্যে ফসল ঘরে তোলার সুবিধা কৃষকদের আর্থিক চাপ কমাতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি কম পানির প্রয়োজন হওয়ায় এটি খরাপ্রবণ এলাকাতেও চাষের জন্য উপযোগী।
আরেক গবেষক অধ্যাপক ড. মো. মসিউল ইসলাম সমকালকে বলেন, এই জাত উদ্ভাবনের পেছনে রয়েছে সুপরিকল্পিত বৈজ্ঞানিক গবেষণা। দেশে চিকন চালের চাহিদা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় গবেষকরা প্রচলিত আউশ জাত ‘পারিজা’ এবং উচ্চ ফলনশীল চিকন জাত ‘বিইউ ধান-২’-এর সংকরায়ন করেন। ১০ বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা মাঠে নিবিড় পরীক্ষা চালানো হয়। এরপর ২০২২ সালের আউশ মৌসুমে বিভিন্ন অঞ্চলের পরিবেশ, পরিস্থিতি ও অবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পরীক্ষা চলে। ২০২৩ সালে উপযোগিতা যাচাই এবং ২০২৪ সালে বাংলাদেশ বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির তত্ত্বাবধানে দেশের ১০টি অঞ্চলে মাঠ পর্যায়ে মূল্যায়নের মাধ্যমে এর কার্যকারিতা নিশ্চিত করা হয়।
গবেষকরা বলছেন, পুষ্টিগুণের দিক থেকেও এই ধান বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এতে প্রায় ২৪.৫৮ শতাংশ অ্যামাইলেজ এনজাইম রয়েছে, যা শর্করা ভাঙতে সহায়তা করে এবং শরীরে দ্রুত শক্তি জোগায়। একই সঙ্গে প্রায় ৮.৩৮ শতাংশ প্রোটিন মানবদেহের গঠন, কোষ মেরামতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বীজ বপনের ৩ মাস থেকে ৩ মাস ১০ দিনের মধ্যেই ফসল সংগ্রহ করা যায়। অনুকূল পরিবেশে হেক্টরপ্রতি ৫ থেকে সাড়ে ৫ টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া সম্ভব। প্রতি হেক্টরে ২৫-৩০ কেজি বীজ প্রয়োজন হওয়ায় উৎপাদন খরচও তুলনামূলক কম থাকে। এ জাতের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো এর রোগবালাই প্রতিরোধ ক্ষমতা।
