ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল

১০ শয্যার বিপরীতে ভর্তি ১৪০ শিশু, চিকিৎসা চলছে করিডোর-মেঝেতে

১০ শয্যার বিপরীতে ভর্তি ১৪০ শিশু, চিকিৎসা চলছে করিডোর-মেঝেতে
×

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। ছবি: সমকাল

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২৬ | ১৮:১৬

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে তীব্র শয্যা সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। মাত্র ১০টি বেডের বিপরীতে বর্তমানে ১৪০ জন শিশু ভর্তি রয়েছে। এতে বাধ্য হয়ে মেঝে, করিডোর এমনকি সিঁড়ির পাশেও চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। 

সরেজমিনে দেখা যায়, শিশু ওয়ার্ডে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। মেঝেতে, করিডোরে বা সিঁড়ির পাশে বসিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে শিশুদের। এতে একদিকে যেমন বাড়ছে দুর্ভোগ, অন্যদিকে তৈরি হচ্ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি।

দুই বছরের শিশু আবরারকে নিয়ে মেঝেতে বসে আছেন মা জান্নাতুল ফেরদৌস। তিনি সমকালকে বলেন, সকাল থেকে বাচ্চাটাকে নিয়ে বসে আছি, বেড পাইনি। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে, বারবার নেবুলাইজার দিতে হচ্ছে। কষ্ট হলেও থাকার কোনো বিকল্প নেই।

নশাসন এলাকা থেকে আসা তিন বছরের শিশু তৌফিক নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। তার বাবা আল ইমরান বলেন, বাচ্চাটাকে বাথরুমের পাশের মেঝেতে শুইয়ে চার দিন ধরে চিকিৎসা নিচ্ছি। পরিবেশ খুবই খারাপ, কিন্তু কিছু করার নেই।

একই চিত্র সদর উপজেলার ডোমসার গ্রাম থেকে জর ও ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা নিয়ে আসা ৫ বছরের শিশু সাফওয়ানের বাবা আরিফ হোসেন বলেন, গতকাল আমার সন্তানকে নিয়ে হাসপাতালে আসি। ডাক্তার দেখে ভর্তি করার পরামর্শ দিলে ওয়ার্ডে এসে দেখি জায়গা নেই। এক বেডে দুইজন এমনকি ফ্লোরেও কোন জায়গা ছিল না। পরে আমরা ওয়ার্ডের বাইরে সিঁড়ির পাশে মেঝেতে থেকেই বাবুর চিকিৎসা নিচ্ছি। গরম ও মশার কারণে ভোগান্তি আমাদের আরো বেড়ে আছে। কষ্ট হলেও বাচ্চা সুস্থ না পর্যন্ত থাকতে হবে। 

হাসপাতাল  কর্তৃপক্ষ জানায়, ১০০ শয্যার এই হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে বেড রয়েছে মাত্র ১০টি। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছে ২৯ জন শিশু। এছাড়া প্রতিদিন বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছে ২০০ জনেরও বেশি শিশু।

শিশু ওয়ার্ডের নার্সিং ইনচার্জ খাদিজা আক্তার বলেন, নিউমোনিয়া, জ্বর ও ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। জনবল সংকটের কারণে রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু) ডা. মিজানুর রহমান বলেন, মৌসুম পরিবর্তনের কারণে শিশুদের মধ্যে ঠান্ডা, জ্বর, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও চিকিৎসা সেবা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. রেহান উদ্দিন আহমেদ বলেন, চিকিৎসক, নার্স ও শয্যা সংকট দীর্ঘদিনের সমস্যা। রোগীর চাপ বাড়লে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। তবুও সীমিত সম্পদ দিয়ে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

আরও পড়ুন

×