জ্বালানি সংকট : শ্যালো ইঞ্জিনের নৌকা চলছে দড়ি টেনে
দড়ি টেনে পারাপার হচ্ছে শ্যালো ইঞ্জিনের নৌকা। ছবি : সমকাল
উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২৬ | ২০:৫৮
উল্লাপাড়ার করতোয়া নদীর বেতবাড়ী-পূর্ব সাতবাড়ীয়া খেয়াঘাটে বহু বছর ধরে চলছিল শ্যালো ইঞ্জিনচালিত নৌকা। ভোর ৫টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত হাজারো মানুষ অপ্রশস্ত নদী পার হতেন এসব নৌকায়। কিন্তু চাহিদামতো জ্বালানি তেল না পেয়ে এখন চালু করা যাচ্ছে না শ্যালো ইঞ্জিন। বাধ্য হয়ে দু’পাড়ে দড়ি বেঁধে হাতে টেনে নৌকা এপার-ওপার করছেন মাঝিরা।
দিনের প্রায় ১৮ ঘণ্টা খেয়াঘাটে নৌকা চালাতে যে পরিমাণ ডিজেল দরকার এখন দিনে তার অর্ধেকও মিলছে না বলে জানান ঘাটের মাঝিরা। এই ঘাটের মাঝি আব্দুল লতিফ, শহিদুল ইসলাম ও শাহাদত হোসেন জানান, উল্লাপাড়া উপজেলার পূর্বাঞ্চলের অন্তত ২০ হাজার লোক বেতবাড়ী-পূর্ব সাতবাড়ীয়া খেয়াঘাট পার হয়ে উপজেলা সদরে যাতায়াত করে থাকেন। প্রতিদিন তাদের নৌকায় পারাপার হতে হয়। সহজ ও দ্রুত পারাপারের জন্য নৌকায় শ্যালো ইঞ্জিন লাগিয়ে নিয়েছিলেন মাঝিরা। প্রতিদিন নৌকা চালাতে তাদের তেলের প্রয়োজন হয় অন্তত ৩ লিটার।
মাঝিরা জানান, ইরান যুদ্ধ হওয়ার শুরু হওয়ার পর থেকে তেল সংকটে ভুগছেন তারা। প্রয়োজনমাফিক ডিজেল পাচ্ছেন না। তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অফিসে আবেদন করার পর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ের মাধ্যমে তাদের ঘাটের নৌকার জন্য প্রতিদিন এক লিটার করে তেল পাচ্ছেন। এতে অর্ধেক দিনও নৌকা চালানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে নিরূপায় হয়ে নৌকা চালু রাখতে এক সপ্তাহ ধরে তারা নদীর দুই পাড়ে বাঁশের খুঁটি পুঁতে তাতে এপার-ওপার দড়ি বেঁধে হাতে টেনে নৌকা পার করছেন। কয়েকজন মাঝি জানান, হাতে দড়ি টেনে দীর্ঘ সময় নৌকা চালানো খুবই কষ্টকর। এরপরও তাদের সেই কাজই করতে হচ্ছে। মাঝিরা তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী তেল প্রদানের দাবি জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা মামুন হোসেন ও সাকিব হোসেন জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে বেতবাড়ী-পূর্ব সাতবাড়ীয়া খেয়াঘাটে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত নৌকায় পারাপার হয়ে আসছেন। কিন্তু বর্তমানে মধ্যেপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে দেশে তেল সংকট দেখা দেওয়ায় এই ঘাটের মাঝিরা তাদের নৌকার শ্যালো মেশিনের জন্য চাহিদামতো ডিজেল পাচ্ছেন না। দিন-রাত হাত দিয়ে দড়ি টেনে তাদের নৌকা চালাতে হচ্ছে। এটা যেমন কষ্টকর তেমনি অমানবিক। এতে নদী পারাপারে সময়ও বেশি লাগছে।
এ ব্যাপারে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এটিএম আরিফ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের ওপর আমাদের দেশেও প্রভাব পড়েছে। এ কারণে এখন তেল রেশনিং করা হচ্ছে। বেতবাড়ী-পূর্ব সাতবাড়ীয়া ঘাট দিয়ে প্রচুর লোকজন যাতায়াত করেন বলে জেনেছেন তিনি। ইউএনও বলেন, আপাতত ঘাট মাঝিদের কষ্ট হচ্ছে। আমরা তাদের কষ্ট লাঘব করতে সাধ্যমতো সব ধরনের চেষ্টা করছি।
