ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

হাতের টানে উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং

হাতের টানে উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং
×

নেত্রকোনার দুর্গাপুর সদর ইউনিয়নে সড়কের কার্পেটিং তুলে দেখাচ্ছেন এলাকাবাসী। ছবি: সমকাল

নেত্রকোনা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৬ | ১৮:৫১

এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নেত্রকোনার দুর্গাপুর সদর ইউনিয়নের চারিয়া মাসকান্দা থেকে মাকড়াইল বাজার পর্যন্ত নির্মিত হচ্ছে সড়ক। তবে সড়কের কার্পেটিং কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। হাতের টানে উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং।

দুর্গাপুর উপজেলায় সম্প্রতি সড়কের নির্মাণ কাজ শুরু হলে খুশি হন এলাকাবাসী। তবে কাজ শেষ হতে না হতেই দেখা দিয়েছে বিপর্যয়। সড়কের পিচ উঠে যাচ্ছে। এতে এলাকাবাসীর মাঝে হতাশা বিরাজ করছে। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ কোটি ৩৮ লাখ ৫ হাজার টাকা ব্যয়ে সড়কটির নির্মাণকাজ পায় মেসার্স তাজ উদ্দিন ফরাস নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। যার কাজের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা চলতি বছরের আগস্ট মাসে। ইতোমধ্যে চলমান কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম বলেন, এই রাস্তা দিয়ে স্কুল-কলেজ, হাট-বাজার, মসজিদ-মাদ্রাসায় যাতায়াত করতে হয়। দীর্ঘদিন অবহেলিত ছিলেন তারা। কাজ শুরু হওয়ায় খুশি হয়েছিলেন। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে নিম্নমানের কাজ হয়েছে। মাত্র ছয়-সাত দিন হলো পিচ ঢালাই করা হয়েছে, এখনই হাতের টানে পিচ উঠে যাচ্ছে।

তাজ্জত আলী নামে একজন বলেন, ‘এক ধরনের তেল আছে, সেটা (বিটুমিন) সড়কে না দিয়ে ঢালাই দিয়েছে। আমি এমন অনিয়ম দেখে প্রতিবাদ করেছিলাম, কিন্তু ঠিকাদারের লোকজন তা শুনেননি। উল্টো হুমকি-ধমকি দিয়েছেন।’

চারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জহিরুল হক জানান, এই রাস্তা দিয়ে অনেক কষ্ট করে চলাচল করতে হয়েছে তাদের। যে অবস্থায় রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে, তাতে অল্প দিনের মধ্যেই নষ্ট হয়ে যাবে সড়কটি। সরকার কোটি টাকা ব্যয় করছে, অথচ কাজের মান যদি এমন হয় তবে তা শুধুই টাকার অপচয়।

অভিযোগের ব্যাপারে ঠিকাদার তাজউদ্দিন ফারাস সেন্টুর ভাষ্য, একদিন মাত্র সড়কের কার্পেটিং করা হয়েছে। এর মধ্যেই মেশিন নষ্ট হওয়ায় কার্পেটিং বন্ধ রয়েছে। তার অভিযোগ, কাজে নিয়জিত লোকজনের কাছে স্থানীয় একজন টাকা দাবি করেছে। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় কার্পেটিং টেনে তুলে অপপ্রচার চালাচ্ছে। 

এলজিইডির দুর্গাপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান জানান, কার্পেটিং শুরুর পর সমস্যা দেখে আপাতত কাজ বন্ধ রাখার জন্য বলা হয়েছে। যা যা প্রয়োজনীয় তা দিয়ে সুন্দরভাবে কাজ সম্পন্ন করতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে বলা হয়েছে।

দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজা আফসানা বলেন, রাস্তার কাজে অনিয়মের বিষয়টি জানতে পেরে প্রকৌশলীকে দেখার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজরদারি থাকবে। কোনোভাবেই অনিয়ম করার সুযোগ দেওয়া হবে না।

আরও পড়ুন

×