খুলনার বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালে হট্টগোল
কমিটি বিলুপ্ত করে নিজেকে চেয়ারম্যান ঘোষণা এমপির
ছবি: সমকাল
খুলনা ব্যুরো
প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ | ২১:৫৫
খুলনার বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে ট্রাস্টি বোর্ডের কমিটি বিলুপ্ত করেছেন খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলী আসগার। এ সময় তাঁর সঙ্গে আসা বিএনপির কিছু নেতা ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং বিএনপি সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি ডা. রফিকুল হক বাবলুকে হেনস্তা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, সংসদ সদস্যের সঙ্গে থাকা বিএনপি নেতারা ডা. বাবলুকে পদত্যাগের জন্য চাপ দেন এবং তাঁকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ আখ্যা দেন। কয়েকজন তাঁর দিকে কয়েক দফা তেড়ে যান। পরে আলী আসগার কমিটি ভেঙে দিয়ে নিজেকে চেয়ারম্যান ঘোষণা করেন এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন কমিটি তৈরি হবে বলে জানান। আজ সোমবার দুপুর ১২টার দিকে নগরীর শিরোমনিতে অবস্থিত বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।
বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল একটি অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান। ১৯৭৬ সাল থেকে উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে চোখের আলো ফেরাতে কাজ করছে হাসপাতালটি। এ হাসপাতাল পরিচালিত হয় ট্রাস্টি বোর্ডের মাধ্যমে। একসময় দেশের প্রখ্যাত চিকিৎসকরা ট্রাস্টি বোর্ডে থাকতেন। পরে এটি দলীয়করণের মুখে পড়ে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের আগে ২০১৯ সালে হাসপাতালের সর্বশেষ ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করা হয়। তখন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আবদুল খালেক। অভ্যুত্থানের পর তাদের অনেকেই আত্মগোপনে চলে যান।
২০২৪ সালের ২৪ অক্টোবর নতুন ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করা হয়। এর চেয়ারম্যান করা হয় বিএনপি সমর্থিত চিকিৎসক নেতা ডা. বাবলুকে। ভাইস চেয়ারম্যান হন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মাইনুল ইসলাম। ১১ সদস্যের বোর্ডের সাতজন বিএনপি সমর্থিত, দুজন জামায়াত, একজন ছাত্র প্রতিনিধি এবং একজন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি ছিলেন। এ বোর্ডের মেয়াদ ছিল ২০৩০ সাল পর্যন্ত।
ডা. রফিকুল হক বাবলু বলেন, ‘সোমবার এমপির হাসপাতাল পরিদর্শনে আসার কথা ছিল। সেভাবে আমরা ফুল নিয়ে তৈরি ছিলাম। তিনি আমার কক্ষে এসে বসার কিছু সময় পরই তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা আমাকে উদ্দেশ করে নানা অভিযোগ করতে থাকেন। এ পর্যায়ে মব তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এমপি কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। আমিও সিদ্ধান্ত মেনে তাঁকে সব দায়িত্ব দিয়েছি। এখন তিনিই পরবর্তী কমিটি গঠন করবেন।’
হাসপাতালের ট্রাস্টি বোর্ডের পরিচালক ও জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি এস এ রহমান বাবুল বলেন, ‘সব স্বাভাবিকই ছিল। হঠাৎ সবাই উত্তেজিত হয়ে পরিবেশ পাল্টে দিল। এরপর কমিটি ভেঙে যায়।’ এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘ট্রাস্টি বোর্ডের মেয়াদ ছয় বছর। মুখের কথায় এভাবে কমিটি ভাঙা যায় কিনা, তা এমপিই ভালো বলতে পারবেন।’
জানতে চাইলে এমপি আলী আসগার বলেন, ‘হাসপাতাল সম্পর্কে অনেকেই নানা অনিয়মের অভিযোগ করছিলেন। ভুক্তভোগী কয়েকজন সেখানে উপস্থিত ছিলেন। অনিয়ম নিয়ে নেতারা ক্ষুব্ধ ছিলেন। তাৎক্ষণিক পরিবেশ শান্ত করতে কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। এখন এলাকার মানুষ, চিকিৎসকসহ অভিজ্ঞদের নিয়ে নতুন বোর্ড গঠন হবে। সবাই মিলে হাসপাতাল পরিচালনা করা হবে।’
