ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

কোলজুড়ে ফুটফুটে শিশু, ক্লিনিকে আনন্দের বন্যা 

কোলজুড়ে ফুটফুটে শিশু, ক্লিনিকে আনন্দের বন্যা 
×

নবজাতক কোলে নিয়ে হাসি থামছেই না বাবা সাব্বির আহাম্মদ ও নানি মুক্তি খাতুনের। মঙ্গলবার সকালে মেহেরপুরের মায়ের হাসি ক্লিনিকে। ছবি: সমকাল

ফারুক হোসেন, মেহেরপুর

প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ | ১৫:৫১ | আপডেট: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ | ১৬:৫১

রাজকন্যা ভূমিষ্ঠ হবার পর গোলাপি তোয়ালে গায়ে জড়িয়ে বাবা সাব্বির আহাম্মেদের কোলে তুলে দেন নার্স শশি। মুহূর্তেই মেহেরপুর পৌর শহরের প্রধান সড়কের পাশে মায়ের হাসি ক্লিনিকে হাসি ফুটে উঠল সাব্বির আহাম্মেদ ও ঐশি খাতুন দম্পতির মুখে। তাদের কোলজুড়ে ফুটফুটে একটি মুখ।

বাংলা নববর্ষে সকাল সোয়া ৮টায় প্রথম সন্তানের জন্ম হলো এই দম্পতির। শিশু ভূমিষ্ঠ হবার পর পরই মিষ্টি নিয়ে দৌড়ে এলেন ক্লিনিকের চেয়ারম্যান সাবেক পৌর মেয়র মোতাচ্ছিম বিল্লাহ মতু। পহেলা বৈশাখে ক্লিনিকে প্রথম সন্তান জন্ম হওয়ায় সবার জন্য ছিল মিষ্টি ও ফুলেল শুভেচ্ছা। বাঙালি জাতির ঐতিহ্য ও স্মরণীয় দিন হওয়ায় এদিন জন্ম নেওয়া সব শিশুর জন্যই এখানে একই ব্যবস্থা। ক্লিনিক মুহূর্তেই পরিণত হয় উৎসবে।

সাব্বির ও ঐশির বাড়ি মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর উপজেলার বল্লভপুর গ্রামে। যা মেহেরপুরে শহর থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দক্ষিণে। দম্পত্তির সাড়ে তিন বছর আগে বিয়ে হয়েছে। পহেলা বৈশাখে তাদের রাজকন্যা জন্ম নেওয়ায় ভালাবাসা আরও বেড়ে গেল বলে জানান বাবা সাব্বির আহাম্মেদ।  

তিনি বলেন, আমরা বাঙালি। বাঙালি জাতীয় জীবনে বাংলা নববর্ষ খুবই গর্বের ও অহংকারের। পহেলা বৈশাখে আমাদের রাজকন্যা ভূমিষ্ঠ হয়েছে। এতে আমার স্ত্রী ঐশি, আমি ও আমাদের পরিবারের লোকজন সবাই খুব খুশি।       

শিশুটির মা ঐশি বলেন, ‘জন্মের পরপরই মেয়ের বাবা, খালা, নানা-নানিসহ পরিবারের মানুষের খুশিতে ভরে যায় ক্লিনিক প্রাঙ্গণ। গোলাপি তোয়ালে জড়ানো মেয়েকে রাঙাতে দ্রুতই বাজার থেকে একটি গোলাপি রংয়ের জামা কিনে এনে গায়ে পরিয়ে দেন সন্তানের বাবা। তখন আমার মেয়েকে দেখে পরীর মতো মনে হচ্ছিল।  ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ, নার্স, চিকিৎসকসহ সবার আন্তরিক সহযোগিতা আমাদের মুগ্ধ করেছে।    

ঐশি জানান, সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরপরই হাসপাতালের মাইকে আজান দেওয়া হয়েছে। তিনি শুনতে পাচ্ছিলেন। তিনি পরে জেনেছেন সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরপরই বারান্দায় অপেক্ষারত সন্তানের বাবা, খালা, নানা-নানি  পরস্পরের সঙ্গে নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন।  

ঐশি বলেন, ‘আমি যেখানে সন্তান জন্ম দিয়েছি, সেখান থেকে অল্প দূরেই শহরের শহীদ সামসুজ্জোহা পার্ক। সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগেই ওই পার্কে পহেলা বৈশাখের আনুষ্ঠানিকতা চলছিল। সেই অনুষ্ঠান থেকে ভেসে আসছিল নববর্ষের গান।‘   

শিশুটির নানি মুক্তি খাতুন বলেন, মেয়ের স্বাস্থ্য ঝুকির কথা বিবেচনায় ও জামাই মেয়ের ইচ্ছে অনুযায়ী আজ আমার নাতনির জন্ম হলো। দুজনেই সুস্থ আছে। নাতনির নাম রাখা হয়েছে আরিশা আহাম্মেদ। 

মেহেরপুর ম্যাটার্নিটি হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ও সার্জন রুমানা হেলালী জুসি বলেন, হাসপাতাল থেকে সন্তানের মাকে পহেলা বৈশাখের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময় শিশুটির ওজন ছিল তিন কেজি। মা ও মেয়ে দু’জনই সুস্থ আছে।

আরও পড়ুন

×